হৃদয়চন্দ্র মণ্ডলকে ধর্ম অবমাননার মামলা থেকে অব্যাহতি

‘যারা সুন্দর পরিবেশ নষ্ট করতে চেয়েছিল, অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে চেয়েয়েছিল, তাদের চিহ্নিত করা জরুরি।’
মুন্সীগঞ্জের স্কুলশিক্ষক হৃদয়চন্দ্র মণ্ডলকে ধর্ম অবমাননার মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছে আদালত।

মুন্সীগঞ্জের ১ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম যোশিতা ইসলাম বুধবার এ আদেশ দেন বলে হৃদয়চন্দ্রের আইনজীবী দেবদাশ মণ্ডল দীপু জানান।

গত ২০ মার্চ সদর উপজেলার বিনোদপুর রামকুমার উচ্চবিদ্যালয়ের গণিত ও বিজ্ঞান শিক্ষক হৃদয়চন্দ্র মণ্ডলের শ্রেণিকক্ষের কথোপকথন নিয়ে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ওঠে। বিদ্যালয়ে বিক্ষোভ হয়। তার বিরুদ্ধে মামলা করেন বিদ্যালয়টির ইলেকট্রিশিয়ান মো. আসাদ।

পুলিশ হৃদয়চন্দ্রকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ওঠে সারাদেশে। পরে তাকে জামিনে মুক্তি দেয় আদালত।

আইনজীবী দেবদাশ বলেন, মামলা তদন্ত করে পুলিশ অভিযোগের সত্যতা পায়নি জানিয়ে গত ৮ অগাস্ট আদালতে প্রতিবেদন দেয়। মঙ্গলবার সেই মামলার শুনানি হয়। আর বুধবার মামলা প্রত্যাহারের আদেশ দেয় আদালত।

মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন হৃদয়চন্দ্র মণ্ডল।

তিনি বলেন, “সত্য প্রতিষ্ঠিত হল। এতে বিদ্যালয়টি শিক্ষার পরিবেশ ফিরে পাবে বলে আশা করি।”

এর পেছনে যারা সক্রিয় তাদের চিহ্নিত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, অপরাধীরা শাস্তি পেলে এমন অরাজক পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হবে না।

যারা তার পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি।

আদালতের রায়ে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন মুন্সীগঞ্জের বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও।

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি এম এ কাদের মোল্লা বলেন, “শিক্ষকদের বিজ্ঞান ক্লাস নিয়ে আতঙ্ক-উৎকণ্ঠার অবসান ঘটল।”

জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অজয় চক্রবর্তী বলেন, “আদালতের এই আদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল। যারা এখানকার সুন্দর পরিবেশ নষ্ট করতে চেয়েছিল, অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির অপচেষ্টা চালিয়েছিল, তাদের চিহ্নিত করা জরুরি।”

বিডিনিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.