ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে এক অদৃশ্য ষড়যন্ত্র

আহসানুল ইসলাম আমিন: ১৯৪৮ সালের ৪ঠা জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ’ নিজেদের ইতিহাস-ঐতিহ্য-গৌরবগাঁথা রচনা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে। মহান মুক্তিযুদ্ধের কঠিন সময়ে এই ছাত্রলীগের প্রায় ১৭ হাজার নেতাকর্মী বুকের তাজা রক্ত বিলিয়ে দিয়ে লাল-সবুজের বাংলাদেশ বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালনে নিজেদের কালের স্বাক্ষী করে রেখেছে।

শুধু মুক্তিযুদ্ধেই নয়, ৫২’র ভাষা আন্দোলনেও এই ছাত্রলীগের অবস্থান ছিল অত্যন্ত সুসংঘঠিত।

স্বাধীনতার পরবর্তী প্রত্যেকটা দুঃসময়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ ও আওয়ামী লীগের পাশে ছিল অতন্দ্র প্রহরীর মতন।

ক্ষুধা-দারিদ্রমুক্ত, সাম্য-সমতা, অসাম্প্রদায়িক স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গঠনের জন্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছাত্রলীগ যেখানে নিজেদের শিক্ষা-দীক্ষা আর মেধার সমন্বয়ে নিজেদের এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, যেখানে দেশের প্রতিটি প্রতিকুলতার সামনে দাঁড়িয়ে স্বাধীন-সার্বভৌমত্বকে সুরক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ; সেখানে এই ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে এক অদৃশ্য ষড়যন্ত্র।

এ ষড়যন্ত্র নানামুখী। বিদেশি ষড়যন্ত্রের সাথে যুক্ত আছে স্বাধীনতাবিরোধী ও তাঁদের দোসর মহল।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে বিতর্কিত করা, ছাত্রলীগের মাঝে অনৈক্য এবং ভাঙ্গন সৃষ্টি করতে সক্ষম হলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে দূর্বল করা সম্ভব হবে। সরকারের ভাবমূর্তী নষ্ট করা এবং ইতিহাসের বিপরীত স্রোতে চলা সহজ হবে ইত্যাদি।

একের পর এক ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হত্যা করা হচ্ছে। নোয়াখালী জেলা ছাত্রলীগকর্মী ওয়াসিম-রাজিব-ইয়াছিনকে গুলি করে হত্যা, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছাত্রলীগ নেতা নাসিম আহমেদ সোহেলকে কুপিয়ে হত্যা, মুন্সিগঞ্জের কোলা ইউনিয়নের ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আসিফ হাসান হাওলাদারকে পুলিশ হেফাজতে হত্যা এবং চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নূরুল আজিম রনিকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে গ্রেফতার কোনোটাই কিন্তু ষড়যন্ত্রের বাইরের বিষয় নয় বলে প্রতীয়মান।

গ্রেফতারের পরেই নূরুল আজিম রনি তার চিঠিতে বলেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ মোতাবেক সারাদেশের তৃণমূল নেতাকর্মীরা যখন নৌকা প্রতীকের বিজয়ে প্রাণান্তর চেষ্টা চালাচ্ছেন ঠিক তখন আমি আজ অদৃশ্য প্রশাসনিক ষড়যন্ত্রের শিকার হলাম। আমি গর্ব করে বলতে পারি আমি ছাত্রলীগের যোদ্ধা। জীবনে কোনো অনৈতিক অন্যায় কিংবা অপরাধ করিনি। আমার অপরাধ আমি নেত্রীর নির্বাচনী প্রতীক নৌকাকে নির্বাচিত করতে এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুঁটে চলেছি।’

সবশেষে রণি কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘জামাত শিবির মুক্ত ক্যাম্পাস গড়ার যে শপথ নিয়েছিলাম তা থেকে এরকম ষড়যন্ত্রসহ আরও অনেক ষড়যন্ত্র হলেও আমাকে কখনও লক্ষ্যভ্রষ্ট করতে পারবেনা। শেখ হাসিনার প্রতি ভালোবাসা থেকে তোমরাও এরকম যুদ্ধ চালিয়ে যাবে। মনে রাখবা আমার প্রতি যে অন্যায় করা হয়েছে তার প্রতিবাদের ভাষা যেনো জনদূর্ভোগের কারণ না হয়।’

ছাত্র নেতা নূরুল আজিম রনির চিঠি থেকে এটাই স্পষ্ট, ষড়যন্ত্র এখন প্রশাসনিক ভাবেও ছড়িয়ে পড়েছে। তার প্রমাণ আমরা দেখেছি মুন্সিগঞ্জে আসিফ হাসান হাওলাদারকে পুলিশ হেফাজতে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করতে দেখে।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ ধারণ করতে হবে। গ্রুপিং রাজনীতি পরিহার করে নেতৃত্বে শেখ হাসিনা আর স্বপ্নে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। ওয়ার্ড কিংবা ইউনিয়ন পর্যায়ের ছাত্রলীগকর্মীদের প্রতি আন্তরিক হয়ে ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী ইউনিট গড়ে তুলতে হবে। আর তাহলেই সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে ভবিষ্যত নেতৃত্ব গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

ছাত্রলীগকে মূল সংগঠনের তাবেদার হয়ে টেন্ডাবাজিসহ অনেক কাজে লিপ্ত হওয়া যাবেনা। যখনি দেখেছি ছাত্রলীগের কিছু কর্মী এদিকে ঝুকে পড়ছে তখনি ধীরে ধীরে শুরু হয় নৈরাজ্য এতে কলন্কিত হয় বঙ্গবন্ধুর সোনার ছেলেদের ছাত্রলীগ।

নিজেদের মধ্যে হানাহানি বন্ধ করতে হবে। নাহলে বিরোধীরা সুযোগ নিবে। দলে ঐক্য বজায় রাখতে হবে। পকেট কমিটি বন্ধ করতে হবে। দলে স্বাধীনতার চর্চা করতে হবে। তাহলেই বঙাগবন্ধুর স্বাধীনতা বাস্তবে রুপ পাবে না হলে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ঘমুর ঘমুরে কাদবে। জেগে উঠ ছাত্রলীগ আপন আলোয়।

ক্রাইম ভিশন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.