জরুরী অবস্থার মধ্যেই টোকিও অলিম্পিক ২০২০

রাহমান মনি/প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে: জরুরী অবস্থা চলাকালীন টোকিও অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিক আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন জাপানের প্রধান মন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা।

আজ বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা তার কার্যালয়ে ডাকা এক সংবাদ সম্মেলনে আসন্ন টোকিও অলিম্পিক এর উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানের দুই সপ্তাহ আগে টোকিও মেট্রোপলিটান এলাকা এবং ওকিনাওয়া প্রদেশে আগামী ২২ আগস্ট পর্যন্ত জরুরী অবস্থা জারীর ঘোষণা দেন ।

রাজধানীর প্রতিবেশী তিনটি প্রদেশে চলমান বিশেষ সতর্কতার নজরদারী একই সময়ের জন্য বাড়ানো হয়। প্রদেশ তিনটি হচ্ছে সাইতামা ,চিবা এবং কানাগাওয়া । এর সাথে যোগ করা হয়ে ওসাকাকে । এসব এলাকায় ১১ জুলাই পর্যন্ত বিশেষ সতর্কতা জারী করা হয়েছিল। অন্য পাঁচটি প্রদেশ হোক্কাইডো, আইচি, কিওতো, হিয়োগো এবং ফুকুওকা তে পূর্ব নির্ধারিত সূচী অনুযায়ী ১১ জুলাই বিশেষ সতর্কতার নজরদারীর মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী ৩ জুলাই প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে শিজুওকাতে ভূমিধ্বসে ৯ জনের প্রাণহানীতে গভীর শোক প্রকাশ করেন। একই ঘটনায় এখনো ২০ জন নিখোঁজ রয়েছে, যাদের উদ্ধার এবং পুনর্গঠনে স্থানীয় প্রশাসন , জাপান পুলিশ , এসডিএফ এবং ফায়ার বিগ্রেডের মোট ২,০০০ সদস্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন বলে সুগা উল্লেখ করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্থদের প্রতি সমবেদনা জানান।

সুগা বলেন, ইতোমধ্যে প্রবীণদের দুই ডোজ টিকা প্রদান ৭০.৮% সম্পন্ন হয়েছে। ৮০% প্রথম ডোজ নিয়েছেন। সাধারনদের জন্য টিকা প্রদান শুরু হয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে সকলকে দুই ডোজ করে টিকা প্রদান সম্পন্ন করা হবে। আজ পর্যন্ত মোট ৫ কোটি ৪৮ লাখ ৫০ হাজার ডোজ প্রদান সম্পন্ন হয়েছে। জুলাই , আগস্ট এবং সেপ্টেম্বর এই তিন মাসে প্রতি মাসে ২ কোটি ৫০ লাখ ডোজ করে টিকা প্রদান করা হবে। তিনি বলেন, ফাইজারের ৯ কোটি এবং মরডারনারের ১ কোটি ৪০ লাখ ডোজ এই মুহূর্তে মজুত রয়েছে। তিনি সকলকে ভ্যক্সিন নিতে আহবান জানান।

সুগা বলেন, আমি জানি মহামারির এই সময়ে অলিম্পিক এর মতো আসর আয়োজন অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে। আমরা দেখিয়ে দিব এইটা জাপান। জাপান পারে এমন একটি ম্যাসেজ আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রেখে যেতে চাই । তারা যেন দুর্যোগ মোকাবেলায় দিপ্ত শপথ নিতে পারে। জি-৭ এর সামিট এ আমি একই কথা বলেছি।

তিনি বলেন ১৯৬৪ সালে প্রথমবারের মতো অলিম্পিক আয়োজনেও টোকিও অনেক বাধা পেড়িয়ে সফল আয়োজন করে বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল। এবারও আমরা সকলকে দেখিয়ে দিব যে , জাপান পারে। তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

