সিরাজদিখানে হচ্ছে মুদ্রণ শিল্পনগরী

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে গড়ে উঠছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন- বিসিক। যেখানে প্রাধান্য পাবে মুদ্রণ শিল্প। ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা মুদ্রণ কারখানাগুলোকে এখানে স্থানান্তর করা হবে। মুদ্রণ শিল্পকে পরিবেশবান্ধব স্থানে স্থানান্তরসহ যাবতীয় সহযোগিতা দিতেই সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে।

এ লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘বিসিক মুদ্রণ শিল্প নগরী (১ম সংশোধিত)’ নামের একটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে একনেকে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশে ২৯৯টি মুদ্রণ শিল্প গড়ে তুলেছেন বেসরকারি উদ্যোক্তারা। এ উদ্যোক্তাদের শিল্প স্থাপনে অবকাঠামোগত সুবিধা প্রদান ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ২৯৯টি মুদ্রণ শিল্পের মালিকরা শিল্প স্থাপনে অবকাঠামোগত সুবিধা পাবেন।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ২০১৬ সালে নেওয়া প্রকল্পটি ২০২১ সালের ডিসেম্বরে বাস্তবায়ন করার কথা ছিল। কিন্তু ৮টি কারণে প্রকল্পটির সংশোধন করতে হয়েছে।

কারণগুলো হলো— (ক) প্রকল্পের জন্য নতুন স্থান নির্বাচন (খ) জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে পাওয়া নতুন স্থানে চিহ্নিত জমির বাড়তি মূল্য যোগাড় (গ) পরিবর্তিত ১০০ একর জমির পরিমাণ অনুযায়ী বিভিন্ন অঙ্গের পরিমাণ ও ব্যয় সমন্বয় (ঘ) পিডব্লিউডি রেট শিডিউল-১৮ অনুযায়ী পূর্ত কাজের ব্যয় নির্ধারণ (ঙ) অত্যাবশ্যকীয় নতুন অঙ্গ অন্তর্ভুক্তি (চ) প্রকল্পের লে-আউট সংশোধন (ছ) জনবলের বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য খাতের অর্থনৈতিক কোড পরিবর্তন এবং (জ) প্রকল্পের বাস্তবায়ন মেয়াদ ৩ বছর বাড়ানো।

সূত্র জানিয়েছে, শুরুতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৩৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা। সংশোধিত প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৬৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্পের আওতায় ৫০ একর ভূমি অধিগ্রহণ করে ৮ লাখ ৪ হাজার ঘনমিটার ভূমি উন্নয়ন করা হবে। ৩৭৫ বর্গমিটার অফিস ভবন ও ৯৩ বর্গমিটার পাম্প ড্রাইভার কোয়ার্টার্স নির্মাণ করা হবে।

এছাড়া, ১ হাজার ৮৬৪ মিটার সীমানা প্রাচীর ও ১টি গেইট নির্মাণ করা হবে। ৪৫ হাজার ৬৭৩ বর্গমিটার রাস্তা, ৯ হাজার ৪৭৫ মিটার ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ ২৮টি কালভার্ট বা ক্রসড্রেন নির্মাণ করা হবে।

এর বাইরেও ৪ হাজার ৮০৫ মিটার পানির লাইন ও ৫৩৫০ মিটার বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন করা হবে।

স্থাপন করা হবে সোলার প্যানেলও। ১৪৮৭ বর্গমিটার সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট বা ডাম্পিং ইয়ার্ড নির্মাণ করা হবে প্রকল্পে।

কমিশন আরও জানিয়েছে, জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি একনেকে উপস্থাপনের আগে প্রকল্পটি ২০২২-২৩ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি এডিপিতে মাত্র ৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দসহ অন্তর্ভুক্ত ছিল।

সূত্র জানায়, সরকারের চলমান ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় জিডিপিতে শিল্পখাতের অবদান ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪১ দশমিক ৮৬ শতাংশ উন্নীত করা, শিল্পখাতের প্রবৃদ্ধি ১১ দশমিক ৯০ শতাংশে উন্নীত করা, পণ্যের উৎপাদনে দক্ষতা বৃদ্ধি, শ্রমঘন শিল্পকে অগ্রগাধিকার প্রদান, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ, রফতানিমুখী শিল্পের উৎপাদন বৃদ্ধি, আমদানি বিকল্প পণ্য উৎপাদন এবং শিল্প উৎপাদনে বেসরকারি খাতের প্রসারে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ, শিল্পায়ন বৃদ্ধি এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে প্রকল্পটি ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ বলে মনে করে পরিকল্পনা কমিশন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম জানিয়েছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাজধানীসহ দেশের আনাচে কানাচে গড়ে ওঠা মুদ্রণ শিল্প মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের একটি জায়গায় স্থানান্তরিত হবে।

বাংলা ট্রিবিউন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.