নৌ চলাচলে ৭ মাসের নিষেধাজ্ঞা: ঝুঁকিপূর্ণ নৌ-রুট

মেঘনা নদী পথ
ঝড় ও বৃষ্টির ঋতু এগিয়ে আসছে এবং এর সাথে বাড়ছে লঞ্চ দুর্ঘটনা। প্রত্যেক বছর ঝড়ের মৌসুমে দেশের নদীগুলোতে লঞ্চ ডুবির ঘটনায় অকালে ঝরে পড়ে অনেক জীবন।

দক্ষিণাঞ্চলের মৌসুমী ঝুঁকিপূর্ণ নৌ-রুটে যাত্রীবাহী নৌ চলাচলে ৭ মাসের নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে বরিশাল বিভাগের ভোলা ও পটুয়াখালী জেলার মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীর প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার নৌপথে ১৫ মার্চ থেকে আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

বিআইডবি¬উটিসি’র বরিশাল অফিস সূত্রে জানা গেছে, এই পথের ৮টি যাত্রীবাহী নৌ-রুটে চলাচলকারী ১৪টি লঞ্চের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ নৌ রুটে চলাচলের জন্য ইতোমধ্যে ২টি সি ট্রাক দেয়া হয়েছে। বিআইডবি¬উটিএ’র উপ-পরিচালক আবুল বাশার মজুমদার জানান, ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় চলাচলে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের অনুমোদন না থাকা ১৪টি লঞ্চের যাত্রার সময়সূচী বাতিল করে সংশিষ্ট ইউএনও এবং পুলিশ সুপারদের কাছে চিঠি দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, বরিশাল বিভাগের উল্লেখিত নৌ-রুটে মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে নৌ-চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় নৌ-দুর্ঘটনা এড়াতে সরকার ১৫ মার্চ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত মেঘনা ও তেতুলিয়ার বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে ট্রলার ও ছোটো আকারের লঞ্চ চলাচল নিষিদ্ধ করে। ঝুঁকিপূর্ণ নৌ-রুটগুলো হল, মেঘনা নদীর ইলিশা-মজুচৌধুরীহাট, চর আলেকজান্ডা-দৌলতখান, চর আরেকজান্ডার-মির্জাকালু, চরআলেকজান্ডার-আসলামপুর, মনপুরা-তজুমদ্দিন, মনপুরা-শশীভূষণ, দশমিনা-চরকলমী এবং মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীর দশমিনা-চরমন্তাজ।

ঝড় ও বৃষ্টির ঋতু এগিয়ে আসছে এবং এর সাথে বাড়ছে লঞ্চ দুর্ঘটনা। প্রত্যেক বছর ঝড়ের মৌসুমে দেশের নদীগুলোতে লঞ্চ ডুবে এবং অনেক জীবন কেরে নেয়। সড়ক ব্যবস্থার ব্যপক প্রসার উপস্থিতির পরেও নদীপথ এখনো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। নদীপথ জনপ্রিয় কারণ এ ধরনের ভ্রমনের খরচ তুলনামূলক কম বলে বিবেচনা করা হয়। তাছাড়া নদী পথে মালামালের বহন খরচ ও সব থেকে কম। কিন্তু এ ব্যাপক ব্যবহৃত যোগাযোগ ব্যবস্থাকে নিরাপদ করার জন্য কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কোন সঠিক প্রদক্ষেপ নেয়া হয়নি। লঞ্চ গুলোকে জরাজীর্ণ অবস্থায় দেখা ও তাদের ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অধিকগুণ বেশী যাত্রী বহন করা সাধারণ দৃশ্য। তাছাড়া অধিকাংশ লঞ্চ গুলোকে কখনো ঝড় সহ্য করার মত শক্তিশালী করার জন্য সঠিক কারিগরী গুণাগুণ পর্যবেক্ষণ করা হয় না। লঞ্চে সারেং ও কর্মরত লোকেরা ভালভাবে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত নয়। তাই বারছে লঞ্চ দুর্ঘটনা। লঞ্চ দুর্ঘটনা এরাতে প্রথমত যে পদক্ষেপ টি নিতে হবে তা হলো অতিমাত্রায় যাত্রী নেয়া বন্ধ করা। দ্বিতীয় প্রয়োজন সমস্ত নদীতে চালিত যানবাহন গুলো প্রকৃত পক্ষে চলাচলের যোগ্য কিনা এবং ঝড় সহ্য করতে পারার মত ক্ষমতা আছে কিনা তা সঠিকভাবে পরীক্ষা করে দেখা।

গজারিয়া আলোড়ন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.