শ্রীনগরে অপহরণের ঘটনায় আটক ২ জনকে ছাড়িয়ে নিলেন চেয়ারম্যান

ঢাকার নবাবগঞ্জ থেকে এক মাদক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার সময় সেনাসদস্য সহ ৫ জনকে শুক্রবার সকালে শ্রীনগর উপজেলার বাড়ৈখালী বাজারে গণ-ধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে ওইদিন রাতেই ২ জনকে ছাড়িয়ে নিয়েছেন বাড়ৈখালী ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম তালুকদার। শুক্রবার রাতেই বাকি তিন জনকে আসামি করে শ্রীনগর থানায় অপহরণ মামলা করেছেন ওই মাদক ব্যবসায়ী। চেয়ারম্যান বলছেন ভুল বোঝাবুঝির কারণে তাদেরকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছিল। অপরদিকে পুলিশ বলছে বাদীর অভিযোগ না থাকায় ওই দু’জনকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে ঢাকার নবাবগঞ্জের মুসলেম হাটি গ্রামের আমজাদ মাস্টারের ছেলে ওই এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী সুজন (৩৫)কে অপহরণ করে রাজধানীতে নিয়ে যাওয়ার সময় শ্রীনগর উপজেলার বাড়ৈখালী এলাকায় এক সেনাসদস্য সহ ৫ জনকে আটক করে এলাকাবাসী। এ সময় স্থানীয়রা অপহরণে ব্যবহৃত একটি সাদা রংয়ের প্রাইভেটকার, তিনটি ধারালো ছোরা, লোহার রড ও রশি আটক করে। স্থানীয় চেয়ারম্যান সেলিম তালুকদার উপস্থিত থেকে তাদেরকে পুলিশে সোপর্দ করেন। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, মাদক ব্যবসা নিয়ে বিরোধের জের ধরে শুক্রবার সকাল ৮ তার দিকে মুসলেম হাটি গ্রাম থেকে সুজনকে অপহরণ করে প্রাইভেট কারে তুলে ঢাকার দিকে রওনা হয়।

সকাল দশটার দিকে প্রাইভেটকারটি শ্রীনগর উপজেলার বাড়ৈখালী বাজারে পৌছলে সুজন চিৎকার শুরু করে। সুজনের চিৎকারে লোকজন এগিয়ে এসে প্রাইভেট কারটির গতি রোধ করে নবাগঞ্জের দুর্গাপুর গ্রামের ইমান আলীর ছেলে সফিউদ্দিন (২৮), একই গ্রামের আজিম উদ্দিনের ছেলে নাদিম (২৫), মোজাম্মেল হকের ছেলে সৌরভ (২৬), মোসলেম হাটি গ্রামের আবু সাঈদের ছেলে সেলিম (২৮), একই গ্রামের আনোয়ার খানের ছেলে দুলাল (২৭)কে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে । এদের মধ্যে সফিউদ্দিন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ল্যান্স কর্পোরাল হিসেবে কর্মরত রয়েছে বলে পুলিশ জানায়। ওইদিন রাত দশটার দিকে বাড়ৈখালী ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম তালুকদার থানায় এসে বাদীর সাথে সমঝোতা করেন এবং সেলিম ও সেনা সদস্য সফিউদ্দিনকে ছাড়িয়ে নেন।

এ ব্যাপারে সেলিম তালুকদার জানান, তারা সবাই মাদকাসক্ত। মাদক ব্যবসা নিয়ে তাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। তবে সফিউদ্দিন ও সেলিম অপহরণের সঙ্গে জড়িত নয়। শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ সাহিদুর রহমান বলেন, বাদীর অভিযোগ না থাকায় তাদেরকে মামলায় আসামি করা হয়নি।

মানবজমিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.