মুন্সিগঞ্জ-কাটাখালী খাল: সরিয়ে নেওয়া হয়নি নয়টি টং দোকান

মুন্সিগঞ্জ জেলা শহরের মুন্সিগঞ্জ-কাটাখালী খালের ওপর থেকে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে নয়জন দোকানিকে বেঁধে দেওয়া সাত দিনের সময় শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত এসব দোকান সরিয়ে নেওয়া হয়নি।

এদিকে ‘খাল দখল করে’ বাড়ি নির্মাণকারীরা ‘দখলদার’ হিসেবে চিহ্নিত না হওয়ায় এলাকার অনেকে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা ভূমি কার্যালয়ের খাল পরিমাপের বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

সম্প্রতি ভূমি কার্যালয়ের পক্ষ থেকে খালটির পরিমাপের সময় ওই দোকানিদের অবৈধ দখলদার হিসেবে শনাক্ত করা হয়। ১৬ জুন তাঁদের সাত দিনের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে নোটিশ দেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাইদুজ্জামান খান।
নোটিশ পাওয়া দোকানিরা হলেন মো. জমির আলী, আবদুর রশীদ, সুজন, নুরু মিয়া, মো. ইদ্রিস, রমিজ রাজন, মো. ওসমান দেওয়ান, আউয়াল মিজি ও বোরহানউদ্দিন ফকির।

নোটিশ পাওয়ার কথা স্বীকার করে চায়ের দোকানি জমির আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। সরাইয়া দিলে খামু কী?’ প্রায় একই ধরনের কথা বলেন দোকানি আবদুর রশীদ ও সুজন মিয়া।

গত ২৫ মে প্রথম আলোতে ‘মুন্সিগঞ্জ-কাটাখালী খাল দখল করে বাড়ি নির্মাণ’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর জেলা প্রশাসক খালটি পরিমাপ করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য ভূমি কার্যালয়কে নির্দেশ দেন। খালটি পরিমাপ করে ওই নয়জন টং দোকানিকে দখলদার হিসেবে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন দেওয়া হয়। এরপর ওই নোটিশ দেওয়া হয়।

সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাইদুজ্জামান খান বলেন, ‘আমরা ভূমি রেকর্ডমতে যেসব অবৈধ স্থাপনা পেয়েছি, সেগুলো সরিয়ে নিতে নোটিশ দিয়েছি। যথাসময়ে সেগুলো উচ্ছেদ করা হবে।’

এদিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে কাটাখালী বাজার পর্যন্ত খালের পূর্ব পাশের অংশের ওপর সাত-আটটি বাড়ির মালিক দখলদার হিসেবে চিহ্নিত হননি।
এই প্রেক্ষাপটে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, বাড়িগুলো দেখলে স্পষ্ট মনে হয় খালের ওপরে পড়েছে। এখন শুনছেন এসব বাড়ি নাকি ব্যক্তিমালিকানাধীন।

ভূমি কার্যালয়ের সার্ভেয়ার নূরে আলম বলেন, নকশা ও আরএস রেকর্ড অনুযায়ী, মুন্সিগঞ্জ-কাটাখালী খালের জেলা প্রশাসক কার্যালয়-সংলগ্ন মসজিদ থেকে কাটাখালী বাজার অংশে খাল কোথাও কোথাও ৭০ থেকে ৮০ ফুট প্রশস্ত। খাল পরিমাপকালে দেখা যায়, কোথাও কোথাও ভেঙে খালটি দেড় শ ফুট পর্যন্ত প্রশস্ত হয়েছে। তাই বাড়িগুলো খালের ওপর নির্মাণ করা হয়েছে বলে মনে হয়। কিন্তু রেকর্ডমতে এগুলো ব্যক্তিমালিকানাধীন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ ফজলে আজিম বলেন, ‘আমরা তো রেকর্ডের বাইরে যেতে পারি না। খাল যখন ভেঙে প্রশস্ত হয়েছে, তখন জরিপকালে নতুন করে রেকর্ডভুক্ত করা হয়নি। তা করা হলে এ সমস্যা হতো না।’

প্রথম আলো

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.