সরেজমিন সিরাজদীখান: বেপরোয়া ‘চার খলিফা’

‘কিয়ামতের নমুনা জানি। কিন্তু কমু না, দেখাইয়া দিমু’- ২০১৫ সালের ৩ নভেম্বর নিজের ফেসবুক আইডিতে এ স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন কৌশিক আহমেদ ইয়ামিন। এর আগে একই বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর ফেসবুকে তার স্ট্যাটাস ছিল, ‘পিপীলিকার পাখা গজায় মরিবার তরে।’ সাড়ে পাঁচ মাস ধরে এ ধরনের একাধিক স্ট্যাটাস দিয়েছেন মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলার কোলা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক ইয়ামিন। চেষ্টা করেও যার মর্মোদ্ধার করতে পারেননি সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। কিন্তু এই ‘কিয়ামতে’র নমুনা দেখা দেয় গত ১২ এপ্রিল। ওইদিন ইয়ামিন ও তার সহযোগীরা কুপিয়ে আহত করে কোলা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আসিফ হাসান হাওলাদারকে। পরে পুলিশ তাকে রাস্তা থেকে উদ্ধার করলেও চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়ে দেয়। গত রোববার জেলহাজতে মারা যান আসিফ।

গতকাল সোমবার মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলায় সরেজমিন অনুসন্ধানে গিয়ে আসিফের পরিবার, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আসিফ হত্যার পর ফেসবুকের ওইসব স্ট্যাটাস আমলে নিয়ে তারা নিশ্চিত, পরিকল্পিতভাবেই হত্যা করা হয়েছে আসিফকে। এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, এমপি সুকুমার রঞ্জন ঘোষের চার সহযোগী লিটু, রাকিব, জাহিদ ও রনি- যারা স্থানীয় পর্যায়ে পরিচিত এমপির ‘চার খলিফা’ নামে, তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সিরাজদীখানের মানুষ। তবে সুকুমার রঞ্জন ঘোষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সমকালকে বলেন, ‘আমি এমপি হওয়ার পর থেকেই একটি পক্ষ আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে আসছে। কখনও হত্যা, কখনও মাদক ব্যবসায় জড়িত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।’

সিরাজদীখানের পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে স্থানীয় পর্যায়ে দুই ধারায় বিভক্ত আওয়ামী লীগ- যার এক পক্ষে রয়েছেন মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের এমপি সুকুমার রঞ্জন ঘোষ, অন্যপক্ষে দলের সিরাজদীখান উপজেলা শাখার সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ। নিহত আসিফ উপজেলা চেয়ারম্যানের বিভিন্ন মিটিং-মিছিলে নিয়মিত উপস্থিত থাকতেন। তাই এমপি ও তার ঘনিষ্ঠরা ক্ষুব্ধ ছিলেন তার ওপর। এমপির কাছের লোক উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও যুগ্ম আহ্বায়ক জাহিদ শিকদার, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জহিরুল ইসলাম লিটু ও সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রনি চৌধুরী।

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক কৌশিক আহাম্মেদ ইয়ামিন ও সাবেক ইউপি মেম্বার নূরুল আমিনসহ কতিপয় সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে আসিফকে নির্মমভাবে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতরভাবে আহত করে। এর পর সিরাজদীখান থানার পুলিশকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে গুরুতর আহত আসিফকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

এমপি সুকুমার রঞ্জন ঘোষের পেছনে দাঁড়ানো ইয়ামিন (ডানে) ও লিটু (বাঁয়ে) – সংগৃহীত

চার খলিফার নিয়ন্ত্রণে উপজেলা: সিরাজদীখান উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নেই রয়েছে চার খলিফা- লিটু, রাকিব, জাহিদ ও রনির নিজস্ব ক্যাডার। উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নামজারি-খাজনা করতে গেলেই এ সিন্ডিকেটকে চাঁদা দিতে হয়। না দিলে কোনো জমি রেজিস্ট্রি হয় না। ইয়াবাসহ বিভিন্ন প্রকার মাদকের ব্যবসা থেকেও তারা আদায় করে নিয়মিত মাসোয়ারা। তাদের মাদক ব্যবসা, থানায় দালালি, ভূমি অফিস ও সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে চাঁদাবাজিতে অসহায় হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও। থানা থেকে আসামি ছাড়িয়ে নেওয়ার দালালি কার্যক্রম চালানোর অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

জহিরুল ইসলাম লিটু: সিরাজদীখান উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জহিরুল ইসলাম লিটু। বর্তমানে কোথাও কোনো পদে নেই তিনি। তবে সবাই জানে, এমপি সুকুমারের বিশ্বস্ত ক্যাডার তিনি। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের প্রতিটিতেই বিস্তৃত তার থাবা। গত ৩১ মার্চ সিরাজদীখান উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময় কেন্দ্র দখল করার দায়িত্ব নিয়ে একাধিক প্রার্থীর কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা আয় করেন লিটু। উপজেলার বাসাইল ইউনিয়নের ইমামগঞ্জ বাজারে লিটু ও তার বাহিনী সরকারি সম্পত্তি দখল করে দোকানঘর বানিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বেচে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এ রকম একাধিক ভূমি দখল, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের অভিযোগ রয়েছে লিটু ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে।

