গামছা বাহিনীর প্রধানের বিরুদ্ধে মামলা

হত্যা প্রচেষ্টা ও শ্লীলতাহানির ঘটনার বিচার না পেয়ে মুন্সীগঞ্জের চরাঞ্চলের আওয়ামী লীগ ঘরানার একটি ভুক্তভোগি পরিবার আদালতে গেলেন। মামলা করলেন মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাকান্দির আলোচিত গামছা বাহিনীর প্রধান ইউসুফ ফকির ও বাহিনীর ১০ সদস্যের বিরুদ্ধে।

আদালতের বিচারক ঘটনা শুনে ও ক্ষতিগ্রস্তদের নিজ চোখে দেখেই অভিযোগ আমলে নেন। মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ নং আমলী আদালতের বিচারক আয়েশা আক্তার সুমি নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করার জন্য মুন্সীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।

বৃহস্পতিবার ওই আদালতে মামলাটি করেন মোল্লাকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও ঢাকা বিভাগীয় শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাস নজু। এ মামলায় মোল্লাকান্দির মহেশপুর গ্রামের মৃত লাল মিয়া ফকিরের ছেলে ইউসুফ, একই গ্রামের জাহাঙ্গীর, মাকহাটি গ্রামের আমির হোসেন, কামাল হোসেন, আরিফ, অপু, মিল্টন মল্লিকসহ ১০ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার আইনজীবী এসআর রহমান মিলন মামলার বরাত দিয়ে জানান, আসামিরা সন্ত্রাসী, মাদকাসক্ত ও দাঙ্গাবাজ। পঞ্চমধাপের ইউপি নির্বাচনে (২৮ মে) স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা নজরুল ইসলাম নৌকা মার্কায় নির্বাচন করায় ইউসুফ ফকির গং ক্ষিপ্ত হয়। নির্বাচনের পর তাদের বাড়িঘর ছেড়ে চলে যাওয়ার, প্রাণনাশের ও বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে আসছিলো। বাড়িঘর ছেড়ে না যাওয়ায় গত ১০ই জুন দুপুর ১টার দিকে তার বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাকেসহ তার দুই ছেলে রনি (২৫) ও রাবিককে (২০) কুপিয়ে ও পিটিয়ে রক্তাক্ত করে। এ সময় আওয়ামী লীগ নেতার স্ত্রী রোকসানাকে বিবস্ত্র করে শ্লীলতাহানি করা হয়।

এ ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নিতে অসম্মতি জানায়। ভুক্তভোগী পরিবারটি মামলা না নিলে তারা আদালতের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হন বলে তিনি জানান।

ভুক্তভোগী আওয়ামী লীগ নেতা নজরুল ইসলাম জানান, ঘটনা ঘটার পর থানার পুলিশ ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাসপাতালে এসে আমাদের দেখে গেছেন। কিন্তু তারা গামছা বাহিনীর প্রধান ইউসুফ ফকির ও তার সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানান।

তিনি আরও বলেন, এর আগে গামছা বাহিনীর প্রধান এ ইউসুফ ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের আইজিপির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু সাধারণ মানুষের বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার পরিবারসহ নৌকার সমর্থকরা এলাকা ছাড়া হয়ে আছে বলে তার অভিযোগ।

এদিকে, একইদিন গত ১০ই জুন দুপুর ২টার দিকে ইউসুফের নেতৃত্বে মোল্লাকান্দি লাগোয়া টঙ্গীবাড়ী উপজেলার কাঠাদিয়া-শিমুলিয়া ইউনিয়নের কাঠাদিয়া গ্রামের ইতালি প্রবাসী শ্যামল গাজীর বাড়িতে হামলা হয়।

ইতালি মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল গাজী জানান, চাঁদা না দেয়ায় ইউফসুফের নেতৃত্বে আমার বাড়িতে হামলা চালানো হয়। এ সময় আমাকে, আমার স্ত্রী চায়না আক্তার ও ছোট ভাই সুমন গাজীকে পিটিয়ে আহত করে। তারা ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে নগদ টাকা, সোনারগহনা ও মোবাইল ফোন সেট নিয়ে যায় বলে তিনি জানান।

এ ঘটনায় ইউসুফ ফকিরকে প্রধান আসামি করে টঙ্গীবাড়ী থানায় অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। তবে দুই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও দলীয় নেতৃবৃন্দ বিচার-সালিশ করার আশ্বাস দেয়ায় মামলাটি নথিভুক্ত হয়নি বলে তিনি জানান।

পূর্ব পশ্চিম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.