মুল সাইটে যাওয়ার জন্য ক্লিক করুন

পাঠক সংখ্যা

  • 9,420 জন

বিভাগ অনুযায়ী…

পুরনো খবর…

পদ্মা রিসোর্ট

পদ্মা রিসোর্টের ওয়েবপেজ

পদ্মা রিসোর্টে একদিন


নগর জীবনের যান্ত্রিক কোলাহল, শব্দ ও বায়ু দূষণ এবং সর্বোপরি কর্মজীবনের ব্যস্ততার মাঝে সপ্তাহ শেষে আমাদের অবচেতন মন যখন একটু নিরবিচ্ছিন্ন শান্তি ও সুখ পেতে চায়, তখন আপনি এমন কোন জায়গা বা নিরব পরিবেশ বা স্পট বেছে নেবেন যেখানে দুই একদিন নিরাপদ নিরবচ্ছিন্ন প্রকৃতির স্বাদ উপভোগ করা যায়। পদ্মা রিসোর্ট আপনার সে বাসনা পূরণ করতে পারে।

ঢাকা থেকে মাত্র ৫০ কি.মি. দূরে (১ ঘন্টা ১৫ মি. গাড়ি দূরত্ব) মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলা, লোহজং থানার নদীর অপরপাশে মসজিদ ঘাটে এসে দাঁড়ালেই পাবেন মনোমুগ্ধকর পদ্মা রিসোর্ট। নদীর ওপারেই বিশাল বিস্তৃত চর, প্রকৃতির এক অপার সৌন্দর্য নিয়ে চরটি দীর্ঘকাল ধরে পদ্মার বুক জুড়ে দাঁড়িয়ে আছে, ঠিক যেন সেন্টমার্টিন দ্বীপ জেগে আছে। সেখানে গিয়ে আপনি দেখতে পাবেন মসজিদ ঘাটেই অপেক্ষা করছে আপনার জন্য ২-৩টি ইঞ্জিন চালিত বোট ও স্পিডবোর্ট।

এগুলো আপনাকে পৌঁছে দিবে ওপারে পদ্মা রিসোর্ট, সেখানে কেউ না কেউ আপনাকে স্বাগত জানাবে। রিসোর্ট যাওয়ার আগে অবশ্যই আপনি বুকিং দেওয়া কনফার্ম করে যাবেন, পদ্মা রিসোর্টের চৌকস কর্মীবৃন্দ আপনাকে নিয়ে যাবে আপনার বুকিং রুমে, রুমে ঢুকেই নিচ তলায় দেখতে পাবেন এক সেট সোফা ও টেবিল সজ্জিত লিভিং রুম, দেড় তলায় অত্যাধুনিক ফিটিংসহ (কমোড, বেসিন, লুকিং গ্লাস, টেলিফোন, শাওয়ার) ইত্যাদি দিয়ে তৈরি বাথরুম, ২য় তলায় উঠে দেখবেন পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ২টি সু-সজ্জিত সিঙ্গেল বেড, মধ্যখানে সেন্টার টেবিল, ওয়ারড্রোব, লাইট, ফ্যান ইত্যাদি। রিসোর্টটি চারিদিকে পদ্মা নদী প্রবাহিত হওয়ার সার্বক্ষণিক মৃদুমন্দ ঠান্ডা বাতাস বিরাজ করে, যাতে করে আপনার এসির কথা হয়তো মনেই হবে না।

রুমে উঠেই হাত মুখ ধুয়ে খাওয়ার কথা মনে হতে পারে। চিন্তা নেই, পদ্মা রিসোর্টের সু-সজ্জিত রেস্টুরেন্ট যা ২০টি টেবিল চেয়ার দিয়ে সাজানো সেখানে আপনি ২০০ জন লোক নিয়ে লাঞ্চ বা ডিনারসহ যেকোন পার্টি আয়োজন করতে পারেন।

