‘আজকা আমাগো খুশির দিন’

আরাফাত রায়হান সাকিব: ‘চোখের সামনে বানাইতে দেখলাম, কবে চালু হইবো সেই চিন্তা করতাম। আজকের দিনটা দেখার লিগা অপেক্ষায় আছিলাম। আজকে পদ্মা সেতু চালু করবো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সকাল থেকেই এরলিগা মনডা তাই ভালো। আজকা আমাগো খুশির দিন, আনন্দের দিন।”

বহুল প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন হচ্ছে আজ শনিবার (২৫ জুন)। তাই সেতুর উদ্বোধনে এভাবেই আনন্দের কথা জানাচ্ছিলেন মুন্সিগঞ্জের মাওয়া এলাকার পিঠাবিক্রেতা ফিরোজ বেগম। শনিবার ভোরে মাওয়া মৎস্য আড়তে দেখা হয় তার সঙ্গে।

ফিরোজ বেগম জাগো নিউজকে বলেন, ‘বাড়ি পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে। স্বামী নাই, পোলারে লইয়া এইখানে কাজ করি। তবে যাত্রাপথে একদিকে পদ্মা পাড়ি দেওয়ার ভোগান্তি অন্যদিকে আর্থিক সংকট। তাই বাসায় যাওয়া হয় না। এখানেই কাজ করছেন।’

তবে এবার বাড়িতে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে বলেন, ‘বারবার নামতে উঠতে হয়, আর খরচ অনেক বেশি তাই অনেক বছর বাসায় যাই না। যাইতে পারিও না। এখানেই পিঠা বেচি, যখন যা পাই সেই কাজ করি। পদ্মা সেতু হইয়া গেছে এখন বাসায় যাইতে পারুম। আগের মতো তো আর একবার ফেরিতে নামতে আরেকবার উঠতে হইবো না। একটা বাসে উঠলেই যাইতে আইতে পারুম। এর লিগাই ভালো লাগতাছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আইবো। অনেক মানুষ আইবো। আমরা প্রতিদিন দেখি আজ আরো অনেক মানুষ দেখবো। আমাগো পদ্মা সেতু। খুশি আমি।’

এক ফিরোজাই নয়, পদ্মা সেতুর উদ্বোধনকে ঘিরে উচ্ছ্বসিত আজ পদ্মা পাড় থেকে সারাদেশের মানুষ।

এদিকে সব প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ উদ্বোধন হতে চলেছে স্বপ্ন, সাহস ও সক্ষমতার পদ্মা সেতু। সকালে মুন্সিগঞ্জ প্রান্তে সেতুর উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

jagonews24

এদিকে উদ্বোধন ও প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে পুরো মাওয়া এলাকা জুড়ে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। বিপুল পরিমাণ পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনীর পাশাপাশি কাজ করছে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। হাইওয়ে পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ, জেলা পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, নৌ পুলিশ, র্যাবসহ সবাই একযোগে মোতায়েন রয়েছে। ইউনিফর্ম এবং সাদা পোশাকে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। বিভিন্ন পেট্রোলিং ছাড়াও আকাশপথে রয়েছে হেলিকপ্টারের নজরদারি।

শনিবার (২৫ জুন) উদ্বোধন করা হবে বহুল প্রত্যাশিত পদ্মা সেতুর সড়ক পথ। পরেরদিন সকাল ৬টা থেকে যানচলাচল শুরু হবে।

২০০১ সালের ৪ জুলাই স্বপ্নের পদ্মা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০১৪ সালের নভেম্বরে নির্মাণকাজ শুরু হয়। দুই স্তরবিশিষ্ট স্টিল ও কংক্রিট নির্মিত ট্রাসের এ সেতুর ওপরের স্তরে চার লেনের সড়ক পথ এবং নিচের স্তরে একটি একক রেলপথ রয়েছে।

পদ্মা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা নদীর অববাহিকায় ৪২টি পিলার ও ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৪১টি স্প্যানের মাধ্যমে মূল অবকাঠামো তৈরি করা হয়। সেতুটির দৈর্ঘ্য ৬.১৫০ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ১৮.১০ মিটার।

পদ্মা সেতু নির্মাণে খরচ হয়েছে ৩০ হাজার কোটি টাকা। এসব খরচের মধ্যে রয়েছে সেতুর অবকাঠামো তৈরি, নদী শাসন, সংযোগ সড়ক, ভূমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন ও পরিবেশ, বেতন-ভাতা ইত্যাদি।

বাংলাদেশের অর্থ বিভাগের সঙ্গে সেতু বিভাগের চুক্তি অনুযায়ী, সেতু নির্মাণে ২৯ হাজার ৮৯৩ কোটি টাকা ঋণ দেয় সরকার। ১ শতাংশ সুদ হারে ৩৫ বছরের মধ্যে সেটি পরিশোধ করবে সেতু কর্তৃপক্ষ।

৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার স্বপ্নের কাঠামো নির্মাণের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড।

জাগো নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.