কেন মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়!

মামুন অর রশীদ: মানিক এখন হয়তো দূরতম প্রদীপ। জ্বলজ্বল নক্ষত্রকে কত আলোকবর্ষ দূর থেকে দেখলে তা মঙ্গলপ্রদীপের মতো সৌম্যরূপ ধারণ করে— তা অনুধাবন করা কষ্টকর নয়। বাংলাদেশী পাঠকসমাজ পাঠাভ্যাস ত্যাগ করেছে প্রায় সর্বাংশে, সাহিত্যপাঠকে নির্বাসন দিয়েছে আরো আগে; এখন কেবল তারাই পড়ে, যারা লেখে বা লেখার সাথে পরোক্ষভাবে সম্পর্কিত। যদিও সারা দুনিয়ায় এখনো ফিকশন রাইটাররা কিন্ডলের ভেতরে ঘুরে বেড়াচ্ছে আর আমরা আমাদের নক্ষত্ররাজিকে ম্রিয়মাণ করে রাখছি, আপন অজ্ঞতার চশমা চোখে দিয়ে, স্মার্টলি।

কিন্তু কথাকার মানিক প্রবল, অলঙ্ঘনীয়, অবশ্যপাঠ্য। কুবের-কপিলার রসায়নের ভেতর কলেজগামী কোমলমতিরাও বিহার করছে, শ্রেণীপাঠ্য বলে কি মানিক বেঁচে আছেন আমাদের মাঝে? নাকি প্রাগৈতিহাসিক, পুতুল নাচের ইতিকথার মধ্যে লুকায়িত মানববিজ্ঞানের সূত্রগুলো আপন ক্ষমতাবলেই বাঙালি পাঠককে পৃষ্ঠা-অক্ষরের জগতে ফিরিয়ে আনে বারবার। এর জন্য পাঠকের করুণা বা সিলেবাস নির্মাতা প্রশাসকের মুগ্ধতার প্রয়োজন নেই। আমরা মানিককে স্মরণ করব— বাংলা কথাসাহিত্যের বিস্তৃত ভূগোলে অগ্রগামী স্রষ্টা হিসেবেই। যারা মানিককে কেবল পদ্মানদীর মাঝি, পুতুল নাচের ইতিকথার মাধ্যমে পাঠ করতে চান, তাদের সাগর সেচে মুক্তো আনা এখনো বাকি আছে। ‘দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া’ বলে— এখনি মানিক কথাসাহিত্যে নিমজ্জন অনিবার্য। যারা চরিত্রাবিধানে পরাক্রমশালী হয়ে ঠাঁই নিয়ে থাকেন ক্যালেন্ডারের পাতা ধরে। এই ডাকাডাকির মধ্যে রয়েছে দায় মোচন অথবা কারুণ্য, কিঞ্চিত্ সম্মান প্রদর্শন। উপযোগবাদী এই সময়ে সাহিত্যকে আমরা আলস্য ও অবসরের বৈচিত্র্যসন্ধানী মনের বিক্ষিপ্ত মিডিয়ায় পরিগণিত করেছি। মানিক তাঁদের মতো নন। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় মগজ দিয়ে পাঠকের মগজকে শাণিত করেছেন, ব্রেইনস্টর্ম তুলেছেন পাঠকের চিন্তাজগতে।

অচ্ছুত নিম্নবর্গের মানুষকে উপন্যাসের জমিনে সংস্থাপন মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধান কৃতিত্ব। নিম্নবর্গকে নিয়ে কাজ করেছেন অনেক ঔপন্যাসিক, সাধারণত বাংলা ঔপন্যাসিকরা এসেছেন উচ্চমধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত এলিট সমাজ থেকে। এদের মধ্যে কিছু জমিদার শ্রেণীভুক্ত, কিছু বা ব্রিটিশ শাসন কাঠামোভিত্তিক বৃত্তিতে নিযুক্ত। ‘উপন্যাস লেখকরা পরনির্ভর এবং শাসকশ্রেণীর অংশীদার। এই মধ্যবিত্ত সম্প্রদায়ভুক্ত লেখকরা ইতিহাস, রোমান্স ও পরিচিত-পরিবেশ: এই তিন উত্স থেকে তাঁদের উপাদান সংগ্রহ করেন। তার বাইরেকার যে বিশাল নিরক্ষর দরিদ্র গ্রামীণ ভারতবর্ষের কোটি কোটি মানুষ, তাঁরা শিক্ষিত মধ্যবিত্ত লেখক ও পাঠকসমাজের কাছে অপরিচিত ও ধূসর অনামিকতায় আবৃত। এই বিশাল অপরিচিত জনসমাজের সুখ-দুঃখের অংশীদার হওয়া মধ্যবিত্ত লেখকের পক্ষে সুকঠিন। দারিদ্র্য আর মানবতার অপমান তাঁদের কাছে গল্প-উপন্যাসের রোমান্টিক উপাদান মাত্র’ (অরুণকুমার মুখোপাধ্যায়, কালের প্রতিমা, পৃ. ২২৫)। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় এই ধূসর অনামিকতায় আবৃত মানুষকে উপন্যাসপটে চিত্রিত করেছেন।

