ল’ কলেজের সোয়া কোটি টাকা আত্মসাত!

মুন্সীগঞ্জ ল’ কলেজের অডিট কমিটি তহবিলের সোয়া কোটি টাকা আত্মসাতের তথ্য উদঘাটন করেছে। তবে এ সোয়া কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী মহল ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অডিট কমিটির প্রতিবেদন মিথ্যা দাবী করে পাল্টা আভ্যন্তরীন অডিট কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মুন্সীগঞ্জ ‘ল’ কলেজ পরিচালনা কমিটির নির্দেশে কলেজের হিসাব নিরীক্ষার জন্য শিক্ষক প্রতিনিধি এ্যাডভোকেট রাধাকৃষ্ণ শীল ও শিক্ষক এ্যাডভোকেট মো. দেলোয়র হোসেনের সমন্বয়ে দুই সদস্য বিশিষ্ট অডিট কমিটি গঠন করা হয়। অডিট কমিটি এক প্রতিবেদন কলেজ পরিচালনা কমিটির কাছে দাখিল করে।

প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়- ২০১০ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত কলেজে এলএল.বি প্রথম পর্বে ৪১৪ জন পরীক্ষার্থীর নিকট থেকে ফরম ফিলাপ সহ ১৭ হাজার ৩শ’ টাকা হারে ৭১ লাখ ৬২ হাজারে ২শ’ টাকা এবং দ্বিতীয় পর্বে ২৩৮ জন পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে একই ভাবে ৪১ লাখ ১৭ হাজার ৪শ’ টাকা এবং ২০১৫ বর্ষে প্রথম পর্বে ৭৪ জন ও দ্বিতীয় পর্বে ৮৭ জন ছাত্রছাত্রী ভর্তি বাবদ যথাক্রমে ৫ লাখ ৫৬ হাজার টাকা ও ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা সর্বমোট ১ কোটি ২৩ লাখ ৯৫ হাজার ৬শ’ টাকা আদায় করা হয়। কিন্তু তার পুরোটাই লোপাট করা হয়েছে। এমন কি, ছাত্রছাত্রীদের নিকট সরবরাহকৃত আদায় রশিদের সঙ্গে সংরক্ষিত রশিদের মুড়ি ও আদায়কৃত টাকার পরিমানের কোন মিল নেই। একই সঙ্গে একই নম্বরে একাধিক রশিদ বই ছাপিয়ে ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে বেশি বেশি টাকা আদায় করে। অডিটকালে কম টাকা আদায় দেখানো রশিদ উপস্থাপন করা হয়। আদায়কৃত টাকার সকল তথ্য বিনষ্ট করা হয়েছে বলেও অডিট কমিটি নিশ্চিত হয়েছে।

এ অডিট প্রতিবেদন পর্যালোচনার জন্য গত ৮ মার্চ কলেজ পরিচালনা কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কেরানী মজিবর রহমানের সহযোগিতায় আত্মসাৎকৃত এ বিপুল পরিমান টাকা গায়েব হওয়ার বিষয়ে কৈফিয়ত তলব করা হলে কলেজ অধ্যক্ষ এড. নুরুল ইসলাম সময়ের প্রয়োজন বলে জানান। পরে পরিচালনা কমিটি কর্তৃক চলতি মাসের মধ্যে হিসাব বুঝিয়ে দিতে অধ্যক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু কেঁচো খুড়তে গিয়ে সাপ বেরিয়ে পড়ার আশঙ্কাায় প্রভাবশালী মহলের তদ্বীরে তা ধামাচাপা দেওয়ার জোর চেষ্টা চলছে।

এ প্রসঙ্গে অডিট কমিটির অন্যতম সদস্য মো. দেলোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, টাকার অভাবে অনেক সময় আমরা শিক্ষকরা বেতন না নিয়েও রশিদে সই করে দিয়েছি। অথচ কলেজ তহবিলের সোয়া কোটি টাকার কোন হিসাব নেই। এমনকি ছাত্রছাত্রীদের নিকট সরবরাহকৃত আদায় রশিদের সঙ্গে সংরক্ষিত রশিদের মুড়ি ও আদায়কৃত টাকার পরিমানের কোন মিল নেই। একই সঙ্গে একই নম্বরে একাধিক বই ছাপিয়ে ছাত্রছাত্রীদের নিকট থেকে বেশি টাকা আদায়ের রশিদও হাজির করা হয়। তাছাড়া কেরানী মজিবর রহমান বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান করে। এ প্রসঙ্গে কলেজ অধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, অডিট কমিটি কাগজপত্র যাচাইবাছাই না করেই এ প্রতিবেদন প্রদান করেছে। পুনঃনিরীক্ষার জন্য পরে অভ্যন্তরীন অডিট কমিটি গঠন করা হয়েছে, কাজ চলছে।

জনকন্ঠ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.