আড়িয়ল বিল: মাছ-ফসল-প্রকৃতির

আড়িয়ল বিল। ঢাকার দোহার ও নবাবগঞ্জ এবং মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর ও সিরাজদিখান উপজেলা জুড়ে এ জলাভূমির অবস্থান। তবে অধিকাংশই পড়েছে মুন্সীগঞ্জে। বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠীর খাদ্যের যোগান আসে এ বিল থেকে। প্রাকৃতিকভাবেই এ বিল বিশাল মৎস্য সম্পদের ভাণ্ডার।

এখানকার মানুষের বিনোদনের মাধ্যমও এ বিল। বর্ষায় বিলের পানি শিশু-কিশোরদের খেলার জায়গা। বিলের পাড় ধরে রাস্তার একটু পরপর বসানো হয়েছে বাশেঁর তৈরি মাচা। সেখানে শরীর জুড়িয়ে গল্প-আড্ডায় মেতে ওঠেন সবাই।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, মুন্সীগঞ্জে ৭৯৭০ হেক্টর আবাদযোগ্য ভূমি রয়েছে আড়িয়ল বিলে। এখানে উৎপাদিত প্রধান খাদ্য শস্য ধান। আরো জন্মে কুমড়া, করলা, খিরাই, টমেটো, শসা, বেগুন, কাঁচামরিচ ইত্যাদি। বিলে প্রায় ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষ করা হয়। এখানকার কুমড়া প্রসিদ্ধ।

বিলটি বিশেষ তার ভূপ্রকৃতি ও জীব বৈচিত্রের কারণে। বর্ষায় ডুবে থেকে এখানে পড়ে পলির আস্তর। তাই ভূমি খুব উর্বর। খাদ্য শস্যের উৎপাদন মুন্সীগঞ্জের অন্যান্য এলাকা থেকে এখানে তুলনামূলক বেশি। বর্ষায় এ বিল হয়ে উঠে মাছের ভাণ্ডার।

শ্যামসিদ্ধি ইউনিয়নের গাদিগাটা এলাকার মো. আমির এ বিলে মূলত ধান চাষ করেন। ধানের পর এখানে কুমড়া ফলান। ভরা বর্ষায় এখানে মাছ ধরেন। তিনি জানান, এখান থেকে সব সময় কিছু না কিছু পাওয়া যায়। এখানে শাপলা হয় প্রচুর। ঢাকাসহ আশেপাশের এলাকার চাহিদা মেটায় এখান থেকে। বর্ষায় গেচু আর শামুকও পাওয়া যায় প্রচুর। বিভিন্ন এলাকার দরিদ্র মানুষ এখানে এসে শাপলা, শামুক আর গেচু তুলে রোজগার করে থাকেন।

বিলের গাদিগাটা এলাকায় দেখা হয় কিশোরগঞ্জ শ্রীপুরের মো. জুলহাসের সঙ্গে। তিনি এখানে মাছ ধরতে এসেছেন। তার সঙ্গে আরো এসেছেন একই এলাকার মাসুদ, আসাদুল। তারা প্রতিবছরই আসেন এখানে মাছ ধরতে। কুইচ্যা, শিং, বাইন, কৈসহ বিভিন্ন মাছ ধরেন।

গাদিগাটার রাজু শেখ জানান, বর্ষায় ভেসাল জালও পাতা হবে। এখানে সবাই ইচ্ছামতো মাছ ধরতে পারেন।

আল মামুন
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.