মুন্সীগঞ্জ বিসিক কর্মকর্তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ

ওপর মহলের আর্শিবাদে বহাল তবিয়তে আছেন
মুন্সীগঞ্জ বিসিকের উপ-ব্যবস্থাপক (ডিএম) এস এম গোলাম ফারুককে নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিসিক চেয়ারম্যানের নির্দেশে স্ট্যান্ড রিলিজ হওয়ার পরও তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেননি। এ নিয়ে ভুক্তভোগী শিল্পনগরীর মালিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। তিনি দায়িত্ব না ছাড়ায় একই পদে বদলীকৃত মো. আলতাফ উদ্দিনও মুন্সীগঞ্জের বিসিকে যোগদান করতে পারছেন না। মুন্সীগঞ্জ শিল্পনগরীর মালিকদের কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগে বিসিক চেয়ারম্যানের নির্দেশে এস এম গোলাম ফারুককে স্ট্যান্ড রিলিজ করেন। গত ১০ সেপ্টেম্বর তার বদলী হওয়া বিসিক আঞ্চলিক কার্যালয়ে যোগদানের নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু তিনি যোগদান করেননি।

এদিকে, তার এ অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে মুন্সীগঞ্জ বিসিবের প্রমোশন কর্মকর্তা এবিএম আব্দুর রহমানও জড়িত বলে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের অভিযোগ। জানা গেছে, গত ৭ সেপ্টেম্বর বিসিক সচিব মুন্সীগঞ্জ বিসিকের উপ-ব্যবস্থাপক এস এম গোলাম ফারুককে গত ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জনস্বার্থে স্ট্যান্ড রিলিজ করেন এবং অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ প্রদান করেন। তাকে বিসিক আঞ্চলিক কার্যালয়ে যোগদানের নির্দেশ দেন। এ নির্দেশ পেয়ে পুনরায় এখানে বহাল থাকার জন্য এক মাসের সময় চেয়ে বিসিক চেয়ারম্যানের অনুমোদন ছাড়া বিসিক পরিচালক (উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ) তার সময় বর্ধিত করেন। কিন্তু সময় বর্ধিত ও এখানে পুনরায় স্ব-পদে থাকার চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে মুন্সীগঞ্জ বিসিক শিল্পমালিকদের অভিযোগ।

মুন্সীগঞ্জ বিসিকের শিল্পমালিকদের অভিযোগ, গত ২ বছর ধরে এস এম গোলাম ফারুক মুন্সীগঞ্জ বিসিকের উপ-ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিসিকে ইজারাকৃত জমি হস্তান্তর, নকশা অনুমোদন, রেজিস্ট্রেশন ও প্লট বাতিলের হুমকি দিয়ে অর্থ আদায় করে নিচ্ছেন। শিল্প মালিকদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ আদায় করে নেয়।

বিসিকে ব্রাদার্স টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক বাবুল আক্তার চৌধুরী জানান, বিসিক শিল্পনগরী করার জন্য সরকার ১৯৮৭-৮৮ সালে ২০ শতাংশ জমি আমার কাছ থেকে একুয়ার করে নেয়। ১০ শতাংশের একটি প্লটে ১০ কিস্তির মধ্যে ৭টি কিস্তির টাকা পরিশোধ করেছি। ইতোমধ্যে ইন্ডাস্ট্রিজের অধিকাংশ কাজও শেষ হয়েছে। আর্থিক অনটনে পড়ায় বাকি কাজ ও বাকি ৩টি কিস্তির মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য সময় চাওয়া হলে ডিএম আমার কাছে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। কিন্তু আমি কোন টাকা দেবো না। আমার পল্ট বাতিলের চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে মুন্সীগঞ্জ বিসিকের উপ-ব্যবস্থাপক এস এম গোলাম ফারুক বলেন, তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ বানোয়ান ও অসত্য।

তিনি বলেন, আমি আবেদন করে এক মাসের জন্য সময় বর্ধিত করে নিয়েছি। এরপর কর্তৃপক্ষ আমাকে এখানে রাখলে থাকবো, না হলে চলে যাবো।

মুন্সীগঞ্জ বার্তা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.