কথাসাহিত্যে মানিক বন্দ্যোপাধ্যয়ের কৃতিত্ব চিহ্নিত করতে হলে পেছনে ফিরে তাকাতে হবে। বাংলা উপন্যাসের সূচনালগ্নে বিশেষ করে সামাজিক নকশা এবং প্যারীচাঁদ মিত্র, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখের উপন্যাসে ‘নিম্নবর্গ’ কাহিনীর প্রয়োজনে ক্ষুদ্র অবস্থান লাভ করলেও, তাদের বিচ্ছিন্ন, দুর্বল ও সামঞ্জস্য বিধানের উপকরণ ছাড়া কোনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা যায়নি। মানিকই পদ্মানদীর মাঝিতে কল্পনা ও সৃষ্টিশীলতার অসীম ক্ষমতাবলে ‘নিম্নবর্গ’কে পরিবেশন করেন। এর পর থেকেই নাগরিক সভ্যতার করালগ্রাসে ম্রিয়মাণ আদিবাসী; ধর্মীয় বিবেচনায় নিচু জাত (শিডিউল কাস্ট), অর্থবিত্তের নিরিখে লাঞ্ছিত-বঞ্চিত ও দুর্বল মানুষগুলো উপন্যাসে স্থান পাওয়া শুরু করে। স্বল্প সময়ের মধ্যেই লেখকের হূদয়ধর্মের সঙ্গে যুক্ত হয় লেখকের বুদ্ধিবৃত্তি। চিন্তা ও কল্পনার গভীরতা দিয়ে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রবেশ করলেন নিম্নবর্গের জীর্ণ বাসগৃহে, কখনো কখনো অশান্ত অন্তর্লোকে। ফলে ক্রমেই উদ্ভাসিত হলো নিম্নবর্গের অন্তর্গত গভীর-বিস্তৃত সাংস্কৃতিক বিশ্ব, যা বাংলা উপন্যাসের জগেক করে তুলল বিস্তৃত ও সমগ্রতাসন্ধানী। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় এভাবে উপেক্ষিত নিম্নবর্গের প্রতি গভীর অনুসন্ধানী দৃষ্টি ফেললেন উপন্যাসের জমিনে এবং তাঁদের চারপাশের চেনাজানা সমাজে আর শতাব্দীব্যাপী অবহেলিত দুঃখে-সুখে মূক অখ্যাত নিম্নবর্গের প্রতি।

ব্যক্তিজীবনে অভিজাত এবং জন্মসূত্রে উঁচু জাতের বাংলা ঔপন্যাসিকরা নিম্নবর্গকে দূর থেকে পর্যবেক্ষণ করে তাদের নিয়ে গল্পকথা সৃষ্টি করেন। রবীন্দ্রনাথ নিজেই এ ব্যর্থতার স্বীকৃতি দিয়েছেন— ‘মাঝে মাঝে গেছি আমি ও পাড়ার প্রাঙ্গণের ধারে। ভিতরে প্রবেশ করি সে শক্তি ছিল না একেবারে (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ‘ঐকতান’, জন্মদিনে)।’ শৈলজানন্দের সঙ্গে ‘কয়লাকুঠি’ গল্পের প্রসঙ্গেও রবীন্দ্রনাথ এ কথা স্বীকার করেন, ‘আমরা দোতালার জানালা দিয়ে গরিবদের দেখেছি, তুমি তাঁদের সঙ্গে মিলে মিশে একাকার হয়ে তাদের সুখ-দুঃখ অনুভব করেছো গভীর ভাবে’ (রতনকুমার দাস ‘শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়: জীবন ও রচনাপঞ্জি’, পৃ. ৫৬৫)।

