শ্রীনগরে রাস্তা উন্নয়নের নামে স্বেচ্ছাচারিতা!

চারমাস ধরে দুর্ভোগে বিশ হাজার মানুষ
আরিফ হোসেন: শ্রীনগরে দেড় কিলোমিটার রাস্তা উন্নয়নের নামে সেচ্ছাচারিতার কারনে ৪ মাস ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে কুকুটিয়া ইউনিয়নের ৮টি গ্রামের অন্তত বিশ হাজার মানুষ। বিবন্দী-কাজিপাড়া নামের এই রাস্তাটি শ্রীনগর উপজেলা এলজিইডির তালিকা ভুক্ত হলেও রাস্তার উন্নয়নের বিষয়ে তারা কিছুই জানেননা। উপজেলা এলজিইডি অফিস জানায়, রাস্তা উন্নয়নের জন্য তাদের কাছ থেকে কেউ অনুমুতিও নেয়নি। রাস্তাটির উন্নয়নের বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প অফিসও কিছু বলতে পারছেনা। এনিয়ে তৈরি হয়েছে ধোয়াশা। তবে প্রাণ কৃষ্ণ ওরফে পিকে বাড়ৈ নামে এক ঠিকাদার পাচ মাস আগে রাস্তাটি নির্মাণে হাত দেয়। স্থানীয়রা জানায়, এসময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সহ রাজনৈতিক ব্যাক্তিরা রাস্তা নির্মানে অর্থের উৎস জানতে চাইলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এমকে প্রাঃ লিঃ এর কর্ণধার পিকে বাড়ৈ নিরব ভূমিকা পালন করেন।

এর কয়েকদিন পর পিকে বাড়ৈ তার ফেসবুকে ওই এলাকার ২১ জন ব্যাক্তির নাম উল্লেখ করে এক ষ্ট্যাটাসে দাবী করেণ, তারা নিজেদের অর্থ দিয়ে রাস্তার উন্নয়ন করছেন। তাই এলজিইডির অনুমুতির প্রয়োজন পড়েনি। এক মাসে পিকে বাড়ৈ ১০ ফুট প্রশস্থ রাস্তাটি ৩ ফুট উ”ু করে মাত্র ২ ফুট প্রশস্ত করে রেখে দেয়। এতে ওই এলাকার একমাত্র রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। পিকে বাড়ৈ ঢাকায় বসবাস করার কারেণ এ রাস্তাটি নিয়ে এখন আর তার কোন মাথা ব্যাথাও নেই বলে স্থানীয়ররা জানান।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ষ্ট্যাটাসে উল্লেখিত ২১ জন ব্যক্তির মধ্যে দিন মজুর, সামান্য পুজির ব্যবসায়ী ও বাবুর্চিও রয়েছেন। তাদের সাথে আলাপ করলে তারা উল্টো প্রশ্ন করেন যেখানে তাদের নিজেদের সংসার চলেনা সেখানে রাস্তা করতে টাকা দিবেন কোথা থেকে? মামুন হাওলাদার ও আনোয়ার শেখ সহ তিন চারজন পিকে বাড়ৈকে টাকা দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, তিনি মন্ত্রনালয় থেকে কাজ আনার কথা বলে তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন এবং কাজ হয়ে যাওয়ার পর তাদেরকে লাভের অংশ সহ ফেরত দেওয়ার কথা বলেছেন।

২১ জনের তালিকার মধ্যে ২ নাম্বারে থাকা আলী আহমেদ জানান, তাকে না জানিয়েই তালিকায় তার নাম দেওয়া হয়েছে। রাস্তাটি যে ভাবে তৈরি করা হয়েছেত তাতে লোকজন এখন আর চলাচল করতে পারছেনা।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল কাইউম মিন্টু জানান, রাস্তাটির কারণে অত্র ইউনিয়নের বিবন্দী,বনগাও, মুসলিম পাড়া, রাণা, সিন্দুরদি, দত্তগাও, জুরাসার,পাচলদিয়া ও কাজিপাড়া এলাকার হাজার হাজার লোকজন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এনিয়ে এলজিইডি সহ প্রশাসনের দ্বারস্ত হয়েও কোন সুরাহা পাওয়া যাচ্ছেনা।

এব্যাপারে পিকে বাড়ৈ এর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি রাস্তাটি নির্মানে অর্থের উৎসের বিষয়ে কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।

উপজেলা এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী ধীরেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ জানান, সরকারী নিয়ম অনুযায়ী এলজিইডির রাস্তায় কেউ উন্নয়ন করতে চাইলে তাদের কাছ থেকে অনুমুতি নেওয়ার কথা। এরাস্তায় এমনটি করা হয়নি। উন্নয়নের নামে রাস্তাটি আরো বেহাল করা হয়েছে। এবিষয়ে উর্ধতন কতৃপক্ষকে অবহিত করার প্রক্রিয়া চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.