অবৈধ ২৫ ইটভাটা: মুন্সিগঞ্জে কার্যকর ব্যবস্থা নিন

পৃথিবীর অনেক দেশের মতো খুব বেশি খনিজসমৃদ্ধ নয় বাংলাদেশ। তবে এ দেশে যা আছে, সেটিও আবার অনেক দেশে নেই। প্রকৃতি ও উর্বর কৃষিভূমিই হচ্ছে এ দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ।

কিন্তু সেই সম্পদকে আমরা কতটা আগলে রাখতে পারছি? অতীতকাল থেকে এই একবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত, যেকোনো দুর্যোগ ও মহামারিতে এখানকার খাদ্যনিরাপত্তা অনেকটা সুরক্ষিত রেখেছে আমাদের কৃষি। কিন্তু অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং যথাযথ পরিকল্পনার অভাবে দিন দিন কমে যাচ্ছে কৃষিভূমির পরিমাণ। সেই সঙ্গে আছে পরিবেশবিধ্বংসী নানা কর্মকাণ্ড। যার মধ্যে একটি হচ্ছে অবৈধ ও বেআইনিভাবে পরিচালিত ইটভাটা।

সেসবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কঠোর আইন আছে; আছে স্থানীয় প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সরকারি আরও কর্তৃপক্ষ। এরপরও বছরের পর বছর ধরে ইটভাটাগুলো চালু থাকছে আর ধ্বংস হচ্ছে আমাদের প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য ও কৃষিভূমি।

গোটা দেশেই এমন চিত্র আমরা দেখতে পাই। সম্প্রতি যার নমুনা দেখা যাচ্ছে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায়। সেখানকার অধিকাংশ ইটভাটাই অবৈধ। এমনকি সেগুলো বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশনা থাকলেও মানা হচ্ছে না তা। তাদের বিরুদ্ধে তেমন কোনো ব্যবস্থা নিতেও দেখা যাচ্ছে না প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে।

প্রথম আলোর প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, উপজেলাটিতে ৫৬টি ইটভাটার ২৭টিই অবৈধ। এর মধ্যে অবৈধ ভাটার ২৫টিই বর্তমানে চলমান। তবে এটি ঠিক যে চলতি বছরে একবার প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর বেশ কিছু ভাটায় অভিযান চালিয়ে জরিমানা করেছিল এবং কয়েকটি ভেঙেও দিয়েছিল। কিন্তু দিন শেষে অবৈধভাবে ঠিকই চালু থাকছে ভাটাগুলো। তার মানে প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর এখানে যে অভিযান চালাচ্ছে ও আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে, তা যথেষ্ট নয়। তাদের আরও কঠোর হতে হবে।

অবৈধ ইটভাটার কারণে সিরাজদিখানে পরিবেশ, ফসল, গাছপালার ওপর মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়েছে।

ইট বানানোর জন্য মাটির উপরিভাগের মাটি কেটে নেওয়ায় দিন দিন কমছে ফসলি জমি। সেখানকার কৃষকদের ভাষ্য, ইটভাটার কারণে কয়েক বছর ধরে এখানকার জমি একটু একটু করে কমছে।

সেই সঙ্গে ইটভাটার ধোঁয়া, বালুকণা বাড়িতে এসে পড়ছে। ফসল, গাছগাছালির ক্ষতি হচ্ছে। ফসল আবাদের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। এ বিষয়ে মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসনের বক্তব্য, যাঁরা নির্দেশ অমান্য করে অবৈধ ভাটার কার্যক্রম চলমান রেখেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমরা তাঁর কথায় আস্থা রাখতে চাই। আশা করছি, অভিযানের পর একই মালিকেরা যেন নতুন করে ইটভাটা চালু করতে না পারেন, সেই ব্যবস্থাই নেওয়া হবে।

প্রথম আলো

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.