বুদ্ধির সাহায্যে নিম্নবর্গকে উপন্যাসে উপস্থাপন করেছেন মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়। নিম্নবর্গ চরিত্র সৃজনে তাঁর পদ্মানদীর মাঝি বাংলা উপন্যাসে একটি অভিনব সৃষ্টি। পদ্মানদীর মাঝির আগেও উপন্যাসে পার্শ্বচরিত্র সূত্র ধরে শ্রমজীবী মানুষের আত্মপ্রকাশের অবকাশ ঘটলেও কিন্তু শ্রমজীবী শ্রেণীর বাস্তব জীবনবোধ প্রাধান্য পেল পদ্মানদীর মাঝিতে। পূর্বের নিম্নবর্গ উপস্থাপন প্রক্রিয়াকে মানিক নিজেই সমালোচনা করেছেন। ‘শৈলজানন্দের গ্রাম্যজীবন ও কয়লাখনির জীবনের ছবি হয়েছে অপরূপ—কিন্তু শুধু ছবি হয়েছে। বৃহত্তর জীবনের সঙ্গে এর বাস্তব সংঘাত আসেনি। বস্তিজীবন এসেছে কিন্তু বস্তিজীবনের বাস্তবতা আসেনি— বস্তির মানুষ ও পরিবেশকে আশ্রয় করে রূপ নিয়েছে মধ্যবিত্তের রোমান্টিক ভাবাবেগ’ (লেখকের কথা, ১৯৫৭)। পদ্মানদীর মাঝির কেন্দ্রীয় চরিত্ররা সকলেই পদ্মাতীরের মাঝি, জেলে-ধীবর ও অন্যান্য নিম্নবর্ণের সম্প্রদায় ও এর সমস্ত ঘটনাই তাদের জীবন-নির্ভর। কুবের, কপিলা, মালা, রাসু, আমিনুদ্দী প্রমুখ নিম্নবর্গীয় সবাই এই জীবন নাট্যের কুশীলব। মানিক সচেতনভাবে উপন্যাসে নিম্নশ্রেণীর মানুষের জীবনবোধকে উপন্যাসে স্থান দিয়েছেন। ‘ঈশ্বর থাকেন ঐ ভদ্রপল্লীতে’— ঔপন্যাসিক নিজে ভদ্রপল্লীতে বাস করে এ উক্তি করছেন। বুদ্ধি ও চিন্তার সারবত্তা দিয়ে নিম্নবর্গের ব্যক্তিজীবনের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছেন।

প্রাগৈতিহাসিক গল্পের ভিখু নিম্নবর্গেরও নিম্নতর, এই গল্পের মাধ্যমে ভারতবর্ষীয় শ্রেণীসংঘাত নয় বরং ব্যক্তিমানুষের বৈকল্য ও স্বাভাবিকতার দ্বন্দ্বকে উন্মোচন করতে চেয়েছেন। ফ্রয়েডীয় মনোসমীক্ষণকে সাহিত্যে অবলোকন বিংশ শতাব্দীর প্রথম পাদে অত সহজ ছিল না। একথা নিঃসংশয়ে বলা যায়, মানিকের প্রায় সকল সৃষ্টি বিশ্বমানের। ভিখুর লালসা ও কামনাকে অঙ্কন গড় কথাকারের পক্ষে সম্ভব নয়। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ভিখুর অন্তর্লোকে প্রবেশ করে দেখেছেন মানবমনের চাওয়া ও বৈচিত্র্য-অভিসারী গন্তব্যকে। সে কারণে প্রবাদসম উক্তি করেছেন: ‘পায়েনি তুই ব্যথা পাস পাঁচী’। এক ভয়ঙ্কর ডাকাতও খুনের মাধ্যমে লুট করা প্রেমিকার প্রতি দরদি ও মানবিক হয়ে উঠতে পারে। মানুষের মনের অতল গহ্বরে ডুব দিয়ে ফ্রয়েডের তত্ত্বের উত্কৃষ্ট প্রয়োগ দেখিয়েছেন সাহিত্যে। মন বর্ণনা করতে গিয়ে প্রায়ই স্মরণীয় সব চরণের অবতারণা করেছেন, যা একাধারে কাব্যিকতায় মোহমুগ্ধকর। প্রাগৈতিহাসিক গল্পের শেষ লাইনে মানবজীবনের অবচেতন মনের দার্শনিক সত্যকে উদ্ভাসিত করেছেন: ‘কিন্তু যে ধারাবাহিক অন্ধকার মাতৃগর্ভ হইতে সংগ্রহ করিয়া দেহের অভ্যন্তরে লুকাইয়া ভিখু ও পাঁচী পৃথিবীতে আসিয়াছিল এবং যে অন্ধকার তাহারা সন্তানের মাংসল আবেষ্টনীর মধ্যে গোপন রাখিয়া যাইবে তাহা প্রাগৈতিহাসিক, পৃথিবীর আলো আজ পর্যন্ত তাহার নাগাল পায় নাই, কোনোদিন পাইবেও না।’ কেবল সামষ্টিক সমাজ বা শ্রেণী চেতনা নয়, ব্যক্তির গহিন অন্ধকারেও মানিক ডুব দিয়েছেন অসংখ্যবার। কথাকার মানিকের এ আরো একটি সফলতা। জনপ্রিয় পুতুল নাচের ইতিকথায় শশী-কুসুম সম্পর্ককে শারীরবৃত্তীয় জটিলতা থেকে ঊর্ধ্বে নিয়ে দেখিয়েছেন, মন মানুষের জটিলতার কেন্দ্র, শরীর কেবল বাহ্যিক আবরণ। কুসুমের অনুবেদনে উঠে আসে যে মানুষ শেষ পর্যন্ত মনের বৈচিত্র্য অন্বেষণের নিকট পরাজিত: ‘স্পষ্ট করে ডাকা দূরে থাক, ইশারা করে ডাকলে ছুটে যেতাম তখন। আজ হাত ধরে টানলেও আমি যাব না। কেন যাব? লাল টকটক করে তাতানো লোহা ফেলে রাখলে তাও আস্তে আস্তে ঠাণ্ডা হয়ে যায়, যায় না? সব ভোঁতা হয়ে গেছে ছোটবাবু। লোকের মুখে মন ভেঙে যাবার কথা শুনতাম; অ্যাদ্দিনে বুঝতে পেরেছি, সেটা কী।’ দেবদাস-পার্বতীর পাঠক যখন শরত্চন্দ্রের চরিত্রদের অনুকথনে-অনুবর্তনে ক্লান্ত তখনই জীবনকে দেখার বৈজ্ঞানিক নির্মোহ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে হাজির হলেন। তাই তার শশী ইচ্ছে করলেও নিজের ভুবন ও বৃত্ত ভাঙতে পারে না।

