শিক্ষক–সংকটে পাঠদান ব্যাহত: মহিলা কলেজ

মুন্সিগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ তীব্র শিক্ষক-সংকটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত। এ কারণে পাঠদান ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ঘটছে ফল বিপর্যয়। কলেজ কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, মুন্সিগঞ্জ সদরের মধ্য কোর্টগাঁও এলাকায় ১৯৮৫ সালে ৮৫ শতাংশ জমিতে কলেজটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। কলেজটি জাতীয়করণ হয় ১৯৮৯ সালে। বর্তমানে কলেজের দক্ষিণ দিকে চতুর্থ তলায় বিশাল একাডেমিক কাম অফিস ভবন এবং উত্তর দিকে দ্বিতীয় তলায় আরও একটি ভবন রয়েছে। এর পশ্চিম ও পূর্ব কোণেও দ্বিতল ভবন আছে। কলেজটিতে উচ্চমাধ্যমিকের ২১টি বিষয় রয়েছে। এর মধ্যে ২০০৯ সালে খোলা হয় ১১টি বিষয়।

কিন্তু বর্তমানে এই ১১টি বিষয়ে শিক্ষক পদ শূন্য। আবার বিষয়গুলোর মধ্যে হিসাববিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা, উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন, উদ্ভিদবিজ্ঞান, ইতিহাস ও গণিত বিষয়ে এখন পর্যন্ত শিক্ষক পদ সৃষ্টিই করা হয়নি। শূন্য পদের অন্য বিষয়গুলো হলো সমাজকর্ম, ভূগোল, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, গার্হস্থ্যবিজ্ঞান ও প্রাণিবিজ্ঞান। কলেজে একটি আধুনিক গবেষণাগার (ল্যাব) থাকলেও ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট পদ নেই। বর্তমানে কলেজের উচ্চমাধ্যমিক প্রথম বর্ষ ও দ্বিতীয় বর্ষ মিলে ছয় শতাধিক ছাত্রী রয়েছে। শিক্ষক আছেন মাত্র ১০ জন। শিক্ষক-সংকটের কারণে ছাত্রীরা ফল খারাপ করছে। কলেজটিতে ২০১৩ সালে উচ্চমাধ্যমিকে পাসের হার ছিল ৩৬ শতাংশ, ২০১৪ সালে ৫৭ এবং গত বছর তা কমে দাঁড়ায় ৩৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

কয়েকজন ছাত্রী প্রথম আলোকে জানিয়েছে, শিক্ষক না থাকায় তারা প্রতিদিন কলেজে এসে বাংলা, ইংরেজি ও তথ্য যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ে ক্লাস করে চলে যায়।
কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষক শান্তা আক্তার বলেন, তীব্র শিক্ষক-সংকট চলছে। একটি বিষয়ে একটি মাত্র শিক্ষক পদ রয়েছে। অসুস্থ হয়ে তিনি না আসতে পারলে সেদিন সেই বিষয়ে ক্লাস নেওয়া বন্ধ থাকে।

জানতে চাইলে কলেজের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ মতিউর রহমান বলেন, ‘প্রায় এক বছর আগে আমি এ কলেজে এসেছি। এরপর থেকেই এসব সমস্যা মোকাবিলা করছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি। কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না।’

প্রথম আলো

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.