আওয়ামী লীগ বিদ্রোহীদের দাপট, জামানত হারালেন বিএনপির প্রার্থীরা

পঞ্চম ধাপের নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের দাপটে নৌকার ভরাডুবি হয়েছে। সদরের চরাঞ্চলের মোল্লাকান্দিতে নৌকার প্রার্থী জামানতও হারিয়েছেন। আবার বিএনপির প্রার্থীরা সবচে কম ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।শনিবার মোল্লাকান্দি ও আধারা কয়েকটি ভোট কেন্দ্রে গোলযোগ ছাড়া জেলার সদর ও গজারিয়ার ১২টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদের শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়া নির্বাচনে বিএনপি মুন্সীগঞ্জ সদরের আধারা, বিএনপির দুর্গ মহাকালী, বাংলাবাজার ও গজারিয়ার বালুয়াকান্দিতে কোনো প্রার্থী দেননি।এদিকে, একই ধাপের নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জ সদরের চরাঞ্চলের চরকেওয়ার ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের প্রার্থী আক্তারউজ্জামান জীবন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করেছেন।

গজারিয়া উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী আহাদ মাস্টারের বিরুদ্ধে গোপন লেনদেনের মাধ্যমে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেয়ার অভিযোগ ওঠেছে। এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মিজানুর রহমান প্রধান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করেছে।এ ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান উপজেলা যুবদলের সভাপতি আবদুল মান্নান দেওয়ান মনাকে বিরোধীতার কারণে বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি বলে তিনি জানিয়েছেন।

ওদিকে, শনিবার মুন্সীগঞ্জ সদরের ৫টি ও গজারিয়ার ৭টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে সদরে আওয়ামী লীগের ৩ টিতে আনারস প্রতীকের বিদ্রোহীরা জয়লাভ করেন। গজারিয়ার ৪টিতে বিদ্রোহীরা জয়লাভ করেন এবং একটিতে এগিয়ে রয়েছেন।

মুন্সীগঞ্জ সদরের মোল্লাকান্দিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রাথী মহাসিনা হক কল্পনা ১০হাজার ৪৬৮ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকার প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান মো. রিপন হোসেন ১ হাজার ২৪১ ও ধানের শীষের এসএম আতাউর রহমান মাত্র ১৪ ভোট পেয়েছেন।

শিলই ইউনিয়নে নৌকার আবুল হাসেম লিটন ২ হাজার ৭৪৮ ভোট পেয়ে পুনরায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।তার নিকটতম প্রতিদ্বচন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী এম সজল আহমেদ মিতালী (ঘোড়া) ২হাজার ৩৯৯ ভোট ও ধানের শীষের সাইদ বেপারী ২২৭ ভোট পেয়েছেন।আধারায় বিদ্রোহী প্রার্থী সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সামছুল কবির (আনারস) ৮হাজার ২৩১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান চেয়ারম্যান হাজী মো. সোহরাব হোসেন (নৌকা) পেয়েছেন ৭ হাজার ৩৬ ভোট।মহাকালীতে সাবেক চেয়ারম্যান বিদ্রোহী প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম বিরাজ (আনারস) ৫ হাজার ৮৯৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকার শহিদুল ইসলাম পেয়েছেন ৪ হাজার ৩২৪ ভোট।

বাংলাবাজারে নৌকার মো. সোহরাব হোসেন পীর ৫হাজার ৬০৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি সমর্থিত সাবেক চেয়ারম্যান হাজী গোলাম মর্তুজা পেয়েছেন ৬৪৩ ভোট।

গজারিয়া উপজেলায় মো. আবু তালেব ভুইয়া (নৌকা) ৬হাজার ৯৩৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ সমর্থিত বর্তমান চেয়ারম্যান মো. শফিউল্লাহ ১হাজার ১১৩ ভোট ও ধানের শীষ প্রতীকের মোশাররফ হোসেন পেয়েছেন ৪০১ ভোট। গুয়াগাছিয়ায় আবুল খায়ের মোহাম্মদ আলী খোকন (নৌকা) ৫হাজার ৬০৫ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক চৌধুরী (আনারস) পেয়েছেন ৩হাজার ৬৬৬ ভোট ও ধানের শীষের সফিউর রহমান সফিক মাত্র ৩০ ভোট।হোসেন্দীতে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি বিদ্রোহী প্রার্থী মাহবুবুল হক মজনু (আনারস) ৪হাজার ৬৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।এখানে আরেক বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মন্টু (ঘোড়া) ৩ হাজার ৩৮২ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় ও বর্তমান চেয়ারম্যান মনিরুল হক মিঠু (নৌকা) ২হাজার ৫৮২ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন।এ ইউনিয়নের ধানের শীষের প্রার্থী পেয়েছেন মাত্র ৪২ ভোট।টেঙ্গারচরে উপজেলা বিএনপির একাংশের সহসভাপতি এসএম ছালাহউদ্দিন (আনারস) ২হাজার ৫২২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।নৌকার বোরহানউদ্দিন দেওয়ান ২হাজার ১২৫ ভোট পেয়ে দ্বিতীয়, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী বর্তমান চেয়ারম্যান শাহজাহান খান (মোটরসাইকেল) ১হাজার ৯২০ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন। এখানে ধানের শীষের আব্দুল গাফ্ফার ৭৫৬ ভোট পেয়ে জামানত হারান। ইমামপুরের বর্তমান চেয়ারম্যান বিদ্রোহী প্রার্থী মোহাম্মদ মনসুর আহামেদ খান জিন্নাহ (ঘোড়া) ৩ হাজার ৭৬৮ ভোট পেয়ে পুনরায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। নৌকার মো. হাফিজুজ্জামান খান জিতু ৩ হাজার ৬৮১ ভোট পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন।পরাজিত জিতু খান উপজেলা চেয়ারম্যান রেফায়েতউল্লাহ খান তোতার ছোট ভাই।এ ইউনিয়নের ধানের শীষ প্রতীকের সাইফুল ইসলাম সিকদার ৫৩ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। বালুয়াকান্দিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মো. শহিদুজ্জামান (মোটরসাইকেল) ৪হাজার ৩০৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এখানে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান মর্জিনা বেগম ৩ হাজার ৩২৬ পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন।

এছাড়া ভরেরচর ইউনিয়নের একটি ভোট কেন্দ্র স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।এ ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী সাহিদ মো. লিটন (মোটর সাইকেল) ২ হাজার ১৭৪ হাজার ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন।তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ আলম শাহীন (টেবিল ফ্যান) ১ হাজার ৭৬৮ ভোট। এ ইউনিয়নের নৌকার প্রার্থী মুক্তার হোসেন ৯১১ ভোট ও ধানের শীষের প্রার্থী শফিকুর রহমান সিকদার ১ হাজার ১৬০টি ভোট পেয়েছেন।স্থগিত কেন্দ্রটিতে ১হাজার ৮৯০ ভোট রয়েছে।

পূর্ব পশ্চিম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.