এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ: সিরাজদিখানে ব্রীজ নির্মাণ কাজে অনিয়ম দুর্নীতি

মোঃ রুবেল ইসলাম: সিরাজদিখান উপজেলার কেয়াইন ইউনিয়নের মীর্জাকান্দা, মজিদপুর ও ভাড়ারিয়া গ্রামের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শাখা ইছামতি নদীর উপরে স্থানীয় সরকার টঘজ-এউচ এর প্রকল্পের আওতায় বরাদ্ধকৃত প্রায় ২কোটি ৬১ লক্ষাধীক টাকা ব্যায়ে ৫৪ মিঃ দীর্ঘ ও ৭.৩ মিঃ প্রস্থ ব্রীজ নির্মানে ঠিকাধারী প্রতিষ্টান এস সরকার (সরকার মোশারফ জয়েন্ট এন্টারপ্রাইজ) এন্টাপ্রাইজের নির্মান কাজ প্রায় ৫ দিন বন্ধ থাকার পর গতকাল রবিবার ভোর বেলায় তড়িগড়ি করে কাজ শুরু করলে এলাকাবাসী সাংবাদিক ও সকল মহলে অভিযোগ করেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ শাখা ইছামতি নদীর তীর দিয়ে বয়ে যাওয়া নিমতলা রাজানগর-শেখরনগর মীর্জাকান্দা সড়ক থেকে নব-নির্মিত ব্রীজটি প্রায় ৩ ফুট নিচু হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে প্রত্যান্ত অঞ্চলের কৃষক পরিবারের লোকজন নৌকা যোগে চলাচলে বিঘ্নতার সৃষ্টি হবে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে এলাকাবাসী এ নিয়ে ৩ দফা ব্রীজের কাজ বন্ধ রাখার জন্য সাংবাদিকদের নিকট অভিযোগ করেন।

এলাকাবাসী আরো জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট এলাকাবাসী গনস্বাক্ষর করে অভিযোগ দেয়ার পরেও টিকাধারী প্রতিষ্টান এস সরকার (সরকার মোশারফ জয়েন্ট এন্টারপ্রাইজ) এ ব্যাপারে কোন কর্ণপাত না করে নিচু করেই ব্রীজের কাজ শুরু করে। ফলে ক্ষিপ্ত এলাকাবাসী ব্রীজ না করে রাস্তা করার শ্লোগান দিতে থাকে। এ নিয়ে গ্রামবাসীর মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে স্থানীয় ইউপি সদস্য বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষের নিকট যোগাযোগ করবে।

এ ব্যাপারে এলাকার ইউপি সদস্য মেহের মেম্বার বলেন, ব্রীজটি অনেক নিচু হয়েছে। এই ব্রীজের নিচ দিয়ে বর্ষা মৌসুমে তিনটি ইউনিয়নের প্রায় ৫০হাজার লোকের নৌযান চলাচলে বিগ্ন হবে। ব্রীজটি মূলত যে কোন নৌযান চলাচলের ব্যাপক অসুবিধার সৃষ্টি করবে।

মজিদ পুর গ্রামের মজিবর রহমান বলেন, ব্রীজের নিচ দিয়ে যদি নৌকা’ই না চলে তাহলে এত টাকা খরচ না করে খাল ভরাট করে রাস্তাই সরকার বানিয়ে দিক। নাম প্রকাশে এক সরকারী চাকুরী জীবি বলেন, উপজেলা প্রকৌশলী আমিনূর ইসলাম এলাবাসীর সাথে কোন কথা না বলে ঠিকাধারী প্রতিষ্টান এস সরকার (সরকার মোশারফ জয়েন্ট এন্টারপ্রাইজ) যোগসাজস্বে মোটা টাকার ঘুষ খেয়ে তড়িঘরি করে ব্রীজের ঢালাই কাজ রবিবার সম্পন্ন করেছেন। আমরা প্রশাসন ও সাংবাদিকদের মাধ্যমে এই প্রকৌশলীর শাস্তি চাই। এমনকি নিম্নমানের জিনিস দিয়ে তৈরী হইতেছে প্রমান মিলবে তদন্ত করলে।

উপজেলা প্রকৌশলী আমিনূর ইসলাম জানান, পরিকল্পনা মোতাবেক সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে, তবে উচ্চতা একটু কম হয়েছে বলে তিনি মনে করেন না। এ ব্যাপারে ব্রীজ নির্মানে ঠিকাধারী প্রতিষ্টান এস সরকার (সরকার মোশারফ জয়েন্ট এন্টারপ্রাইজ) এন্টার প্রাইজের সাথে মোবাইল ফোনে বহুবার যোগাযোগ করলে তারা ফোন রিসিভ করেননি।

সময়ের কন্ঠস্বর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.