রাষ্ট্র তোর লজ্জা হবে কবে?

আরিফ হোসেন: রুটি ভাজার তাওয়া চিনেন? মিলিয়ে দেখুন জাতি হিসাবে আমাদের অনুভুতিটাও আজ ওটার মতোই। তাওয়াটি পুরো না হয়ে যদি পাতলা হয় তাহলে যত তারাতারি গরম হয় আবার চুলা নিভিয়ে দিলে ঠিক তত তাড়াতাড়িই ঠান্ডা হয়ে যায়। আমাদের অনুভুতি গুলোও এখন ঐরকম ভাবেই তাড়াতাড়ি জেগে উঠে আবার মিলিয়ে যায় তারাতারিই। আর রাষ্ট্রও এটা আয়ত্ব করে ফেলেছে ভালোভাবেই। একটি ঘটনা ঘটবে কিছুদিন ভার্চুয়াল প্রতিবাদ হবে। তার চেয়ে যদি বেশী কিছু হয় বাস্তবে দু একটা মানববন্ধন,বা স্মারক লিপি দেওয়া। এর চেয়েতো আর বেশী কিছুনা। রাষ্ট্রের কাছে এগুলো তো থোরাই কেয়ার। একের পর এক শিশু নির্যাতন, ফাইভ মার্ডার, সেভেন মার্ডার, সাগর-রুনি হত্যা, হলমার্ক, ডেসটিনি, শেয়ার বাজার, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি, শিক্ষক নির্যাতন, তনু হত্যা মতো শত শত ঘটনা থেকে রাষ্ট্র শিখে নিয়েছে জাষ্ট কয়েকটা দিন একটু চুপ থাকলেই বাজিমাৎ। যেখানে রাষ্ট্র চুপ থাকে সেখানে সরকারতো চাইবেই এসব ঘটনার দাগ যেন খুব দ্রুত মিলিয়ে যায়। তা মলম দিয়ে হোক বা না দিয়েই হোক।

আর গৃহপালিত বিরোধী দল কিংবা সরকারের বাইরে প্রধান রাজনৈতিক দল! যাদের ভুমিকা থাকার কথা ছিল চিল্লাপাল্লা করে রাষ্ট্রের কান ঝালাপালা করে দেওয়া। গৃহপালিত বিরোধী দলের এসব নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় কোথায়? তারাতো স্বামী-স্ত্রীর বিরোধ নিয়েই ব্যাস্ত। আর প্রধান রাজনৈতিক দল? ঘটনা যাই হোক তাদের চাই নির্দলীয় সরকারের আন্ডারে নির্বাচন। অতিরিক্ত হলে চার পাচ দিন পর মিডিয়ার চাপাচাপিতে দুএকজন নেতার দশ সেকেন্ডর বিবৃতি।

এভাবেইতো চলছে। তার পরও প্রয়াত গোলাম মোস্তফার গাজী ট্যাংকের ওই বিজ্ঞাপনের মতো করেই বলতে হয়, ভাবতে ভালোই লাগে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে! ভুল নক্সায় ফ্লাই ওভার, বিশ দিনে তিনশ খুন, মাদক ব্যবসায়ীর হাতে সাংবাদিক লাঞ্চিত, ফাড়ি থেকে অস্ত্র লুট, শিক্ষককে প্রকাশ্যে কান ধরে উঠবস করানো। ওহ কান ধরে উঠবস! তাতে কি? যিনি করেছেন তিনিতো আইন প্রণেতা! আইন মানে কি বুঝেনতো? আইন প্রণেতা যা বলেন তা-ই আইন! এমপি সেলিম ওসমান নিজে উপস্থিত থেকে মৌখিক ভাবে আইন প্রণয়ন করে শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে কান ধরে উঠবস করিয়েছেন। যদি ওই শিক্ষক ইসলামের নামে অবমাননা কর কিছু করে থাকেন তার জন্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ ছিল। এমপির সামনেই ছিল পুলিশের বহর। কিন্তু এমপি তাকে পুলিশে সোপর্দ করেননি। কেন করবেন? তিনি যে আইন প্রণেতা!

এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় উঠেছে। সরকারদলীয় এমপিরাও প্রকাশ্যে সেলিম ওসমানেকে ওই শিক্ষকের কাছে ক্ষমা চাইতে বলেছেন। হয়েছে তার উল্টো। তাকে স্কুল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। সারাদেশে আমার মতো যারা শিক্ষকের সন্তান এঘটনায় তারা লজ্জায়, অপমানে , ঘৃনায় বার বার মারা যাচ্ছে।

প্রতিবাদ হচ্ছে সর্বত্র। নিজের কান ধরে প্রতিবাদ জানাচ্ছে লাখো লাখো মানুষ। কিন্তু রাষ্ট্র! নির্বাক।

রফিক আজাদ লিখেছিলেন—–

ভাত দে হারামজাদা
তা না হলে মানচিত্র খাব।

তেমনি প্রচন্ড ক্ষোভে বলে ইচ্ছে করে—–

ক্ষমা চা নইলে কানধর।
এতো মানুষ কান ধরে আছে
তবুও তোর লজ্জা হয়না।

আসলে রাষ্ট্র তোর লজ্জা হবে কবে?

***দয়াকরে রাষ্ট্র ও সরকারকে এক করে ফেলবেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.