মোল্লাকান্দিতে ককটেল বিস্ফোরণে দু’জন নিহত হওয়ার গুজব ॥ এলাকায় উত্তেজনা

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাকান্দির আশুরান গ্রামে মঙ্গলবার রাতে ককটেল তৈরীর সময় ককটেল বিস্ফোরণে স্বতন্ত্র প্রার্থী কল্পনার কর্মী বাবু মারা (২৮) যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এসময় আরও কয়েকজন আহত হয়। এদিকে, মঙ্গলবার ভোরে চরমুডুরিয়া গ্রামে নৌকা প্রার্থীর সমর্থক আকবর মাদবর (২৮) নিহত হওয়ার মিথ্যা খবর ছড়িয়ে প্রতিপক্ষকে হয়রানি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গুজবের ঘটনায় এলাকায় আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে টান টান উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

দুই দুলের সমর্থকদের মধ্যে চরম সংঘর্ষের আশংকায় ইউনিয়নের সাধারণ ভোটারদের মাঝে আতংক বিরাজ করছে। চরডুমুরিয়া গ্রামে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে নিশ্চিত করেছে এলাকাবাসী। পুলিশ এমন খবরে দিনভর এলাকায় তল্লাশি চালিয়েও কোনো কিছুর হদিস পায়নি। পুলিশ বলছে বিষয়টি গুজব। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য এমন মিথ্যা খবর প্রচার করা হয়েছে।

এ মিথ্যা খবরে বিভ্রান্ত হয়ে সংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারাও এমন কোনো আলামত পায়নি। তবে দু একটি অনলাইন মিডিয়ায় বিভ্রান্তকর মিথ্যা সংবাদ প্রচার করায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী মো.রিপন হোসেন। তিনি জানান, বোমা তৈরী করতে গিয়ে তাদের লোক মারা যাওয়ার ঘটনাটিকে চাপা দিতে আমার লোক মারা যাওয়ার অপপ্রচার চালাচ্ছে।

আমার ভোট ব্যাংক হিসাবে পরিচিত আমার গ্রাম চরডুমুরিয়া এলাকায় সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও বিভ্রান্ত করার ষড়যন্ত্র হিসাবে এসব খুব পরিকল্পিতভাবে করা হচ্ছে। আমার কোনো লোক বোমা তৈরী করতে গিয়ে হতাহত হয়নি। যাদের নাম এসেছে তারা বহলা তবিয়তে এলাকায় ব্যবসা বাণিজ্য করছে এবং ঘোরাফেরা করছে।

অপরদিকে, গতকাল সোমবার রাতে মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের আশুরান গ্রামে বোমা তৈরী করতে গিয়ে নিহত হয়েছে চরডুমুরিয়া গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে বাবু। এছাড়া শাহ আলম মাদবরের ছেলে আল-আমিনসহ কয়েকজন আহত হয়। তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী কল্পনার লোক বলে জানান স্থানীয়রা। এলাকায় বিষয়টি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পরে। তবে হতাহতের হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। এ বিষয়টিও নিশ্চিত করে বলতে পারেনি মুন্সীগঞ্জ সদর থানার পুলিশ।

এ ব্যাপারে স্বতন্ত্র প্রার্থী মহসিনা হক কল্পনার সাথে যোগাযোগ করে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। তিনি নির্বাচনী কাজের ব্যস্ততা দেখিয়ে ফোন রেখে দেন।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইউনুচ আলী বলেন, আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই প্রার্থীর লোকজন বিভ্রান্তকর তথ্য দিয়ে স্থানীয়দের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এসব ঘটনার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। ঘটনাগুলো গুজব বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। তবে, বিষয়গুলো আমরা খতিয়ে দেখছি। সত্যতা পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিক্রমপুর সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.