জেলা আওয়ামীলীগের রাজনীতির হালচাল

মোহাম্মদ সেলিম: সাংসদ মৃণাল কান্তি দাসের অনুসারিদের আ’লীগের রাজনীতিতে কোন জায়গা হয়নি। এর ফলে অনেক নেতাকর্মী রাজনীতির ময়দান ছেড়ে অনেকটা নির্বাসিত জীবন যাপন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ১৫ আগস্টের শোক দিবসে তাদেরকে মাঝে মাঝে দেখা যায়। কখনো কখনো মৃণালের বড় ধরনের কোন শো-ডাউন অনুষ্ঠানে হারিয়ে যাওয়া এ নেতাদের এক ঝলক দেখা মিলে। তবে অনুষ্ঠান শেষে আর তাদেরকে খুঁজে পাওয়া যায় না। আবার অনেক নেতা কর্মী নিজের অবস্থান ধরে রাখার জন্য অঙ্গ সংগঠনের ব্যানারে রাজনীতির চর্চা করে যাচ্ছেন।

৯০’এর দশকে স্বৈরাচার এরশাদ সরকারকে হঠাতে রাজপথে এ নেতারা মুন্সীগঞ্জে গর্জে উঠে ছিল। রাজপথ কাপানো সেই নেতাদের আজ কেউ মনে রাখেনি। রাজপথ ও আন্দোলনে সোচ্চার এবং রাজনীতিতে নানা ভূমিকা রাখা নেতারা আজ হারিয়ে যাচ্ছে। রাজনীতিতে যাদের তেমন কোন অবদান নেই, রাজনীতি এখন তাদের দখলে। রাজনীতির যাতাকলে পড়ে অনেক নেতা রাজপথ থেকে সরে যাচ্ছে।

৯০’ দশকে রাজপথ কাঁপানো অন্যতম নেতা হচ্ছে প্রয়াত ফরহাদুজ্জামান খোকন। যাকে আমরা হারিয়ে ফেলেছি। কেউ এখন এ নেতাকে আর মনে করে না । সে একজন সংস্কৃতি কর্মী ছিলেন।

তার পাশাপাশি যার নাম সহজে মনে পড়ে সে হচ্ছে মুন্সীগঞ্জ শহর আ’লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব উদ্দিন কল্লোল। রাজনীতিতে তার অবদান উল্লেখযোগ্য। তুখর এই নেতার রাজনীতিতে ঘাত প্রতিঘাতে ভরা। রাজনীতির কারণে অনেকবার কারা বরণ করতে হয়েছে তাকে। একবার গ্রেফতারের দিন তার মা মারা যান। পরে তাকে প্যারালে মুক্তি দিয়ে পুলিশ তার মার জানাযায় নিয়ে আসেন। এ রকম ঘটনা অন্য রাজনীতি নেতার কপলা কখনো ঘটেনি। বাকশাল রাজনীতিতে জড়িত থাকলেও পরে এর বিলুপ্তি ঘটলে কল্লোল মুলধারার রাজনীতি আ’লীগে ফিরে আসেন। এরপর তিনি মুন্সীগঞ্জ শহর আ’লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান।

এদিকে জেলা আ’লীগের সভাপতি মো: মহিউদ্দিনের সাথে তার ছোট ভাই আনিসুজ্জামান আনিসের রাজনৈতিক দ্বন্ধের কারণে কল্লোল আনিসের পক্ষ নেয়। নদীর জলের মতো রাজনীতির ঘুরপাকে এ শিবিরে আসেন মৃণাল কান্তি দাস। রাজনীতির জোয়ারে মহিউদ্দিনকে ঠেকাতে আনিস শিবিরে আসেন এম ইদ্রিস আলী, মমতাজ বেগম, জামাল হোসেন, কবির মাস্টার ও এড. মজিবুর রহমানসহ অনেকেই।

এই শিবিরের দাপটে গত পৌর নির্বাচনে ফয়সাল বিপ্লবের পরাজয় ঘটে। এরমধ্যে কবির মাস্টার মহিউদ্দিন শিবিরে ফিরে গিয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা আ’লীগের পদ বাগিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো সাধারণ সম্পাদক হন।

যে মজিবরকে নিয়ে এ শিবিরের দাপাদাপি সে এরশাদের জাতীয়পার্টি ছেড়ে কাজী জাফরের জাতীয় পার্টিতে চলে যান। কার পক্ষ নিয়ে এ প্রবীন রাজনীতি নেতাদের দৌড় ঝাপ। রাজনীতির ইতিহাস থেকে এ নেতাদের শিক্ষা নেয়া উচিত বলে অনেকে মনে করে।

ইতোমধ্যে শহর আ’লীগের নতুন কমিটি গঠিত হয়। কল্লোল মৃণাল শিবিরে থাকায় এ কমিটি ও জেলা আ’লীগের কমিটিতে তার কোন জায়গা হয়নি। ইতিহাস তাই কথা বলে।

এদিকে প্রথমবারের মতো মুন্সীগঞ্জ ৩ আসনের এমপি হলেন এক সময়ের তুখর ছাত্র নেতা মৃণাল কান্তি দাস। এরপর মুন্সীগঞ্জের আ’লীগের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরনের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় আ’লীগের রাজনীতি ঢেলে সাজাতে মৃণাল দু’ভাইয়ের দীর্ঘ বছরের বিরোধ মিটিয়ে মহিউদ্দিন ও আনিসকে এক করে দেন। এটিই মৃনালের রাজনীতিতে কাল হয়ে দাঁড়ায় বলে অনেকে মনে করে। আম দুধের মিলন হলে আঠি বাইরে পরে যায়। মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাচনে আনিসের বিজয়ের পর আনিস মৃণালের কাছ থেকে দূরে সরে যায় বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

মুন্সীগঞ্জে আ’লীগের এ দশার কারণে এম ইদ্রিস আলী ও মমতাজ বেগম রাজনীতির হাল কিছুটা গুটিয়ে নিয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে জেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে জামাল হোসেন আগের অবস্থানে রয়েছে। ৯০’ দশকে জেলা ছাত্রলীগের তুখর ছাত্র নেতা গোলাম মাওলা তপন, মোয়াজ্জেম হোসেন ও জি এম মনসুরের স্থানীয় রাজনীতিতে কোন পদ পদবী নেই। এই তিনজন মৃণাল অনুসারি হিসেবে পরিচিত।

রাজনীতির শক্তির মহড়ার দাপটে এক মাসেও জেলা ছাত্রলীগের কমিটি এখনো ঘোষণা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এ কমিটিতে পদ পদবীতে মহিউদ্দিন ও মৃণাল সমর্থক নেতা আসতে চাচ্ছে।

বিক্রমপুর সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.