সুগা বলেন, অলিম্পিকে অংশ নেয়া প্রতিযোগী, কর্মকর্তা , প্রশিক্ষক মিডিয়া কর্মীদের জাপানের সাধারণ জনগন থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাই , অলিম্পিক সংক্রান্ত সংক্রমণ নিয়ে সাধারন জনগনের করোনার ভীতি নেই বললেই চলে।

প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা জনগণের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘জনগণের সহযোগিতায় করোনা অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না এলেও আসন্ন গ্রীষ্মকালীন টোকিও অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিক ২০২০ সফল আয়োজনের জন্য জনগনের সহযোগিতা কামনা করেন সুগা।

সুগা বলেন আগামী মাসে জাপানে বিশেষ লম্বা ছুটি সহ গ্রীষ্মকালীন ছুটি শুরু হবে, আমি আশা করবো এইসময় আপনারা অপ্রয়োজনে ঘরের বের না হয়ে ঘরে বসে ছুটি উপভোগ করে নিজে সুস্থ্য থেকে অপরকে সুস্থ্য থাকতে সহযোগিতা করবেন। একই সাথে সকলকে মাক্স ব্যবহার সহ পূর্ণ স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার পরামর্শ দেন সুগা।

সাইতামা, চিবা , ওসাকা এবং কানাগাওয়া প্রিফেকচারগুলোতে স্থানীয় প্রশাসন নিজ নিজ এলাকার সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন বলে সুগা জানান।

জরুরি অবস্থা কিংবা আংশিক জরুরি অবস্থায় থাকা জেলাগুলোতে বড় ধরনের অনুষ্ঠানে দর্শক ধারণে সামর্থ্য গ্যালারিগুলোতে আগস্ট মাসের শেষ সময় পর্যন্ত ৫ হাজারে বজায় রাখার জন্য অনুরোধ জানানো হয়। এমনকি নিয়ন্ত্রণ তুলে নেওয়ার পরও দর্শক সংখ্যা ১০ হাজারে সীমিত রাখার জন্য আহবান জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।

একইসঙ্গে পানশালা, রেস্তোরাঁ এবং কারাওকেগুলোকে সন্ধ্যা ৮টার মধ্যে বন্ধ এবং ৭টার মধ্যে অ্যালকোহল অর্ডার শেষ করে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। এই ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনগুলোকে আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন সুগা।

২৭ জুন রোববার জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রী নিশিমুরা ইয়াসুতোশি টোকিওতে পুনরায় জরুরী অবস্থা ঘোষণার পূর্বাভাষ দিয়ে বলেছিলেন, যদি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ে তাহলে সরকার টোকিও’র জন্য নতুন করে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারে।

এর আগে ১৭ জুন বৃহস্পতিবার বিশেষজ্ঞ প্যানেলের প্রধান প্রফেসর শিগেরু ওমি সরকার কে জরুরী অবস্থা প্রত্যাহার কালে তিনটি শর্ত মেনে চলার পরামর্শ দেন ।

শর্ত ৩টি হচ্ছে, প্রথমত সংক্রমণ ফিরে আসা বন্ধ করার জন্য টিকাদান এগিয়ে নেয়া এবং ভাইরাস পরীক্ষা জোরদার করা সহ সব কয়টি ধাপ বাস্তবায়িত করার অর্জনে পর্যাপ্ত সরকারি তহবিল নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, সংক্রমণ আবারও বৃদ্ধি পাওয়ার চিহ্ন দেখা গেলে সরকারের অবশ্যই উচিত হবে দ্বিধামুক্ত হয়ে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ এবং তৃতীয় শর্ত হচ্ছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পরিকল্পনা সরকার কীভাবে করছে এবং কোন পদক্ষেপগুলো আবশ্যকীয় বিবেচনা করছে, সরকারের উচিত হবে পরবর্তী কয়েক মাসের জন্য এসব বিষয়ে বিস্তৃত একটি রূপকল্প ঠিক করে নেয়া।

জাপানে এপর্যন্ত মোট ৮ লাখ ১২ হাজার ৫৫৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়। এরমধ্যে টোকিওতে ১ লাখ ৭৮ হাজার ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.