সন্ত্রাসী পুলিশ তান্ডব ঘটনায় আতঙ্ক কাটেনি গ্রামবাসীর!

টঙ্গীবাড়ী উপজেলার পাঁচনখোলা গ্রামে সন্ত্রাসী ও লৌহজং থানা পুলিশ এর যৌথ তান্ডবের শিকার হওয়া গ্রামবাসীর মনের আতঙ্ক এখনো কাটেনি। মঙ্গলবার টঙ্গীবাড়ী থানা পুলিশ ওই এলাকায় গিয়ে ওই গ্রামের লোকজনকে বাড়ি ফিরার জন্য অনুরোধ করে তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বস্ত করলেও গ্রামে ফিরেনি অধিকাংশ লোকজন। এর আগে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে নিয়ম বহিভূর্তভাবে লৌহজং থানা পুলিশ ও সাথে সন্ত্রাসীরা ওই গ্রামে প্রবেশ করে ২ ঘন্টাব্যাপী তান্ডব চালায় ।

এ সময় গ্রামের ২৫টি ঘর ভাংচুর করে পুলিশ ও সন্ত্রাসীরা। লুন্ঠন করা হয় গ্রামবাসীর ট্রাঙ্কে রক্ষিত টাকা পয়সা ও সোনাদানা। ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয় ওই নিরিহ গ্রামবাসীর ঘর ও আসবাবপত্র। সন্ত্রাসী ও পুলিশের যৌথ হামলায় আহত হয় আলমগীর দাড়িয়া (৩০), আলি বেপারী (৪০), আজিম (৩৫) এবং পারুল বেগম (৩০) সহ প্রায় ১০জন গ্রামবাসী।

নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানাগেছে, লৌহজং থানার ওসি মোল্লা জাকির হোসেন টঙ্গীবাড়ীর পাচনখোলা গ্রামের ভূমি দশ্যূ নজরুল, লাল মিয়া গংদের কাছ হতে মোটা অঙ্কের টাকা খেয়ে তাদের স্বামী পরিত্যাক্তা বোন ফিরোজা বেগমকে বাদী বানিয়ে লৌহজং উপজেলার আটং নামের নদীগর্ভে বিলীন হওয়া জনবসতিহীন একটি গ্রামকে ঘটনাস্থল দেখিয়ে উপজেলার পাচনখোলা গ্রামের আঃ কাদির বেপারী, আজিজ বেপারী ও অজ্ঞাত ব্যাক্তি হারুন শিকদার এর নাম উল্লেখ করে ১৪৩/ ৪৪৭/৩২৩/৩২৪/৩৫৪/৩৭৯ ও ৫০৬ ধারায় একটি সাধারণ মামলা লৌহজং থানায় এফআইআর করেন।

ওই মামলার জের ধরে ওই ভূমিদশ্যূরা ঢাকা হতে ৩০/৩৫জন সন্ত্রাসী ও লৌহজং থানা পুলিশ নিয়ে পাচনখোলা গ্রামে সোমবার দুপুরে হামলা চালিয়ে নিরিহ গ্রামবাসীর প্রায় ২৫টি ঘর, আসবাপত্র ভাংচুর ও পাটখড়ি দিয়ে তৈরী একটি ঘরে অগ্নিসংযোগ করে। গ্রামবাসী জানান, পাচনখোলা গ্রামের মৃত মদন সেখের ছেলে বর্তমানে ঢাকায় অবস্থানকারী ভূমিদশ্যূ লাল মিয়া (৬৫), সিরাজ (৬২), নজরুল (৬০) দির্ঘদিন যাবৎ ওই গ্রামের কাদির বেপারী, মোয়াজ্জেম সর্দার, সামাদ খলিফা, শাহজাহান সেখ, আজিজ বেপারী, ওসমান বেপারী, সিদ্দিক বেপারীসহ অনেকের প্রায় ৩০ একর জমি জোর করে দখল করে রেখেছে এবং আরো অন্যান্য গ্রামবাসীর জমি দখল করার পায়তারা করছে।

এ নিয়ে ওই গ্রামবাসীর সাথে উক্ত ভূমিদশ্যূদের দির্ঘদিন যাবৎ বিরোধ চলে আসছিল। এর আগেও ওই ভূমি দশ্যূরা শরিয়তপুর জেলার জাজিরা হতে সন্ত্রাসী ভাড়া করে এনে তাদের জমি দখলের চেষ্টা করে। সন্ত্রাসী দিয়ে জমি দখলে ব্যার্থ হয়ে নিয়মবহিঃভূতভাবে লৌহজং থানা পুলিশ ও ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী এনে তাদের উপর এ হামলা চালায়। এ ঘটনায় ওই গ্রামের পারুল বেগম বাদী হয়ে সোমবার রাতে টঙ্গীবাড়ী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। টঙ্গীবাড়ী থানা সেকেন্ড অফিসার শাহালম জানান, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গ্রামবাসীদের বাড়ি ফিরে আসার জন্য বলেছি। কিছু কিছু গ্রামবাসী গাঁয়ে ফিরতে শুরু করেছে।

এ ব্যাপারে লৌহজং থানা ওসি মোল্লা জাকির হোসেন এর সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে সে জানান, আপনার চেয়ে অনেক সিনিয়র সাংবাদিকরা আমার বন্ধু। আপনিতো কালও আমার বিরুদ্ধে নিউজ করেছেন আগে আমি আপনার নিউজটা দেখে নেই পরে বলবো বলে লাইন কেটে দেন।

বিক্রমপুর চিত্র

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.