পুলিশ কর্মকর্তার গাড়িতে ছাত্রলীগের হামলা

মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের সহকারী পুলিশ সুপারের গাড়িতে হামলা, দেহরক্ষীকে মারধর ও সহকারী পুলিশ সুপার ও তার পরিবারকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ মামলায় লৌহজং উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতিসহ ৭ জনকে এজাহারভুক্ত ও অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। মামলার আসামিরা হলো- লৌহজং উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ওমর ফারুক রাজীব, রাজু, হাবিব, আসিক, আশরাফুল ইসলাম শাওন প্রমুখ।

রোববার রাতে লৌহজং থানায় এ মামলা করেন সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সদর)-এর দেহ রক্ষী ও গাড়িচালক কনস্টেবল রফিকুল ইসলাম। এ ঘটনায় গতকাল সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযুক্তদের কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে লৌহজং থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আনিসুর রহমান জানিয়েছেন। এর আগে গত শনিবার সন্ধ্যায় লৌহজংয়ের হলদিয়া এলাকায় স্থানীয় ছাত্রলীগ কর্মীরা সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামানসহ তার স্ত্রী সন্তানদের লাঞ্ছিত ও দেহরক্ষী কনস্টেবল রফিকুল ইসলামকে মারধর করে আহত করে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গত শনিবার হলদিয়া বাজার সংলগ্ন নির্মাণাধীন ব্রিজের কারণে ওই রাস্তায় যানজট লেগে ছিল। সহকারী পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান লৌহজংয়ে একটি অনুষ্ঠান শেষে পিতা-মাতা ও স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে লৌহজংয়ের মাওয়া অভিমুখে যাচ্ছিলেন। এ সময় তার গাড়িটি হলদিয়া এলাকার রাস্তায় যানজটে আটকা পড়ে। যানজট এড়িয়ে অন্যান্য গাড়ি ওভারটেক করে তার প্রাইভেটকারটি আগে যেতে চাইলে বাধা দেয় যানজট নিরসনে স্বেচ্ছাসেবক কিছু এলাকাবসী। এ সময় এএসপি’র দেহরক্ষী কনস্টেবল রফিকুল ইসলাম গাড়ি থেকে নেমে স্বেচ্ছাসেবক রাজু বেপারী (২৮)কে মারধর করে।

পরে রাজু ছাত্রলীগের লৌহজং উপজেলা সভাপতি ওমর ফারুক রাজীবকে বিষয়টি ফোনে জানালে রাজীব ও ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। এ সময় তারা সহকারী পুলিশ সুপারসহ তার স্ত্রী-সন্তানদের লাঞ্ছিত করে ও দেহরক্ষীকে মারধর করে আহত করে। পরিচয় জানতে পেরেও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা সহকারী পুলিশ সুপারসহ তার পরিবারের লোকজনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।

এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আলম খান ছাত্রী লীগের নেতা কর্মীদের নিবৃত করতে গেলে তাঁর উপরেও কিলঘুষি পড়ে। এ ঘটনার ক্ষুব্ধ পুলিশের উচ্চ পদস্থ কর্মকতাসহ র‌্যাব’র একাধিক টিম ঘটানস্থলে ছুটে আসেন। পরে হলদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বিষয়টি মীমাংসার জন্য বসে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ঢালী মোয়াজ্জেম হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রশিদ সিকদার, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ফরদৌস আলম খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার (শ্রীনগর সার্কেল) মো. সামসুজ্জামান বাবু, লৌহজং থানার অফিসার ইনচার্জ আনিসুর রহমানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকতারা। তবে কোনো রকম মীমাংসা ছাড়াই বৈঠকটি শেষ হয়।

মানবজমিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.