জাহিদ সিকদার: উপজেলার রশুনিয়া ইউনিয়নের সন্তোষপাড়া গ্রামের জাহিদ সিকদার স্কুলজীবন থেকেই পরিচিত বখাটে হিসেবে। ১৯৯৩ সালে এক মেয়েকে ধর্ষণ করে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন জাহিদ সিকদারসহ ধর্ষণকারীরা। এরপর দীর্ঘদিন জেলহাজতে থাকেন তিনি। পরে জামিনে বের হয়ে যুক্ত হন বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে জাহিদ সিকদার স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। পরে সুকুমার রঞ্জন ঘোষ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর জাহিদ সিকদার তার আস্থাভাজন ক্যাডার হয়ে ওঠেন।

সম্প্রতি সিরাজদীখান বাজারের সরকারি সম্পত্তি দখল করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে পজিশন বিক্রি করে প্রায় ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন জাহিদ সিকদার। এ ছাড়া উপজেলা সদরের সিকদার মার্কেটে বিদ্যুৎ সংযোগ লাইন স্থাপনের সময় বাধা দিয়ে এক ব্যক্তির মধ্যস্থতায় হাতিয়ে নিয়েছেন মোটা অঙ্কের টাকা। সম্প্রতি প্রতিপক্ষ গ্রুপের হওয়ায় দিলবার হোসেনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে জাহিদ সিকদার ও তার বাহিনী।

রাকিবুল হাসান রাকিব: উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক রাকিব সম্প্রতি যমুনা মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির নামে হাতিয়ে নিয়েছেন কয়েক কোটি টাকা। উচ্চ মুনাফার কথা বলে পাঁচ শতাধিক সদস্যের কাছ থেকে পাঁচ হাজার থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ নয় লাখ টাকাও জমা নেন তিনি। উপজেলার চালতিপাড়া গ্রামের নুরুজ্জামানের কাছ থেকে নয় লাখ টাকা, ফজলুল হকের কাছ থেকে চার লাখ, করিম মিয়ার কাছ থেকে চার লাখ টাকা তোলেন তিনি। এভাবে সমিতির পাঁচ শতাধিক সদস্যের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা তুলে লাপাত্তা হয়ে যান তিনি। এখনও একাধিক সদস্য ফেরত পাননি সেসব টাকা।

রনি চৌধুরী: সিরাজদীখান উপজেলার কোলা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী নাসিরউদ্দিন চৌধুরী। তার ছেলে রনি চৌধুরী হত্যা, ছিনতাই ও সন্ত্রাসের একাধিক মামলার আসামি। নাসিরউদ্দিন চৌধুরী আওয়ামী লীগের স্থানীয় উপজেলা শাখার উপদেষ্টা ও কোলা ইউনিয়ন শাখার সভাপতি ছিলেন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে পরে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এমপি সুকুমার রঞ্জন ঘোষ ও বাবা নাসিরউদ্দিন চৌধুরীর আনুকূল্যে রনি খুব দ্রুতই জমি দখল, মাদক ব্যবসার দেখভালসহ বিভিন্ন অপকর্মে যুক্ত হন। কোলা ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার লস্করের মৃত্যুর পর রক্ষিতপাড়ায় তার নামে প্রতিষ্ঠিত ট্রাস্টের চার কোটি টাকা দামের দুই বিঘা জমি দখল করেন তিনি। জমি দখলের পথ সহজ করতে যুবলীগের নেতাকর্মী উজ্জ্বল লস্কর, শামীম লস্কর ও বাবুল লস্করের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করেন তিনি। একসময় শামীম লস্কর ‘মনের কষ্টে’ যুবলীগ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেন।

যুবলীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর খান বাবু সমকালকে বলেন, ‘যুবলীগের সম্মেলন চলার সময় রনির নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা পুলিশের সামনেই হামলা চালিয়ে চেয়ার-টেবিল ভাংচুর করে।’ ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার ইসমাঈল হোসেন অভিযোগ করেছেন, গত শনিবার রনির নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা কোলা গ্রামের বাড়িতে গিয়ে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঘেরাও করে হুমকি দেয়। সাংসদের ছত্রছায়ায় এরকম বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে রনি চৌধুরীর বিরুদ্ধে।

