এক্সক্লুসিভ: মোল্লাকান্দিতে প্রকাশ্যে চলে অস্ত্রের মহরা

জসীম উদ্দীন দেওয়ান: মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চল বলে খ্যাত মোল্লাকান্দি ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বছরের প্রায় সময়ই চলে হামলা-পাল্টা হামলা, ঘর বাড়ি ভাঙ্গচুর, এমনকি হত্যার মতো ঘটনা। আর এই সব ঘটনায় আগ্নেয় অস্ত্রের ঝনঝনানি ছাড়াও ব্যবহার হয় শক্তিশালী ককটেল। মঙ্গলবার দুপুরে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে পূর্ব মাকহাটি গ্রামের খাইরুদ্দীন মোল্লা, ফিরোজ মোল্লা ও মোফাজ্জল শিকদারদের বাড়িতে গিয়ে ১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ অস্ত্রধারী দল নানা ধরনের ভয় ভীতি ও জীবন নাশের হমকি প্রদান করে আসে ঐ সকল পরিবারের সদস্যদের এবং রাতের মধ্যে ঘর বাড়ি ফেলে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলেন বলে জানান, খাইরুদ্দীনের স্ত্রী রোকশানা বেগম। রোকশানা আরো জানান, তাঁর স্বামী আওযামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত এবং তাদের বাড়িতে এসে হুমকি প্রদানকারী একাধিক মামলার আসামী মিল্টন মল্লিক বিএনপি’র রাজনীতি করে থাকেন। মিল্টন মল্লিকের সাথে তাঁর ভাতিজা রিমনসহ প্রায় ১৫ জনের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী দলটি তাদের চর থাপ্পর ও অশ্লিল ভাষায় গালি গালাজ করে বলেও জানান রোকশানা।

রোকশানা আরো জানান তাঁর স্বামী খাইরুদ্দীন সকালে বিদেশ চলে গেছেন, এবার এলে মিল্টনের বাইরে কোন কথা বললে পৃথিবী থেকে পরোপারে সড়িয়ে দেবার হুমকিও দিয়ে যান মিল্টন বাহিনী। এদিকে অস্ত্রধারীদের সকলের ছবি ক্যামেরা বন্দি করতে না পারলেও ক্যামেরায় চলে আসে অস্ত্র হাতে হলুদ শার্ট পরিহিত মিল্টন মল্লিকের ভাতিজা গনি মল্লিকের ছেলে রিমনের ছবি। সাদা-কালো ফুল হাতা চেক শার্টে কনুই পর্যন্ত হাত ভাঁজ করা জামা পরিহিত অস্ত্রধারী সাাহাব উদ্দীন বেপারীর ছেলে শাহীন এবং ভি গলার সাদা কালোর মিশেল, হাফ হাতার গেঞ্জি পড়ানো মনির হোসেন মোল্লার ছেলে অস্ত্রধারী আশ্রাফুলের ছবি। এরা সকলে এই এলাকার মানুষদের জিম্মি করে নিজেদের কব্জা বন্দি করে রাখার উদ্দেশ্যে কয়েক ঘন্টা ব্যাপী অস্ত্রের মহরা প্রদান করেন বলে জানান এলাকাবাসী।

মিল্টন জেল হাজত থেকে রেহাই পেতে বিদেশে পারি জমিয়েছেন। তিন দিন আগে ইতালী থেকে এসে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক লোক।

এদিকে মিল্টন মোল্লাকান্দি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মহাসিনা হক কল্পনার অনুসারি হয়ে নব্য আাওয়ামীলীগার হচ্ছেন বলেও জানান এলাকাবাসী। তবে মিল্টনের সাথে কথা বললে মিল্টন জানান, মাদক সেবন নিয়ে ফিরোজ মোল্লার সাথে তাঁর সামান্য কথা কাটাকটি হয়। এই সময় রোকশানা তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।

সদর গোয়েন্দা পুলিশের ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, অস্ত্রের মহরার বিষয়টি তার জানা নেই। তবে ওয়ারেন্টের আসামী মিল্টন মল্লিকের কথা শোনে তারা মোল্লাকান্দি গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে কারো খুঁজে পায়নি বলেও জানান তিনি। প্রকাশ্যে এই সব অস্ত্রবহনকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করলে মোল্লাকান্দি থেকে অনেকটা অপরাধ দূর হবে বলে মনে করেন মুন্সীগঞ্জের সুধি সমাজ। তাঁরা আরো মনে করেন, মোল্লাকান্দির সাধারণ মানুষের ঘরে শান্তি এনে দিতে হলে রাজনীতি নেতাদের হিংস্র ধারার রাজনীতির পথও পরিহার করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.