অবশেষে ভ্যান ফিরে পেলেন ফিরোজ বেপারী

৬ মাস আগে এনজিও থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে একটি ভ্যান কিনেছিলেন ফিরোজ বেপারী। সেই ঋণের টাকা এখনো সম্পূর্ণ পরিশোধ করতে পারেননি। এছাড়াও অভাবের তাড়নায় আরও দুই জায়গা থেকে ঋণ নিয়েছেন। বাবার রেখে যাওয়া সাড়ে তিন শতাংশ জমিতে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন ফিরোজ বেপারী। ভ্যান চালিয়ে যা আয় হয় তাই দিয়ে চলে তার সংসার। সঙ্গে গুনতে হয় তিনটি কিস্তির টাকা।

ফিরোজ বেপারী মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার মোল্লারচর এলাকার মৃত রমজান বেপারীর ছেলে। তার সংসারে দুই ছেলে, এক মেয়ে, মা এবং স্ত্রী রয়েছে। ৬ জনের সংসার ভ্যান গাড়ির আয়ের ওপর নির্ভরশীল।

বৃহস্পতিবার (১২ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফিরোজ বেপারীর সঙ্গে কথা হয় ঢাকা পোস্টের এই প্রতিবেদকের।

ফিরোজ বেপারী বলেন, গত মঙ্গলবার (১০ মে) সকাল ১০টার দিকে বাড়ি থেকে ভ্যান গাড়ি নিয়া বেড় হই। মুন্সীগঞ্জ সুপার মার্কেট এলাকায় আসলে ট্রাফিক পুলিশ বজলুর রহমান স্যারসহ কয়েকজন আমার গাড়িটা আটক করেন। পরে তারা ট্রাফিক অফিসে ভ্যান নিয়ে যান। এ সময় আমার গাড়ির সঙ্গে আরও দুইটি গাড়ি নিয়া যায়। অন্য দুই গাড়ির মালিক ৫০০ টাকা করে দিয়া ভ্যান গাড়ি ছাড়াইয়া নেয়। আমার পকেটে টাকা ছিল না। আমি আমার ভ্যান গাড়ি ছাড়াইতে পারি নাই। আমি কাইন্দা কাইন্দা পুলিশের হাতে পায়ে ধরছি। বলছি আমার কাছে টাকা নেই। এই ভ্যান গাড়ি চালাইয়া আমার ছয়জনের সংসার চলাই। তারা আমার কোনো কথা শোনে নাই। আমার গাড়ি আটকাইয়া রাখছে। পরে আজ দুপুরে আমার মামা আনোয়ারের মাধ্যমে আমার ভ্যানটি পাঠাইয়া দিছে পুলিশ।

তিনি আরও বলেন, ১ মাস হইলো একটা মাইয়া হইছে। মেয়েকে বুকের দুধের পাশাপাশি বাইরের দুধও কিনে খাওয়াতে হয়। মা, বউ, ২ পোলা, ১ মেয়ে নিয়ে ৬ জনের সংসার আমার। প্রত্যেক সাপ্তায় ৩ হাজার টাকা কিস্তিও দেই। এসব খরচ আমি একলাই ভ্যান গাড়ি চালাইয়া মিটাই। গত তিন দিন ওই ভ্যান গাড়িডা আটকায় রাখে পুলিশ। ঘরে খাওন নাই। কত কাইন্দা কাইট্টা কইলাম আমার গাড়িডা দিতে, পুলিশ দিল না। এই তিনদিন ধারদেনা করে চলছি। আজ বিকেলে ভ্যান বুইঝা পাইলেও বৃষ্টির কারণে আর বের হতে পারি নাই। কাল সকালে আবহাওয়া ভালো থাকলে ভ্যান নিয়ে বেরোবো। ভ্যান চালাইয়া যা আয় করি তা দিয়ে কোনো রকম আমার সংসার আর কিস্তি চলে ।

ফিরোজ ব্যাপারী বলেন, আমার ৮০, ৪০ ও ৩০ হাজার টাকার তিনটি কিস্তি আছে। কিস্তি বাবাদ প্রতি সপ্তাহে ৩ হাজার টাকা দিতে হয়। প্রতিদিন ৫০০ টাকার কম হলে সংসার চলে না। এর মধ্যে ১ মাস বয়সী মেয়ের দুধ, ওষুধ খরচ, বৃদ্ধ মায়ের ওষুধ খরচ সবকিছুই এই ভ্যান গাড়ির আয়ের টাকায় চলে। ভ্যান আটকে রাখায় বউ-পোলাপান লইয়া খুব কষ্ট করছি। ধারদেনা করে চলছি। শনিবার ২ হাজার টাকার কিস্তি আছে। আজ ভ্যানগাড়ি বুঝে পাওয়ার পর থেকে বৃষ্টি হইতেছিল। কাল সকালে গাড়ি নিয়ে বেরোমু।

ভ্যান আটকে রাখার বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (টিআই) বজলুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, কিছু ভ্যান অবৈধভাবে মটর লাগিয়ে রাস্তা দিয়ে ইটের সুড়কি ও বালু পরিবহন করে। যার কারণে ইটের সুড়কি ও বালু পড়ে রাস্তা নষ্ট হয়। মাঝেমধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটে। এ কারণে দুটি ভ্যান আটক করা হয়েছিল। দুইদিন আগে আটক করা হয় এবং চালকদের মুচলেকা দিয়ে ভ্যান নিয়ে যেতে বলা হলেও তারা সঠিক সময় এসে ভ্যান নেননি।‌ পরে আজ ফিরোজ ব্যাপারীর ভ্যানটি তার এক আত্মীয়ের নিকট বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। অপর ভ্যানটি মুচলেকা দিয়ে নিয়ে গেছেন ভ্যানচালক।

ব.ম শামীম/ঢাকা পোষ্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.