রিসোর্টের ফুড মেন্যু দেখে, ৩-৪ জনের জন্য ১টি টেবিল বুক করতে পারেন। জনপ্রতি লাঞ্চ বা ডিনারের মূল্য হবে ৩০০ টাকা এবং রাত্রি যাপন করতে গেলে একটি রুমের ভাড়া পড়বে ৩০০০ টাকা।

এখান থেকেই শুরু আপনার আনন্দ ও উল্লাস, আপনি ইচ্ছে করলে এই বালুচরে করতে পারেন পিকনিক ইচ্ছে করলে নিজেরা রান্না করতে পারেন, ছেলে-মেয়েরা মিলে খেলতে পারেন, ভলিবল, বাস্কেটবল, ব্যাডমিন্টন, ফুটবল, কাবাডি ইত্যাদি। ভয় নেই পড়ে গেলে মোটেই ব্যথা পাবেন না, কারণ চরজুড়ে শুধু বালু আর বালু।

আপনি ইচ্ছা করলেই বর্তমানে শান্ত নদীতে গোসল করতে পারেন, ধরতে পারেন ছিপ দিয়ে মাছ। একটু দূরে যেতে চাইলে দেখতে পারবেন চরাঞ্চলের গ্রাম জীবন, পুরো চরজুড়ে চোখে পড়বে সবুজ আলুর তে ইত্যাদি। বিকালে বালুচরে ইজিচেয়ার বা দোলনা চেয়ারে বসে দেখতে পারেন সূর্যাস্ত বা ভোরের সূর্যোদয়।

রাতে করতে পারেন ক্যাম্প ফায়ার ও বারবিকিউ। ইচ্ছে করলেই চড়তে পারেন ঘোড়ার পিঠে, এয়ারবোর্টে ঘুরতে পারেন পদ্মার আশ-পাশ। এসব রাইড বা আনন্দের ক্ষেত্রে রিসোর্টের নিজস্ব চার্জ দিয়ে আপনি উপভোগ করতে পারেন নিরবচ্ছিন্ন আনন্দ, ভাগাভাগি করে নিতে পারেন নিজ নিজ পরিবার, বন্ধু-বান্ধব বা অফিস সহকর্মীদের সাথে।

এত কাছে এত কিছুর আনন্দ আছে আপনি বিশ্বাস করতে পারছেন না? ঘুরে আসুন না, একবার কোন এক ছুটি বা সাপ্তাহিক ছুটিতে। যোগাযোগ : তৌহিদুল আবেদীন, মিলেনিয়াম ট্যুর অপারেটর, ৮৪ নয়া পল্টন, ঢাকা-১০০০, মোবাইল : ০১৯১৩-৫৩১৮২০, ০১১৯৯-৪২৮৩৫৪।

সোর্স

————————————————————————————–

পদ্মা রিসোর্ট এবং একটি উৎসব (উৎসব উৎসব খেলা)
সেইন্ট মার্টিন থেকে ঘুড়ি উৎসব শেষ করে ফেরার পরও সবার মধ্যে একটা উৎসবের রেশ। এই রেশ কাটাতেই আবার একটা ঘুড়ি উৎসবের পরিকল্পণা। এবারের স্থান ঢাকার কাছের মাওয়া। যেখানে আছে পদ্মা নদী। পদ্মার চরে আছে পদ্মা রিসোর্ট। সেই রিসোর্টে আমরা রওনা হলাম ২১মার্চ, ২০০৮।


পদ্মা রিসোর্টের সামনের অংশ। ছবিটি তুলেছিলাম হাটতে হাটতে।

মাওয়া পর্যন্ত গেলাম রিতিমতোন লক্কর ঝক্কর মার্কা একটা বাসে। তবে আমাদের সাথের মানুষগুলো খুব বেশী রঙিন। তাই বাসটির করুণতা কোন অংশেই গুরুত্ব পেল না। আমরা গাইতে গাইতে মাওয়া পৌছে গেলাম। সেখান থেকে ৫মিনিটের নোটিশে পদ্মার চর তথা পদ্মা রিসোর্ট।

