মুন্সীগঞ্জে বৃষ্টির পানি জমে সদ্য রোপীত বীজ আলু নষ্ট হচ্ছে

মুন্সীগঞ্জে চলছে আলু রোপনের ভরা মৌসুম, ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কৃষকদের ছিল কর্মব্যস্থতা। আশা ছিল গত বছরের লোকসান এবারের ভাল ফলনে পোষিয়ে নিবেন। তা আর হলো না ৪ ডিসেম্বর শনিবার থেকে টানা বৃষ্টির কারনে আলু জমিতে পানি জমে সদ্য রোপীত বীজ আলু নষ্ট হচ্ছে।

আলু চাষের উপর নির্ভরশীল এ অঞ্চলের কৃষকদের আর রাতের ঘুম নেই ভোর হতেই কোদাল, ভোল, বালতি নিজ জমিতে জমে থাকা পানি অন্যত্র সরানোর চেষ্টা করছেন। যদি শেষ রক্ষা টুকু করা যায়।

জেলার টঙ্গীবাড়ি উপজেলার ধীপুর গ্রামের আলু চাষী জহিরুল ইসলাম জানান, গত বছর আলু চাষ করে ভাল দাম না পাওয়ায় হিমাগার থেকে আলু নেইনি। ধারদেনা করে আবার আলু রোপন করলাম বীজ আলুর তেমন মূল্য না থাকলেও সারের দাম ছিল অনেক বেশী। সেই আলু জমিতে এখন পানি থৈ থৈ করছে।

চলতি মৌসুমে জেলার ৬টি উপজেলার ৩৭ হাজার ৯ শত হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্য মাত্রা নিয়ে জমি প্রস্তুত করছে কৃষকরা। এরিমধ্যে প্রায় ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে আলু বীজ রোপন করা হয়েছে। বাকী জমি গুলো পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে, সার বোপন পরবর্তী, মাটি গুড়া করার জন্য একাধিক বার ট্রাক্টর দিয়ে চাষ দেয়া হয়েছে। রোদ উঠলেই বীজ বপন করবে। সেই জমি আর প্রস্তুত হলো না, পানিতে তলিয়ে নষ্ট হলো চাষযোগ্য জমি। এখন রৌদ উঠলে জমি শুকালে আবার নতুন করে সার দিয়ে জমি চাষ করে আলু রোপন উপযোগী করতে হবে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, বীজ আলুর দাম তুলনা মূলক ভাবে কম ছিল এখন আবার নতুন করে বীজ দরকার হওয়ায় তার দাম বৃদ্ধি সহ প্রাপ্তি সমস্যা হবে।

মুন্সীগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. খোরশেদুল আলম জানান, কয়েক দিনের থেমে থেমে আসা বৃষ্টিপাতে অধিকাংশ আলু জমিতে পানি জমেছে। বৃষ্টি থেমে অতিদ্রুত পানি নেমে গেলে ক্ষতির পরিমান কম হবে। আমরা কৃষকদের পূর্বাভাস দেওয়ার পরও তারা আলু বীজ রোপন করেছে।

জনকন্ঠ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.