মুন্সীগঞ্জে যুবককে হাতুড়ি পেটা, ২৪ ঘণ্টায় জ্ঞান ফেরেনি

ইসমানির চর ও হোসেন্দির ত্রাশ টিটু হাজীর গ্রুপের মধ্যে তথ্য ফাঁস করার সোর্স মনে করে ইসমানির চর প্রাইমারি স্কুলের একটি কক্ষে আটকিয়ে লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে মাথা, হাত, পায়ের গোড়ালি ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে থেতলে দেয়া হয়েছে। মুমূর্ষু অবস্থায় স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে ফেরত দিলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ওই যুবক বর্তমানে নিবীড় পরিচর্যা কেন্দ্র- আইসিউতে অজ্ঞান অবস্থায় রয়েছেন।

ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হলেও বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তার জ্ঞান ফেরেনি। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার দুপুর ১২টার দিকে। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।

স্থানীয় সূত্র বলছে, ইসমানিরচর এলাকায় আগে একটি হত্যা হয়। বিষয়টি ধামাচাপা দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ আছে। কিন্তু ওই ঘটনার রেস থেকে যায়। সাজিদুল ইসলাম মীম ওই হত্যা মামলার আসামিদের একজন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, টিটু হাজীর আদেশে সংগ্রাম মোল্লার নেতৃত্বে ৮-১০ জনের একটি গ্রুপ সাজিদুল ইসলাম মীমকে ডেকে নিয়ে স্কুলের একটি কক্ষে আটকিয়ে হাতুড়ি দিয়ে হাত পায়ের গিড়ায় গিড়ায় পিটিয়ে গিড়াগুলো থেতলে দেয় ও মাথাও থেতলে দেয়া হয়েছে। সংগ্রাম মোল্লা ওই এলাকার মৃত বাসেত মোল্লার ছেলে। হামলার স্বীকার মীমের বড় ভাই তসলিম এই অভিযোগ করেছেন।

তসলিম আরো জানান, বুধবার দুপুর ১২টার দিকে ইসমানিরচর একটি কক্ষে আটকিয়ে মীমকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে অজ্ঞাত করে ফেলে। একটি হাত ভেঙে ফেলেছে। পায়ের হাটুর বাটি ভেঙে ফেলেছে। এ ছাড়া ডান পায়ের হাটুর নিচে, বাম হাতের কব্জিতে ও পাঁচ আঙ্গুলের পাঞ্চা, মাথায় হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়েছে। সংগ্রাম মোল্লার (৩০) নেতৃত্বে এই হামলা হয়।

তিনি বলেন, হত্যা মামলার আসামিদের ডাক্তার তপন মিলিয়ে দিয়েছিলেন। হত্যার ঘটনা ও বিয়ারের টাকা পাওনাকে কেন্দ্র করে এই হামলার স্বীকার সাজিদুল ইসলাম মীম (২২)।

তবে অভিযুক্ত হাজী টিটু ঘটনার কোনো কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন।

এসআই সুজিত জানান, এমন ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানেন না। তবে বন্ধু বান্ধব মিলে মারামারি হয়েছে বলে জেনেছেন। কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নয়া দিগন্ত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.