অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে রাইস মিল॥ পরিবেশ দূষিত

এম.এম.রহমান: মুন্সীগঞ্জে নিয়ম রীতের তোয়াক্কা না করে অবাদে গড়ে উঠেছে প্রায় ১০ টি রাইস মিল। এসব রাইস মিলের বা করখানার বর্জ্য, ধুলো ময়লা, তুষ ছাই উড়ে আবাসিব ঘরবাড়িতে পড়ে গাছপালা, বসতঘর শিক্ষা প্রতিষ্টানের পরিবেশ দারুনভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। জানাযায়, মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চসার, মিরকাদিম পৌরসভা এলাকায় প্রায় ১০ টি রাইস মিল গড়ে উঠেছে।পাশাপাশি ধান সিদ্ধ- শুকানোসহ নানা প্রক্রিয়ার জন্য চাতালও রয়েছে ৪৫ টি এসব চাতালে প্রতিদিন প্রায় ১২০ মেট্রিক টন চাল উৎপাদিত হয়।

আর এসব চাল ধান চাতাল কিংবা রাইস মিলে উঠাতে সাধারন মানুষের গোসল করার পাকা ঘাট ব্যবহার হচ্ছে। তাছাড়া নদীর তীরে গোসল করার ঘাটের পাশে বাঁশের পুল তৈরী করে ধান, চাল আমদানী রফতানি করা হচ্ছে। সরকারী পোর্ট ব্যবহার না করে বাঁধ এবং সরকারী রাস্তার ক্ষতি সাধন করছেন এসব প্রতিষ্টানের মালিকরা। এতে প্রতিদিন প্রায় হাজার হাজার টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। অটোরাইস মিলগুলোতে নির্দিষ্ট পরিমান উঁচু চিমনী থাকার কথা থাকলেও বেশিরভাগ মিলে চিমনি নেই। চিমনী না থাকায় মিলের ছাই ময়লা উড়ে আশেপাশের বাড়িঘর যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি পথচারীর চোখে- মুখে পড়ে মানুষের অমূল্য সম্পদ চোখ নষ্ট হচ্ছে। চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে এখানকার মানুষ।

ফিরিঙ্গিবাজার বোগদাদ মিল ও সততা মিল এর আশপাশের কয়েকটি পরিবারের লোকজন অভিযোগগ করে বলেন,মিলের ধোঁয়া, ছাই উড়ে তাদের বাসা বাড়ীতে এসে পড়ছে তাদের বসবাসের উপযোগী কোন পরিবেশ নেই। আবাসিক এলাকার মধ্যে এসব মিল গড়ে উঠায় সব সময় ছাই উড়ে তাদের ঘরবাড়ি অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে। নষ্ট হয়ে যাচ্ছে টিনের ঘর, বসতবাড়িসহ গাছ-পালা। এসব ধোঁয়া ও ছাইয়ের কারনে ওইসব পরিবারগুলোতে চোখের রোগ, আ্যাজমাসহ নানা ধরনের রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে।মিলের শ্রমিক -কর্মচারীদের নির্দিষ্ট পোশাক ব্যবহারের নিয়ম থাকলেও ফিরিঙ্গিবাজারের রাইস মিলগুলোতে শ্রমিক- কর্মচারীদের পোশাক ব্যবহার করা হয়না। ফলে মিলের ধুলা-ময়লা,ধোঁয়া সহজেই শ্রমিক কর্মচারীদের দেহে প্রবেশ করে। এতে শ্রমিকরা অ্যাজমা রোগসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

দিন দিন নিম্ন আয়ের এসব শ্রমিক- কর্মচারী ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। পুরুষের তুলনায় নারীদের মজুরিতে বৈষম্য থাকলেও চাতালগুলোতে নারীরা হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে। দুপুর বেলা এসব শ্রমিক ধুলা- ময়লার পাশে বসেই তাদের দুপুরের খাবারটি শেষ করতে দেখা যায়। ফিরিঙ্গিবাজার এলাকার বাসিন্ধা হাজী আব্দুল করিম মোল্লা বলেন, ধুলাবালি আর মিলের ছাইয়ের কারনে ঠিকমতো নি:শ্বাস নিতে পারছিনা। রাস্তা দিয়ে হাটার সময় ধুলাবালি ছাই নাক , মুখ দিয়ে ঢোকে ।বাসাবাড়ীতে আজকাল কাজের লোক থাকতে চাচ্ছেনা। আর এসব মিলের ছাই রাতের আধাঁরে নদীতে ফেলছে মিল মালিকরা। এখন নদীতে ডুব দিয়ে দেখুন ছাই ছাড়া একমুঠো মাটি বা বালু খুঁজে পাবেন না।

গৃহবধু আফরিনা বেগম বলেন, ঘরবাড়ি দিনে বার বার ঝঁড়– দিতে হয়। এটা গ্রামাঞ্চল এখানে ভেজা কাপড় চোপড় রোধে শুকাতে দিব এটা স্বাভাবিক। কিন্তু বাতাসে উড়ে আসা ছাইয়ের কারনে আর রোধে কিছু শুকাতে পারছিনা দৈন্দিন কাজে ব্যবহৃত ভেজা কাপড়, থালা বাসন রোধে শুকাতে দিলে কালো ছাই উড়ে এসে পড়ে। মুন্সীগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের জেলার দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা কেমিষ্ট মিয়া মাহফুজুল হক বলেন, নদী দূষনের বিষয়ে কয়েকটি মিল মালিককে নোটিশ করা হয়েছে। এ বিষয়ে আরো তদন্ত করে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট একেএম শওকত আলম মজুমদার বলেন, পরিবেশের ক্ষতি করে এমন রাইস মিলগুলো সনাক্ত করে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

চমক নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.