পাল্টে যাচ্ছে ভিটে হারানো মানুষের জীবন-জীবিকা

পদ্মা সেতু নির্মাণকাজে দুর্বার গতি
পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে। যেদিকেই চোখ যায়, শুধুই নির্মাণযজ্ঞ। এতে পাল্টে যাচ্ছে সেতু এলাকার মানুষদের জীবন-জীবিকার ধরন। প্রকল্প এলাকায় ভিটে হারানো মানুষগুলোর ঠিকানা হচ্ছে পুনর্বাসন কেন্দ্রে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের প থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে ভিটেহারা মানুষকে। তবে ক্ষতিগ্রস্তরা বলেছেন, পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা পেলেও নিরাপত্তাহীনতা এবং দীর্ঘ মেয়াদে জমির মালিকানা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাজ করছে তাদের মধ্যে।

পদ্মার মাওয়া ও শিমুলিয়া ঘাটের পাশেই কুমারভোগ পুনর্বাসন কেন্দ্র। যতটা ভেতরে প্রবেশ করা যায়, চোখে পড়ে নতুন এক পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা। মানুষগুলোর কারো ভিটে, জমি কিংবা ফসলি জমি গেছে পদ্মা সেতু প্রকল্পে। পরিবর্তে তাদের পছন্দমতো পুনর্বাসন কেন্দ্রে মিলেছে প্লট এবং নগদ অর্থ। সে টাকায় তাদের কেউ কেউ টিনের ঘর তুলেছেন, কেউ কেউ বানিয়েছেন বহুতল ভবন। সরকারি উদ্যোগে গড়ে তোলা হয়েছে মসজিদ ও প্রাথমিক বিদ্যালয়। দেওয়া হয়েছে পানি ও বিদ্যুতের সংযোগ। আগের সেই চেনা পরিবেশ ও স্বজন ছেড়ে নতুন এলাকায় নতুন জীবনে অভ্যস্ত হতে শুরু করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

কুমারভোগ এলাকায় শিশু-কিশোরদের জন্য স্থাপিত স্কুলে রয়েছে সব ধরনের সুবিধা। তবে, এখনো চালু হয়নি সেটা। এছাড়া এখানে আসার ৩ বছর পর জমির দলিল দেওয়ার কথা থাকলেও সেটা এখনো পাননি তারা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্প শেষ হয়ে গেলেও এখানকার মানুষদের কর্মসংস্থানের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা প্রকল্পের কাজ শেষ করার পরও পুনর্বাসন কাজ চালিয়ে যাব। এখানকার বাসিন্দাদের জীবন-মান যেন উন্নত হয়, মানুষ যেন গরিব না হয়ে যায়, তার ব্যবস্থা আমরা করব। প্রয়োজনে তাদের প্রশিণ ও ঋণ দেওয়া হবে। আমাদের কাজ সেতুর কাজ শেষ হওয়ার পরও চলবে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পুরো পদ্মা সেতু প্রকল্পের সাতটি কেন্দ্রে দুই হাজার ৬৩৫টি পরিবারকে পুনর্বাসন করার কথা। এখন পর্যন্ত করা হয়েছে ১৬শ পরিবারকে। তিপূরণ বাবদ বাজেট ধরা হয়েছে প্রায় আড়াইশ কোটি টাকা।

এদিকে নদী শাসনসহ অন্যান্য কাজ এগিয়ে চলছে। পদ্মা নদীর ভাঙনপ্রবণ দুই তীর শান্ত করতে চলছে বিশাল আয়োজন। যে নদীটি প্রতি বছর কিছুটা সরে যাচ্ছিল তার গতিপথ রায় পরিকল্পিতভাবে চলছে নদী শাসন প্রক্রিয়া। সাড়ে সাত কোটি ব্লক ব্যবহার করা হবে এখানে।

নতুন খবর হচ্ছে, পদ্মা সেতুতে ম্যানেজমেন্ট সাপোর্ট কনসালট্যান্ট নিয়োগ করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের ‘হাই পয়েন্ট রেন্ডেন্ট’ নামের পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটি পুরো পদ্মা সেতুর কাজ তদারকি করবে। প্রতিষ্ঠানটিতে যুক্তরাজ্য ছাড়াও জাপান এবং বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞ রয়েছেন।

মাওয়ার পদ্মা সেতুর নদী শাসনের ড্রেজিং সম্পন্ন হয়েছে। অপসারণ করা হয়েছে এক মিলিয়ন (১০ লাখ) ঘনমিটার বালু। এখন জাজিরা পয়েন্টে চলছে ড্রেজিং। ড্রেজিংয়ের বালু রাখা হচ্ছে পাইনপাড়া চরে। পানির নিচে থাকা এই চর এখন ফসল উপযোগী হবে। এখানেও এক মিলিয়ন ঘনমিটার বালু অপসারণ হবে।

আমাদের সময়

Comments are closed.