আমাদের মধ্যে একটি সাধারণ বিশ্বাস জন্মেছে যে, সাহিত্যের যেকোনো প্রবণতা প্রথমে পশ্চিমে জনপ্রিয়তা পাবে। তার পর প্রশান্ত মহাসাগর ও অতলান্তিকের ঢেউ পেরিয়ে ভারতবর্ষে দারুণ ফেনিল গর্ব নিয়ে আছড়ে পড়বে। এই ধারাবাহিকতায় আধুনিক সাহিত্য বিশেষ করে কবিতা-উপন্যাসের যেকোনো প্রবণতাকে ধরে নেয়া হয়, পশ্চিমের পর পূর্বে তথা উপনিবেশিত অঞ্চলে জনপ্রিয়তা পাবে। এই অভ্যাসবশত আলব্যের কামু দ্বারা প্রভাবিত মানিক— এমন একটি মিথ চালু হয়েছিল। কিন্তু মানিকের শশী কামুর রিও-এর পূর্বজ, তদ্রুপ গাওদিয়ার সংকট ওরানের চেয়ে আগের, মূলত মানিকই পথিকৃত্। পুতুল নাচের ইতিকথা আলব্যের কামুর উপন্যাসগুলোর পূর্বে লিখিত। অনুকরণের যে রীতি ও এই রীতির ফলে সমালোচকদের পূর্বানুমানের রীতি বাঙালিরা চালু করেছিল— তা মানিকের বেলায় খাটে না। মানিক ইউরোপকে কখনই অন্ধ অনুকরণ করেননি। তার সাহিত্য বিশ্লেষণ করতে গেলে হয়তো অস্তিত্ববাদ, মার্ক্সবাদ, সাইকো-অ্যানালাইসিস প্রভৃতি প্রপঞ্চকে ডেকে আনতে হয় বটে, তবু মানিক স্বনির্ভর, মৌলিক, আপন শক্তিতে জ্বলছেন। এর কারণ মানুষের দেখার দৃষ্টিভঙ্গি। কেন লিখি এই প্রশ্নের জবাবে তাঁর স্পষ্ট উত্তর: লেখা ছাড়া অন্য কোনো উপায়েই যেসব কথা জানানো যায় না, সেই কথাগুলো জানাবার জন্যই আমি লিখি। সাহিত্যের যে দায় লেখককে ফুল-নদী-পাখি থেকে বিমুখ করে মানুষের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়, মানিক তার সবটাই পূর্ণ করেছেন কথার বয়নে।

মানিক তাই বিবরণধর্মী কথাকারদের বিপরীতে নিঃসঙ্গ দাঁড়িয়ে আছেন। জীবনকে যে সরল মুকুর ছাড়াও দেখা যায়, অসংখ্য অবতল-উত্তল দৃক ছাড়াও অবচেতনের আরেক দুনিয়ার মাধ্যমে চরিত্রেরা নিয়ন্ত্রিত হতে পারে, মানিকের মতো এত স্পষ্ট করে আর কেউ অঙ্কন করেননি। ক্রমাগত ভার্চুয়াল সার্ফিংয়ের জগতে পাঠকেরা যখন সাহিত্যের অসংখ্য বিকল্পের মধ্যে হাতড়ে বেড়ান জীবনের প্রতীতি, তখনই ক্যালেন্ডারের পাতা বদলানোর অজুহাতে হলেও ঠিকই স্মরণ করতে হয় মানিক-নক্ষত্রকে। এই নক্ষত্র আমাদের আলোকিত করে যাচ্ছে শতাব্দী পেরিয়ে।

বনিক বার্তা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.