রিসোর্ট: সবুজে ঘেরা মেঘনা ভিলেজ

প্রবেশ পথ পেরিয়ে শান্ত ছিমছাম পরিবেশ। চারপাশের বাতাসে পাখির কলতান। গ্রামের মতোই সবুজ শ্যামল অপরূপ মায়াবী। কুটিরগুলো দেখতে অনেকটা নেপালি ঢঙের। গ্রামের মায়া ছেড়ে যাদের জীবন কর্মচঞ্চল শহরের গণ্ডিতে আটকা, তারা চাইলে রাতে আরাম কেদারায় বসে চাঁদনী দেখতে দেখতে ফিরে যেতে পারেন হারিয়ে যাওয়া কোনো শৈশব স্মৃতিতে। বিনোদন ও অবকাশ যাপনের জন্য রাজধানীর কাছেই মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়ায় এ ভ্রমণতীর্থ মেঘনা ভিলেজ হলিডে রিসোর্ট।

প্রবেশ মুখে ও অভ্যন্তরে দেখা মিলবে শিশুদের উপভোগ্য হাতির পাল, যুদ্ধরত ষাঁড়, ভল্লুক, বিশাল ডাইনোসর, বাঘ, হরিণ, সাপ-বেজির লড়াই, রাজহংসী, বাচ্চাসহ জিরাফের ভাস্কর্য, রয়েছে মিনি চিড়িয়াখানাও। চিত্রা হরিণ, বানর, লজ্জাবতী হনুমান, কালিম পাখি, খরগোশ, কোয়েল পাখি ও কুমির কী নেই এখানে।

বিনোদন ও অবকাশযাপনে পরিপূর্ণ আনন্দ পেতে আগতদের জন্য রয়েছে ফটোগ্রাফি, চিকিত্সা, লন্ড্রি, সুভ্যেনির শপ, নিজস্ব গাড়ি, বাংলা ও চাইনিজ খাবার, পিকনিক, বারবিকিউ ডিনারের ব্যবস্থা। শরীরটাকে একটু ঝালাই করে নিতে এর রয়েছে সুবিশাল দুটি খেলার মাঠ। তাই ব্যাট-বল নিয়ে মাঠে নেমে পড়তে পারবেন নির্দ্বিধায়। যারা মাছ ধরতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য রয়েছে মাছ ধরার ব্যবস্থাও। এমনকি নিজের ধরা মাছও তত্ক্ষণাত্ ঝলসে নিয়ে উদরপূর্তির সুযোগও আছে।

এ রিসোর্টের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো, এর ভেতরে আছে জামদানি ও মিষ্টির কারখানা। দেখে নিতে পারেন কীভাবে তৈরি হচ্ছে উন্নত মানের হরেক রকম মিষ্টি দই। জিভে জল এসে গেলে বাড়ি নিতে কিন্তু ভুল করবেন না। আর জামদানি বুনন দেখে নিয়ে নিন পছন্দমতো কারখানা থেকেই। ঢাকা-চট্টগ্রাম অভিমুখের যেকোনো বাসে করে যেতে পারেন রিসোর্টে। আর এর খুব কাছেই আছে সোনারগাঁ জাদুঘর, তাজমহল, কুমিল্লার কোটবাড়ী। তাই মেঘনা ভিলেজ হলিডে রিসোর্ট অল্প সময়ে অনেক জায়গাই ঘুরে আসা সম্ভব।

বনিক বার্তা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.