অবশেষে জীবিতাবস্থায় উদ্ধার হলো ৭ বছরের নিখোঁজ বালক

বিভিন্ন জল্পনা-কল্পনা এবং উৎকণ্ঠা শেষ হয়ে জীবিতাবস্থায় উদ্ধার করা হলো ৭ বছরের বালক তানোওকা ইয়ামোতোকে। এক সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ থাকার পর হারিয়ে যাওয়া জঙ্গল থেকেই তাকে উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আর এতে অবসান ঘটে ৭ দিনের উৎকণ্ঠার।

ছেলের দুষ্টুমিতে অতিষ্ঠ হয়ে শিশুটির পিতা-মাতা জাপানের উত্তরাঞ্চলের হোক্কাইডো দ্বীপে ভালুকের বসবাস আছে এমন একটি জঙ্গলে ফেলে রেখে যায়। বেশ কিছুটা পথ অতিক্রম করার পর তাদের বোধোদয় ঘটে। ফিরে যায় ছেলেটিকে রেখে যাওয়ার স্থলে। কিন্তু ততক্ষণে সাত বছরের বালক তানোওকা আর সেখানে নেই। কিছুক্ষণ খোজাখুঁজির পর ভালুকের ভয়ে নিজেদের জীবনই বিপন্ন মনে করে ছেলেকে পাবার আশা ছেড়ে দিয়ে পুলিশের শরণাপন্ন হন।

প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে পুলিশের কাছে প্রকৃত সত্য গোপন করে জঙ্গলের পাশে বুনো সবজি তোলার এক ফাঁকে তানোওকা হারিয়ে যায় বলে অভিযোগ দায়ের করেন। পরে পুলিশের বিভিন্ন জেরার মুখে প্রকৃত সত্য অর্থাৎ ছেলেকে শাস্তি দেয়ার জন্যই এই কাজটি করেছেন বলে জানান। কারণ বারবার বারণ করা সত্ত্বেও শিশুটি পথচারীদের দিকে ঢিল ছুড়ে মারছিল। এছাড়াও তার দুষ্টুমিতে অনেকটা অতিষ্ঠ হয়ে উঠছিলেন বাবা-মা। তাতেই ক্ষুব্ধ হয়ে মা-বাবা শাস্তি দিতে সাত বছরের এই শিশুটিকে পাহাড়ি পথের ধারে একটি জঙ্গলের পাশে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেন। সেখানে আবার ভালুকের বসতি। একটু খুঁজলেই ভালুকের ত্যাগ করা সদ্য মলও দেখা মেলে।

বাবা-মার দেয়া ভাষ্যমতে গাড়ি চালিয়ে পাঁচ মিনিটের পথ অতিক্রম করার পর তারা সেখানে ফিরে যান এবং অনেক খোজাখুঁজির পরও তার সন্ধান না পেয়ে পুলিশের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হন।

খবরটি মিডিয়ায় আসার পর শিশুর অধিকার নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন শিশুটির বাবা-মা। সমালোচনার সুনামি বয়ে যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে। স্থানীয় মাধ্যমগুলোতে কঠোর সমালোচনা শুরু হয়। নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। উদ্বিগ্ন হয় জাপানবাসী। জীবিতাবস্থায় ফিরে পাবার জন্য সবাই প্রার্থনা করেন ইয়ামোতোর জন্য।

প্রথমে ১০০ পুলিশ ইয়ামোতোর খোঁজে নামে। পুরো এলাকা তারা তন্ন তন্ন করে খোঁজে। নিকারি জেলেদের মতো জঙ্গলের আশপাশ। এ সময় তারা বিভিন্ন স্থানে ভালুকের সদ্য ত্যাগ করা মলও দেখতে পায়। স্থানীয় মিডিয়া প্রতিটি মুহূর্তের সর্বশেষ খবর আপডেট করতে থাকে। টিভির স্ক্রলে ভেসে ওঠে সর্বশেষ খবর। একপর্যায়ে জীবিত উদ্ধারের আশা অনেকটাই ছেড়ে দেয় প্রশাসন। পিছু লাগে গণমাধ্যমগুলো। যে কোনো মূল্যে ইয়ামোতোকে জীবিতাবস্থায় উদ্ধারের চাপ বাড়াতে জনমত তৈরি করে মিডিয়াগুলো। তাদের সঙ্গে যোগ হয় ফেসবুক, টুইটারসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো। চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে যোগ হয় সেল্ফ ডিফেন্স ফোর্স (ঝউঋ) এর আরও ১০০ জন সদস্য। এ ছাড়াও স্থানীয় জনগণের চোখ তো ছিলই।

সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অবশেষে ৬ দিন পর সম্পূর্ণ সুস্থ ও জীবিতাবস্থায় উদ্ধার হয় ৭ বছরের বালক তানোওকা ইয়ামোতো। ভালুকের আক্রমণ তো দূরের কথা শরীরের কোথাও একটি আঁচড়েরও দাগ ছিল না। তবে না খাওয়ার ফলে শরীর দুর্বল এবং ভিটামিনের অভাব ছিল।

রেখে যাওয়া স্থান থেকে ৭ কিমি দূরে এসডিএফ-এর একটি ক্যাম্পে সে আশ্রয় নিয়েছিল এবং এই ৭ দিন কেবল পানি পান করে এবং ক্যাম্পে থাকা মেট্রেস এ ৪.৮০ তাপমাত্রায় ছোট দেহটি রক্ষা করতে পেরেছিল। উদ্ধার হওয়ার পর প্রথমেই নিজের নাম এবং খাবার চায়। বর্তমানে চিকিৎসাধীন। তার উদ্ধারে জাপানবাসী যেমন আনন্দিত তেমনি অনুতপ্ত তার পিতা-মাতা।

সাপ্তাহিক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.