১৪ ইউপিতে বিদ্রোহীদের কাছে ডুবেছে ‘নৌকা’

মঈনউদ্দিন সুমন: মুন্সীগঞ্জ জেলার ১৪টি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচনে বিদ্রোহীদের কাছে ধরাশায়ী হয়েছেন ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। জেলায় আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী জয় পেয়েছে ৪৬ ইউনিয়নে।

বিএনপি তথা ধানের শীষ প্রতীক জয় পেয়েছে মাত্র চারটি ইউনিয়নে। বিএনপির বিদ্রোহী জয় পেয়েছে একটি ইউনিয়নে। ফলাফল স্থগিত আছে তিন ইউনিয়নে।

প্রথম ধাপে শুরু করে পঞ্চম ধাপ পর্যন্ত জেলার ৬৮টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষে বের হয়েছে এ পরিসংখ্যান।

জেলার সব ইউনিয়নে ভোট শেষে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের পরাজয়ের নেপথ্যে তিনটি কারণ উঠে এসেছে। প্রার্থিতা বাছাইয়ে ভুল সিদ্ধান্ত, দলের ভেতর কলহ ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামতকে গুরুত্ব না দেওয়া। এ তিনটি কারণেই আওয়ামী লীগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জেলায় সবচেয়ে আলোচিত ছিল গত ২৮ মে অনুষ্ঠিত পঞ্চম ধাপের ইউপি নির্বাচন। এই ধাপে জেলা সদর ও গজারিয়া উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে সাতটিতে ক্ষমতাসীন দলের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থীদের জয়লাভ করার চিত্র ছিল চোখের পড়ার মতো।

এই ধাপে জেলার গজারিয়া উপজেলার টেঙ্গারটর ইউনিয়নে বিএনপির বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী এস এম সালাহউদ্দিন জয়ী হয়ে আলোচনায় উঠে আসেন। সহিংসতার কারণে ৬৮টি ইউনিয়নের মধ্যে জেলা সদর, গজারিয়া ও টঙ্গিবাড়ী উপজেলার পৃথক তিনটি ইউনিয়নের নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত রয়েছে। এগুলো হলো সদরের রামপাল, টঙ্গিবাড়ীতে যশলং ও গজারিয়ার ভবেরচর ইউনিয়ন।

বিজয়ী হওয়া আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হচ্ছেন- জেলা সদরের মোল্লাকান্দি ইউনিয়নে মহসীনা হক কল্পনা, মহাকালী ইউনিয়নে রিয়াজুল ইসলাম বিরাজ, আধারা ইউনিয়নে শামসুল কবীর মাস্টার, পঞ্চসার ইউনিয়নে গোলাম মোস্তফা, গজারিয়া উপজেলার বালুয়াকান্দি ইউনিয়নে সহিদুজ্জামান জুয়েল, হোসেন্দী ইউনিয়নে মাহবুবুল হক মজনু, ইমামপুর ইউনিয়নে মনসুর আহমেদ জিন্নাহ, টঙ্গিবাড়ী উপজেলার আউটশাহী ইউনিয়নে জহিরুল হক, বেতকা ইউনিয়নে বাচ্চু শিকদার, শ্রীনগর উপজেলার কুকুটিয়া ইউনিয়নে বাবুল হোসেন, বাড়ৈখালী ইউনিয়নে কামাল হোসেন হাদি, আটপাড়া ইউনিয়নে আইয়ুব খান, হাষাড়া ইউনিয়নে সোলায়মান খান ও সিরাজদীখান উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নে কামাল হোসেন।

জেলায় বিএনপি তথা ধানের শীষ প্রতীকে জয়ী হওয়া চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হচ্ছেন- শ্রীনগর উপজেলার শ্যামসিদ্ধি ইউনিয়নে মো. রতন, সিরাজদীখান উপজেলার শেখরনগর ইউনিয়নে নজরুল ইসলাম, সদর উপজেলার বজ্রযোগিনী ইউনিয়নে তোতা মুন্সী ও টঙ্গিবাড়ী উপজেলার ধীপুর ইউনিয়নে আক্তার হোসেন মোল্লা।

গত ২২ মার্চ প্রথম ধাপে জেলার সিরাজদীখান উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে, ৩১ মার্চ দ্বিতীয় ধাপে জেলার শ্রীনগর উপজেলার ১৪টি ও সিরাজদীখান উপজেলার চারটি ইউনিয়নে, ২৩ এপ্রিল তৃতীয় ধাপে লৌহজং উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে, ৭ মে চতুর্থ ধাপে টঙ্গিবাড়ী উপজেলার ১২টি ও সদরের তিনটি ইউনিয়নে এবং গত ২৮ মে পঞ্চম ধাপে গজারিয়া উপজেলার আটটি ও সদরের ছয়টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

এনটিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.