ছাত্রলীগ নেতাদের ভাষ্য: সিরাজদীখান উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পারভেজ চোকদার পাপ্পু সমকালকে জানান, এমপি সুকুমার রঞ্জন ঘোষের ক্যাডার লিটু ও জাহিদ বাহিনী ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মীদের প্রতিনিয়ত হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। এই বাহিনীর নেতৃত্বে সিরাজদীখান বাজার, ইমামগঞ্জ বাজারসহ ১৪টি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে ইয়াবা বিক্রির ব্যবসা গড়ে উঠেছে। উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সৈকত মাহমুদ সমকালকে বলেন, ‘আসিফ হাসান হাওলাদারকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। নিহত আসিফ মেধাবী শিক্ষার্থী ও এলাকায় ভদ্র ছেলে হিসেবে পরিচিত। তিনি জানান, ‘এমপি সুকুমার রঞ্জন ঘোষ সিরাজদীখানে উপজেলা ছাত্রলীগের পকেট কমিটি করতে চেয়ে ব্যর্থ হন। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি উপজেলা ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটিকে অনুমোদন দেওয়ায় এখনও এ কমিটিকে তিনি মেনে নেননি।’

সাংসদের বক্তব্য: এসব অভিযোগের ব্যাপারে সুকুমার রঞ্জন ঘোষ সমকালকে বলেন, ‘আমি এমপি হওয়ার পর থেকেই একটি পক্ষ আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে আসছে। কখনও হত্যা, কখনও মাদক ব্যবসায় জড়িত করার অপচেষ্টা করছে।’ আসিফ হত্যায় তার ঘনিষ্ঠদের সংশ্লিষ্টতা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কেউ ছাত্রলীগ, কেউ যুবলীগ করে, সব মিলিয়ে তারা দলীয় লোক। এরা কেউই আমার নিজস্ব লোক নয়। ইয়ামিন ও আসিফ এ দুজনকে আমি চিনি না।’ ‘আপনার সঙ্গে আসিফ হত্যার সঙ্গে অভিযুক্তদের একাধিক ছবিও দেখা যায়’- এ কথার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, ‘দেখুন রাজনীতি করতে গেলে অনেক মিটিং কিংবা আলোচনা সভায় অনেকেই ছবি তুলে থাকেন। আমার প্রতিপক্ষ আমাকে হেয় করতেই নানাভাবে ষড়যন্ত্র করছে।’ তিনি প্রশ্ন করেন, ‘আমার নাম ভাঙালে পুলিশ কেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় না?’ তিনি জানান, ‘শ্রীনগরে আমি মাদকের বিরুদ্ধে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছি। আমি অন্যায়ের সঙ্গে আপস করি না। কোনো সন্ত্রাসী কিংবা অপরাধীকে প্রশ্রয় দিই না।’

আসিফ হত্যার পর তার জানাজায় অংশ না নেওয়া প্রসঙ্গে সাংসদ সমকালকে বলেন, ‘পত্রিকায় দেখলাম নিহত ছেলেটির মা অভিযোগ করছেন যে, আসিফ হত্যায় নাকি আমি জড়িত। এমন অভিযোগের পর আমি কীভাবে সেই ছেলের জানাজায় অংশ নিই? আর আমি কাকে সান্ত্বনা দিতে যাব। এমন পরিস্থিতিতে যাওয়াটা ঠিক হবে? আমিও তো আমার নিরাপত্তাকে বিবেচনা করব।’

এ প্রসঙ্গে মুন্সীগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার (শ্রীনগর সার্কেল) মো. সামছুজ্জামান বাবু সমকালকে বলেন, হত্যার জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। হত্যার নেপথ্যে যত বড় শক্তিশালী ব্যক্তিই যুক্ত থাকুন না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। পুলিশ তার নিজস্বগতিতে তদন্তকাজ চালিয়ে যাবে।’

রাতে থানায় মামলা রুজু: এদিকে আসিফ হাওলাদারের মৃত্যুর একদিন পর গতকাল রাতে সিরাজদীখান থানায় আটজনকে আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ। তবে রাত ১০টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেফতার হয়নি। সিরাজদীখান থানার ওসি মো. ইয়ারদৌস হাসান জানান, আসামিদের গ্রেফতার করতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে।

আসিফ হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল: এদিকে সিরাজদীখানে গতকাল সোমবার দুপুরে উপজেলা মোড় থেকে থানা মোড় পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল করেছে উপজেলা ছাত্রলীগ। কোলা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আসিফ হাওলাদারের মৃত্যুর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনে কৌশিক আহামেদ ইয়ামিন, সিরাজদীখান থানার ওসি ইয়ারদৌস হাসান ও স্থানীয় এমপি সুকুমার রঞ্জন ঘোষসহ জড়িতদের বিচার চেয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে উপজেলা ছাত্রলীগ। মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সৈকত মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক পারভেজ চোকদার পাপ্পু। এর আগে দুপুর ১২টায় উপজেলা মোড়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বর্ধিত সভায় ছাত্রলীগ নেতা আসিফের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব আনা হয়।

হায়দার আলী ও কাজী সাবি্বর আহমেদ দীপু
সমকাল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.