টেন্ডার ছাড়াই ভাঙা হলো মুন্সীগঞ্জ হাসপাতালের পুরনো ভবন

নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে দরপত্র ছাড়াই ভাঙা হচ্ছে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের একটি পুরনো ভবন। চুরি করে বিক্রি করা হচ্ছে ভাঙা ভবনের মালামাল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছেন, যে জায়গার ভবন ভাঙা হচ্ছে সেখানে অক্সিজেন ও মালামাল রাখার কক্ষ বানানো হবে।

ভবন ভাঙার অনুমতি, দরপত্র কোনোটিই নেয়নি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ঠিকাদার বলছেন, দরপত্র নেই, তবে সিভিল সার্জনের অনুমতি নিয়েছেন তারা। তবে সিভিল সার্জন জানালেন, তার কাছ থেকে কোনো অনুমতি নেয়া হয়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকজন পুরনো ভবনটি ভাঙছেন। ভাঙা মালামাল সরিয়ে হাসপাতালের নতুন ভবনের সামনে স্তূপ করা হচ্ছে। সেখান থেকে ভ্যানগাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন কয়েকজন শ্রমিক। শ্রমিকরা জানায়, হাসপাতালের আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগ প্রাপ্ত চতুর্থ শ্রেণীর কর্মী খলিল তাদের ভবন ভাঙার কাজ দিয়েছেন এর বেশি কিছু তারা জানেন না। তবে সরকারি একটি ভবন কোনোরকম দরপত্র ছাড়াই, কিভাবে ভাঙা যায়? ভাঙা মালামাল কিভাবে বিক্রি হচ্ছে? টাকা কোথায় যাচ্ছে? এমন প্রশ্ন সবার মনে।

পুরনো ভবন ভাঙার বিষয়ে হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী খলিলুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, যে কোম্পানি এ কাজ করছে তারা ভালো বলতে পারবে। আমি শুধু টাকার বিনিময়ে শ্রমিকের জোগান দিয়েছি। মালামাল বিক্রি করিনি। মালামাল বিক্রির টাকা কোথায় যাবে সেটাও জানি না।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইন্সিপেক্টার নতুন ভবন নির্মাণের পরিচালক আজাহার উদ্দিন বলেন, ভবন ভাঙার আগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি নেয়া হয়েছে। আমাদের কাছে অনুমতির প্রমাণ আছে। তবে কোনো দরপত্র করা হয়নি।

মুন্সীগঞ্জ সিভিল সার্জন আবুল কালাম আজাদ বলেন, ভবন ভাঙার বিষয়ে আমার কাছ থেকে কোনো অনুমতি নেয়া হয়নি। এমনকি দরপত্র করা হয়নি। আমাকে না জানিয়েই ভবনের ভাঙার কাজ শুরু করা হয়েছে। আমি জানার পর সরকারের নিয়মনীতি মেনে ভবন ভাঙতে বলেছি। ভাঙা মালামাল বিক্রি করতে নিষেধ করেছি।

নয়া দিগন্ত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.