টঙ্গীবাড়ীতে স্ত্রীকে পাচারের মামলা করায় বিপাকে স্বামী

টঙ্গীবাড়ী থেকে স্ত্রীকে পাচারের অভিযোগে মামলা করে বিপাকে পড়েছেন স্বামী নুরুল হক। টঙ্গীবাড়ী উপজেলার আড়িয়ল বিলেরপাড় গ্রামের নারী পাচারকারী হুণ্ডি ব্যবসায়ী আসলাম শেখ ও তার সহযোগী মাইনউদ্দিন অসহায় নুরুল হককে প্রাণ নাশের হুমকি দিচ্ছে। এতে আত্মগোপন করে দিন কাটছে নুরুল হকের। পরে বাধ্য হয়ে মঙ্গলবার দুপুরে টঙ্গীবাড়ী থানায় সাধারণ ডায়রি দায়ের করেন তিনি।

এর আগে উপজেলার হাট বালিগাঁও গ্রামের নুরুল হক মুন্সীর স্ত্রী ময়না বেগমকে সৌদি আরব পাচারের অভিযোগে ১৩ জুন নুরুল হক মুন্সী বাদী হয়ে ৬ জনকে আসামি করে মুন্সীগঞ্জ আদালতে সিআর মামলা দায়ের করেন। আমলী আদালত ৪ বিচারক হায়দার আলী মামলাটি টঙ্গীবাড়ী থানাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

নুরুল হক জানান, আড়িয়ল বিলেরপাড় গ্রামের সিকিম আলীর ছেলে মাইনদ্দিন আমাকে ও আমার স্ত্রী ময়না বেগমকে বলে আমার মামা আড়িয়ল বিলেরপাড় গ্রামের আসলাম সেখ সৌদি আরব হতে ২টি মহিলা মাদ্রাসার ভিসা নিয়া আসছে। তোমার স্ত্রীকে ইচ্ছা হলে পাঠাতে পার ২০ হাজার টাকা বেতন পাবে। তারপর আমি আমার স্ত্রীকে সৌদি পাঠানোর জন্য মাইনদ্দিনকে ৮০ হাজার টাকা দেই।

পরে ১৭ মার্চ মাইনদ্দিন ও তার মামা আসলাম সেখ আমার বাড়ি থেকে আমার স্ত্রী ময়না বেগমকে নিয়ে যায়- তারপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। পরে আমি আমার স্ত্রীর খোঁজ নেয়ার জন্য মাইনউদ্দিনের বাড়িতে গেলে সে ও তার ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী ইসলাম সেখ, সেকান্দর সেখ, আরিফ, জরিপ আমাকে মেরে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। মঙ্গলবার বিকালে নুরুল হক টঙ্গীবাড়ীতে কর্মরত সাংবাদিকদের কাছে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে জানান, আমার দুটি ছোট ছেলে ইয়াছিন মুন্সী (৫) ও ইব্রাহিম মুন্সী (২) রয়েছে। মাঈনউদ্দিন আমার বউকে বোন ডেকে ছলনা করে ভুল বুঝিয়ে বিদেশে পাচার করে দেয়।

এলাকাবাসী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মামলার ১নং আসামি বিলেরপাড় গ্রামের মৃত কাসেম শেখের ছেলে আসলাম সেখ দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ ওই এলাকায় অবৈধ হুণ্ডি ব্যবসাসহ নারী পাচার করে আসছে। এ পর্যন্ত স্থানীয় ও দেশের বিভিন্ন স্থানের নারীদের পাচার করে মোটা অংকের টাকার মালিক হয়ে বীরদর্পে এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে সে। তার বিরুদ্ধে নারী পাচার ছাড়াও বিদেশী যুবকদের পাঠানো হুণ্ডির টাকা ও মালামাল আত্মসাৎতের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে তার মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করে তা বন্ধ পাওয়া গেছে।

যুগান্তর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.