শ্রীনগরে সিসি ফুটেজে উঠে এলো ৫ বছরের শিশুর অপহরণকারী আপন মামী

আরিফ হোসেন: শ্রীনগরে মামীর বিরুদ্ধে ৫ বছরের ভাগ্নিকে অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার দুপুরে এবিষয়ে শিশুটির আপন মামী মেঘনা বেগমের (২৮) বিরুদ্ধে শ্রীনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

পরিবারিক সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল সড়ে ৯টার দিকে মদনখালী গ্রামের সৌদি প্রবাসী জিয়া শেখের কন্যা জুবাইদা আক্তার (৫) উত্তর মদনখালী ইবতেদায়ী মদরাসার যায়। সেখান থেকে তার বড় মামী মেঘনা বেগম তাকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দুরে হাসাড়া গ্রামে এনে তাদের বাড়ির পেছনে একটি পরিত্যাক্ত গরুর খামারে নিয়ে যায়। সেখানে তার হাত-পা বাধার সময় লোকজন চলে আসলে সে সটকে পরে। এর কিছুক্ষন পর শিশুটির মুখে কসটেপ লাগিয়ে ঝোপের মধ্যে নিয়ে হাপ-পা বেঁধে ফেলে। এসময় ঘটনাস্থলের কাছাকাছি ওই বাড়ির কাজের মেয়ের উপস্থিতি টের পেয়ে মামী মেঘলা বেগম শিশুটিকে রেখে দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে। পরে গোংগানীর শব্দ পেয়ে এগিয়ে গিয়ে শিশুটিকে দেখে চিৎকার দিলে লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে। অর্ধচেতন অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, তাকে ঘুমের ঔষধ খাওয়ানো হয়েছে। পরে কিছুটা সুস্থ্য হলে শিশুটি পুরো ঘটনা খুলে বলে। কিন্তু মামী মেঘলা বেগম জানায় সে শিশুটিকে নিয়ে আসেনি এবং পুরো ঘটনা অস্বিকার করে। বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়। পরে হাঁসাড়া এলাকার একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, মোঃ উজ্জলের স্ত্রী মেঘলা বেগম সকাল সাড়ে ৭ টায় তার ২ মেয়েকে নিয়ে হাঁসাড়া আল ইহসান মাদ্রাসায় আসেন। সেখানে থেকে তিনি ৭ টা ৩৩ মিনিটের সময় বের হয়ে যান। পরে আবার তিনি সকাল ৯ টা ২১ মিনিটের সময় যখন আল ইহসান মাদ্রাসয় আসেন তখন তার সাথে শিশু জুবাইদা রয়েছে। এক পর্যায়ে তাকে টেনে হিচরে নিয়ে যেতে দেখা যায়। সিসি ফুটেজের বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর মামী মেঘলা বেগম চুপ হয়ে যায়।

অপর একটি সূত্র জানায়, মেঘলা বেগমের সাথে তাদের এক সাবেক ভাড়াটিয়ার গোপন সম্পর্ক ছিল। ওই ভাড়াটিয়া তাকে ব্ল্যাক মেইল করে এই কাজ করিয়েছে বলে স্বীকার করেছে। পুলিশ মেঘলা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই প্রকৃত ঘটনা বের হয়ে আসবে।

শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.