মুন্সীগঞ্জে গ্যাস সংকট চরমে

দীর্ঘদিন ধরে মুন্সীগঞ্জে গ্যাস সরবরাহে অচলাবস্থা থাকলেও এখন চরমে পৌঁছেছে। এর মধ্যে গেল দুদিন ধরে সুপারমার্কেট থেকে মানিকপুরের আলু গবেষণাকেন্দ্র পর্যন্ত আশপাশের প্রায় ১৫০ সংযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

তিতাস গ্যাস সূত্র জানিয়েছে, সুপার মার্কেট (থানার পুল) এলাকায় গ্যাস পাইপের লিকেজ দিয়ে পানি ঢুকেছে। এ কারণে এই অংশের পুরো পাইপ ভর্তি হয়ে গেছে। তাই এই লাইনে কোনো রকম গ্যাস সরবরাহ নেই। কিন্তু এ ব্যাপারে দায়িত্বশীলদের কোনো মাথা ব্যথা নেই। এমনকি গ্রাহকদেরও এই সমস্যা সম্পর্কে অবগত করার তারা কোনো প্রয়োজন মনে করেননি।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার (০১ সেপ্টেম্বর) থেকে বিনা নোটিশে পুরোপুরি গ্যাস সংযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে গ্রাহকরা। পরিবার পরিজন নিয়ে পড়েছেন দুর্ভোগে।

তিতাস গ্যাসের মুন্সীগঞ্জের অফিসের ব্যবস্থাপক মেজবাহ উদ্দিন আহম্মেদ জানিয়েছেন, গ্যাসের চাপ কম, চাপ না বাড়লে লাইন ঠিক করা সম্ভব না। তারপরও আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। জেলায় মাসে ৭১ লাখ ঘনমিটার চাহিদা থাকলেও পাওয়া যাচ্ছে ৩৫ লাখ ঘনমিটার গ্যাস। এর চেয়েও বড় সমস্যা হচ্ছে গ্যাসের চাপ যথাযথ না থাকায় সরবরাহকৃত গ্যাসের সুফলটুকুও পাওয়া যাচ্ছে না।

তিনি আরও জানান, গ্যাসের চাপ থাকা প্রয়োজন ১০ পিএসআইজি। চাপ পাওয়া যাচ্ছে ২/৩ পিএসআইজি। এতে করে গৃহস্থালীর গ্রাহক ছাড়াও বাণিজ্যিক ও ইন্ডাট্রিয়াল গ্রাহকরাও পড়েছে বিপাকে। যার প্রভাব পড়ছে উৎপাদনে। জেলায় ডমেস্ট্রিক লাইন ১৩ হাজার ৯৮৭ টি, ইন্ডাট্রিয়াল লাইন ২২টি এবং কর্মাশিয়াল লাইন রয়েছে ২৫টি।

মানিকপুরের বাসিন্দা রুনু বেগম জানান, দীর্ঘদিন ধরে সকালে গ্যাস চলে যায়, রাতে আসে। আমরা অপেক্ষায় থাকি। রাতে গ্যাস আসলে রাতের খাবার আর পরদিন দুপুর পর্যন্ত রান্না করে রাখি। কিন্তু বৃহস্পতিবার আর গ্যাস আসেনি। অপেক্ষা করতে করতে রাত বেড়ে যায়। বাইরে থেকে খাবার কিনে আনাও সম্ভব হয়নি। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনেকটা না খেয়ে রাত্রিযাপন করতে হয়েছে।

ওই গৃহিণী আরও জানান , ভোর সাড়ে ৪টায় উঠেও দেখা যায় একই অবস্থা। এমনকি শুক্রবারও সারাদিন গ্যাসের দেখা মেলেনি। গ্যাস অফিসের গ্রাহকসেবা দেয়ার নূন্যতম মানসিকতা তাদের নেই।

এছাড়া শহরের উত্তর কোর্টগাঁও, কোর্টগাঁও, মধ্য কোর্টগাঁও, দক্ষিণ ইসলামপুর, উত্তর ইসলামপুর, খালইস্ট, জমিদারপাড়া, মালপাড়া, ইদ্রাকপুর, গোয়ালপাড়া, বাগমামুদালী পাড়া, দেওভোগ, গনকপাড়া এবং শহরের বাহিরে মিরকাদিম, রামপাল, সিপাহীপাড়া, মুক্তারপুরেও রয়েছে গ্যাসের তীব্র সংকট। গ্যাস সঙ্কটের কারণে অনেকেই কেরোসিন, কাঠের চুলা, রাইস কুকার ও ইনডাকশন ওভেনে রান্না করছেন।

গ্যাস নিয়ে গ্রাহক ভোগান্তির চরমসীমায় পৌঁছালেও বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে কিন্তু তারা কোনো ছাড় পাবেন না। এতে বাধ্য হয়ে অনেকে রান্না করছেন মধ্যরাতে। এই নিয়ে গৃহিণীদের বিরক্তির যেন শেষ নেই, তাদের মধ্যে এখন চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

সময় টিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.