জাপান: বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস

রাহমান মনি: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালন করেছে জাপান শাখা আওয়াম লীগ। বঙ্গবন্ধুর ৪৪তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে জাপান শাখা আওয়ামী লীগ এক আলোচনা সভার আয়োজন করে।

জাপান শাখা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আসলাম হিরার সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সভাপতি সালেহ্ মো. আরিফ।

দিবসটির তাৎপর্যে বক্তব্য রাখেন চৌধুরী রহমান লিটন, মো. সোহেল রানা সোহেল, মো. সেলিম, আব্দুল কুদ্দুস, আব্দুর রাজ্জাক, মোল্লা আলমগীর, সিদ্দিকুর রহমান ভূইয়া, মাসুদ আলম, মোল্লা অহিদুল ইসলাম, মো. জাকির হোসেন জোয়ার্দার, মাসুদুর রহমান, সনত্ বড়–য়া, সালেহ মো. আরিফ প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জন্যই কেবল নয়, বাঙালি জাতির বিশেষ একটি দিন। সেই দিন যদি বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশে ফিরে না আসতেন তাহলে স্বাধীন হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের ইতিহাস আজ ভিন্নভাবে হয়তো লেখা হতো। এমনকি পরাধীনতা থেকে মুক্তি পেলেও স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব দরবার থেকে স্বীকৃতি আদায় পেত কিনা সন্দেহ রয়ে যায়। একমাত্র বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ এবং দূরদর্শী নেতৃত্ব অতি দ্রুত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি আদায়ে সক্ষম হয়েছিল। ১০ জানুয়ারির পর থেকে বিশ্ব বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়া শুরু করে। এমনকি ১০ জানুয়ারি তৎকালীন ঢাকা বিমানবন্দরে ২০টি দেশের রাষ্ট্রদূত বা দূতাবাস প্রধানগণ উপস্থিত থেকে বঙ্গবন্ধুকে স্বাগত জানান। যার মধ্যে গ্রেট ব্রিটেন, ফ্রান্স, ইতালি, বেলজিয়াম, জার্মানির মতো শক্তিশালী দেশগুলোও ছিল।

১০ জানুয়ারি ১৯৭২ স্বদেশ ফিরেই জাতির জনক হিসেবে বঙ্গবন্ধু দেশ গঠনে কাজ শুরু করেছিলেন। অতি অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি ভারতীয় সৈন্য ফেরত পাঠিয়ে প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছিলেন। পৃথিবীর আর কোনো দেশেই স্বাধীনতার পর এত দ্রুত সময়ের মধ্যে মিত্রশক্তির সৈন্যদের সেই দেশ ছাড়া করার বা স্বদেশে ফেরত পাঠানোর নজির নেই। যেটা বঙ্গবন্ধু পেরেছিলেন। আর এ জন্যই তিনি বঙ্গবন্ধু হতে পেরেছিলেন। জাতির যোগ্য পিতা হিসেবেই জাতির হাল ধরেছিলেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা আরও বলেন, অকৃতজ্ঞ বাঙালি জাতি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে জাতির জনককে হত্যা করে ভেবেছিল বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধ্বংস করা যাবে। তারই নীল নকশা হিসেবে পরবর্তীতে রাজাকারদের গাড়িতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা ওড়ানোর মতো দুঃসাহসও তারা দেখিয়েছে। কিন্তু তারা বুঝতে পারেনি যে, বঙ্গবন্ধুর একজন আদর্শের সৈনিক বেঁচে থাকলেও বাংলার মাটিতে রাজাকারদের জাতীয় পতাকা ওড়ানোর দুঃসাহসের বিচার করে ছাড়বেই। বঙ্গবন্ধুর তনয়া, জননেত্রী শেখ হাসিনা আজ তা সম্ভব করেছেন। বাংলার মাটিতে রাজাকারদের বিচার করে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়ে কিছুটা হলেও শহীদদের ঋণ মুক্ত করেছেন।
বক্তারা বলেন, জাতি আজ ঋণ মুক্ত হলেও স্বাধীনতার বিরোধীরা থেমে নেই। নানাভাবেই তারা তাদের কুচক্র চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের এই কুচক্র মোকাবিলা করে কালো হাত ধ্বংস করতে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয় আলোচনা সভা থেকে।

সাপ্তাহিক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.