তরুণরাই ইতিহাস সৃষ্টি করে

মুন্সীগঞ্জে কালের কণ্ঠ সম্পাদক
‘১৯৭১ সম্পর্কে ভালো করে জানা উচিত। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানা উচিত। বাংলাদেশে এখন নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হতে শুরু করেছে। এ দেশে যা কিছু ঘটেছে, তা তরুণরাই ঘটিয়েছে। সব সময় তরুণরাই নতুন নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। তাই তরুণদেরই নতুন করে দেশের জন্য নিবেদিত হতে হবে। তবেই দেশ এগিয়ে যাবে।’ এ কথা বলেছেন কালের কণ্ঠ সম্পাদক খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন। গতকাল শুক্রবার মুন্সীগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আলোকচিত্র সংগঠন ‘কালের ছবি’ আয়োজিত ছবি উৎসবের দ্বিতীয় দিনে অলোকচিত্র ও চিত্রকলা প্রদর্শনী, চলচ্চিত্র মেলা, ‘মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর মাটির টানে স্মৃতির খোঁজে’ অ্যালবাম ও অবলা বসুর খোঁজে পাঠ উন্মোচন, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার ফলাফল এবং গুণীজন সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

ইমদাদুল হক মিলন বলেন, “আমি গর্ববোধ করি বঙ্গবন্ধুর এ দেশে জন্মগ্রহণ করতে পেরে। আমি গর্ববোধ করি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুলের দেশে জন্মগ্রহণ করে। আমি আরো গর্ববোধ করি স্যার জগদীশ চন্দ্র বসুর বিক্রমপুরে জন্মগ্রহণ করে। ‘পদ্মানদীর মাঝি’ আর ‘পুতুল নাচের ইতিকথা’র লেখক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এলাকার সন্তান হিসেবে জন্মে। এক হাজার বছর পূর্বে চীন দেশে ধর্ম প্রচার করতে যাওয়া অতীশ দীপঙ্করের বিক্রমপুরে জন্মগ্রহণ করে আমি আরো গর্বিত।”

কথাসাহিত্যিক বলেন, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন, সরোজিনী নাইডুর মতো আরো অনেক অনেক বিখ্যাত ব্যক্তি জন্মেছিলেন এই বিক্রমপুরে। বিক্রমপুর ছিল শিক্ষিত মানুষের জায়গা। বিক্রমপুর মূলত ছিল একটি পরগনা। হিন্দু অধ্যুষিত এ অঞ্চল ছিল শিক্ষা-দীক্ষায় ভরা। কিন্তু একটা সময় আসে যখন লক্ষ্মী বিক্রমপুরে প্রবেশ করে আর সরস্বতী পালিয়ে যান। অর্থাৎ বিক্রমপুরের ঘরে ঘরে টাকা প্রবেশ করতে থাকলে শিক্ষায় কিছুটা পিছিয়ে যায় বিক্রমপুর। কিন্তু দেশে ধনাঢ্য অঞ্চল হিসেবে বিক্রমপুর পরিচিতি লাভ করে।

‘আমি সরস্বতীর বিক্রমপুর চাই, পাশাপাশি লক্ষ্মীর বিক্রমপুরও চাই। অর্থাৎ ধন ও জ্ঞানের বিক্রমপুর দেখতে চাই। শিক্ষায় কিছুটা পিছিয়ে গেলেও বিক্রমপুরের লোকজন আবারও শিক্ষায় এগিয়ে গেছে। তাই ধন ও জ্ঞান এখন দুটোই বিক্রমপুরের মাটিতে বিদ্যমান। এ দুটোকে সমানভাবে এগিয়ে নিতে হবে’, বলেন ইমদাদুল হক মিলন।

কালের কণ্ঠ সম্পাদক বলেন, ‘একাত্তরে যাঁরা যুদ্ধ করেছেন শুধু তাঁরাই মুক্তিযোদ্ধা নন। বরং আমি মনে করি, যাঁরা মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করেছেন, যাঁরা দেশের জন্য নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন, তাঁরা সবাই মুক্তিযোদ্ধা।’

কালের ছবির সভাপতি আনমনা আনোয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপকমিটির সহসম্পাদক হাজী মো. ফয়সাল বিপ্লব, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ফজলে আজিম, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মতিউর রহমান হিরু ও মনছুর আহমেদ কালাম। বক্তব্য দেন শফিক ইসলাম, মঈন ইমতিয়াজ, সাব্বির হোসেন জাকির, হুমায়ুন ফরিদি, জাহাঙ্গীর আলম, শহিদ-ই হাসান তুহিন, আরিফুল ইসলাম প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে সম্মাননাপ্রাপ্ত পাঁচ গুণীজন হলেন- বিক্রমপুর গবেষক মো. শাহজাহান মিয়া, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ত ম আসাদুজ্জামান, চিত্রশিল্পী ঝুনু আক্তার, নাট্যকার মাজাহারুল হক বুলবুল ও আলোকচিত্রী মোহাম্মদ আসাদ।

অনুষ্ঠানের আগে কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুরের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা ঘুরে দেখেন। তিনি ইদ্রাকপুর কেল্লা পরিদর্শন ও রেডিও বিক্রমপুরের একটি অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।

গত বৃহস্পতিবার তিন দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ফজলে আজিম। উপস্থিত ছিলেন সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মতিউর রহমান গাজ্জালি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মতিউর রহমান হিরু, সাধারণ সম্পাদক সাব্বির হোসাইন জাকির, জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা আসিফ আলম সিদ্দিকি, গোলাম মাওলা তপন, জাহাঙ্গীর আলম ঢালী, কাউন্সিলর নার্গিস আক্তার, সাবেরা আক্তার, জয়া দাস, আনমনা আনোয়ার প্রমুখ।

কাল্লের কন্ঠ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.