মুন্সিগঞ্জ-কাটাখালী খাল দখল করে বাড়ি নির্মাণ

তানভীর হাসান: মুন্সিগঞ্জ জেলা শহরের ঐতিহ্যবাহী মুন্সিগঞ্জ-কাটাখালী খাল দখল হয়ে যাচ্ছে। তিন কিলোমিটার দীর্ঘ খালের দুই কিলোমিটার ভরাট করা হয় ১৯৮৯ সালে। প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বাকি এক কিলোমিটার খালের অংশ দখল করে বাড়ি নির্মাণ করছেন।

বেশ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, খালের পাশের কয়েক শ গজের মধ্যেই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, সার্কিট হাউসসহ সরকারি গুরুত্বপূর্ণ সব কার্যালয় রয়েছে। তা সত্ত্বেও প্রশাসন নীরব। খাল দখল বন্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন।

মুন্সিগঞ্জ সার্কিট হাউস–সংলগ্ন চরশিলমন্দিতে মুন্সিগঞ্জ-কাটাখালী খাল দখল করে গড়ে তোলা স্থাপনা। গতকালের ছবি l

ভূমি কার্যালয়ের রেকর্ড পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ব্রিটিশ আমলেও মুন্সিগঞ্জ-কাটাখালী খালটি রেকর্ডভুক্ত আছে। কিন্তু ১৯৮৯ সালে ধলেশ্বরী নদীর মুখ থেকে নতুন কোর্ট পর্যন্ত খালের দুই-তৃতীয়াংশ ভরাট করা হয়। ভরাট করা অংশে জেলা শহরের প্রধান সড়ক নির্মাণ করা হয়। এর আগে খালের দক্ষিণ পাশের মুখ ধলেশ্বরীর সঙ্গে যুক্ত ছিল। এখন নেই। তবে উত্তর পাশের মুখ এখনো ব্রহ্মপুত্র নদের সঙ্গে যুক্ত।

প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন, ২০০০ অনুযায়ী, কোনো পুকুর, জলাশয়, নদী, খাল ইত্যাদি ভরাট করা বেআইনি।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, নতুন কোর্ট থেকে উত্তর দিকে প্রায় এক কিলোমিটার খাল ২০০৬ সালের পর থেকে বেদখল হতে থাকে। জেলা প্রশাসক কার্যালয়-সংলগ্ন সড়ক থেকে শাহাজাহান খাঁর সেতু পর্যন্ত খালের অংশ দখল করে পাঁচটি বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া শাহাজাহান খাঁর সেতুর অংশে খালের মুখ ভরাট করে সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। সড়কের অংশে পৌরসভা থেকে একটি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে।

সার্কিট হাউসের পাশে শীলমন্দি মৌজায় খালের অংশে দোতলা বাড়ি নির্মাণ করছেন সামছুজ্জামান নামের এক প্রবাসী। তাঁর শ্বশুর সদর উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের কর্মচারী তোতা মিয়া বলেন, ‘আমার মেয়ের জামাই বিদেশে থাকেন, তাই তাঁর পক্ষে বাড়ি নির্মাণকাজ আমিই দেখাশোনা করছি। তবে খালের জমিতে না, নিজেদের জমিতেই বাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে। বাড়ি নির্মাণের সময় ভূমি কর্মকর্তারা এসে দেখে গেছেন। খালের জায়গায় হলে তো তাঁরাই বাধা দিতেন।’

পাশেই কেব্‌ল ব্যবসায়ী হুমায়ুন কবির খালের ওপর বাঁশ পুঁতে ভরাট করেছেন। হুমায়ুন বলেন, ‘আমি এই সম্পত্তি অন্য একজনের কাছ থেকে কিনে ভরাট করেছি।’

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৮ সালের বন্যার আগে ও পরে এই খালে বড় বড় নৌকা চলাচল করত। আস্তে আস্তে খালটি ভরাট ও দখল হয়ে যায়। একসময় এই খালে সারা বছর পানি থাকত। কিন্তু এখন শুষ্ক মৌসুমে খালটিতে পানি থাকে না।

মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফজলে এলাহি বলেন, খালটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

মুন্সিগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হক বলেন, পরিবেশ রক্ষায় খাল অত্যন্ত জরুরি। শিগগিরই খালটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল হাসান বলেন, খালটি দখলমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর সঙ্গে ভূমি অফিস বা সরকারি কর্মচারীরা জড়িত থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রথম আলো

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.