চরে নেমেই মনটা ভালো হয়ে গেল। অনেক উজ্জ্বল একটি দিন ছিল। আকাশে ভাবুক ভাবুক উড়ু উড়ু মেঘ। নির্মল বাতাস। এতটাই নির্মল যে আমি সমীরন (যখন কোন বাতাস খুব বেশী প্রশান্তি দেয় আমি তাকে সমীরন বলি) বললাম। চরটির মধ্যে এক ধরনের বিস্তৃর্ণতা আছে। যেদিকেই তাকাই একটা হালকা সবুজাভ আচ্ছাদন। তার মাঝে কোথাও একটু একটু তাবু (রঙিন তাবু)। সবাই নানা রঙের ঘুড়ি উড়াতে ব্যস্ত।

আমি আসলে মুগ্ধ রিসোর্ট দেখে। অনেক শান্তি দিল আমাকে। সবুজের মাঝে কাঠ ও খর দিয়ে বানানো ভয়ঙ্কর সুন্দর কিছু থাকার জায়গা। আছে সুন্দর খাবারের দোকান। যে কেউ চোখ বন্ধ করে পছন্দ করবে।


রিসোর্টর ভিতরের অংশ। এই রকম ঘাসের আচ্ছাদন পাওয়া যাবে পুরো রিসোর্টে। ঘরগুলি সব দোতলা। কাঠ দিয়ে তৈরি। ছবিটি তুলেছি খাবারের ঘরের সিঁড়ি থেকে।

আমরা সারাদিন অনেক ঘোরাঘুরি করলাম। ফুটবল, ঘুড়ি, ক্রিকেট সব হয়ে গেল। দুপুরে খেলাম খোলা আকশের নীচে। লাইভ ইলিশ ভাজা, ইলিশের ঝোল আর সব্জি। ছড়ালাম অনেক ভাত। যেহেতু ভাত ছড়ালে কাকের অভাব হয় না, তাই চলে আসল হাজারো কাক। তবে ঢাকার কাকের মতোন সেই কাক আমার খারাপ লাগল না; উল্টো ভালো লাগল।

দিন শেষে রাত নামল। আমাদের যাওয়ার ডাক এল। সবাইকে যেতে হয়। তারপর আবার সেই যানজট, আবার সেই ধোঁওয়া, আবার সেই মিথ্যে কথার শহরে। ইটের পর ইট শুধু স্বপ্ন গুলো আন ফিট। এই শহরে রাতের আকাশে তারা দেখা যায় না। বড় কষ্ট লাগে।

সোর্স

———————————————————————————————-

পদ্মা রিসোর্ট: নদীর চরের অবকাশ কেন্দ্র

ব্লগার বন্ধুরা, কয়েকদিন আগে অফিসের একটা ডে-লং ওয়ার্কশপে গিয়েছিলাম পদ্মা রিসোর্ট। প্রথমে দুর থেকে দেখে তেমন Impressive মনে হয়নি, কিন্তু যতই সময় কেটেছে ততই ভালো লেগেছে। ভরা বর্ষাতে নাকি আরও সুন্দর লাগতো, কারন তখন কটেজ গুলো ভাসতো পানির উপরে।

জেনারেটরের সাহায্যে বিদ্যুতের ব্যবস্হা করলেও দিনে সেটার আদৌ দরকার ছিল না, কারন চারপাশের খোলা চরে প্রচুর বাতাস। অনেকদিন পরে সারাদিন কাটালাম Natural Environment-এ। খোলা বাতাসে কাঠের কটেজে বসে Multimedia Presentation!, খারাপ না।
সন্ধায় নৌকা ভ্রমনের চমতকার ব্যবস্হা ছিলো। খাবারের ব্যবস্হাও বেশ ভালো, পদ্মার ইলিশ এবং চিংড়ী।

একদিনের শর্ট প্রগ্রামে চলে যেতে পারেন ওখানে, শহরের ব্যস্ততা ছাড়িয়ে এক ঘন্টার ড্রাইভ। দিনশেষে ভালোই লাগবে।

আপনাদের জন্য পদ্মা রিসোর্টের কিছু ছবি দিলাম:

সোর্স