লৌহজংয়ে অবৈধভাবে মার্কেট নির্মাণের পায়তারা

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং ভরাট করা হচ্ছে উপজেলা পরিষদ সাবেক কমপ্লেক্সের পুকুর। কিন্তু কি কারণে, কার নির্দেশে ভরাট করে ফেলা হচ্ছে তা জানেনা কেউ। খোদ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জাকির বেপারির নের্তৃত্বে এই পুকুর ভারাট করা হচ্ছে। এতে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় জনমনে একাধিক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পুকুরটিতে মোট জায়গার পরিমান ১ একর ৪০ শতাংশ। সরকারী হিসেবে পুকুরটির জায়গার মূল্য ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। আর বেসরকারীভাবে এটির মূল্য আরো অনেক বেশী। পরিত্যাক্ত এই পুকুরটির দিকে স্থানীয় প্রভাবশী মহলের দৃষ্টি দীর্ঘ দিনের। তারা এটিকে ভরাট করে মার্কেট নির্মাণ করে এখান থেকে মোটা অংকের টাকা বানিজ্য করার পরিকল্পনা করছিল দীর্ঘ দিন ধরে। কিন্তু পুকুরটি উপজেলা পরিষদের নিজস্ব সম্পত্তি হওয়ায় প্রভাবশালীরা এটি দখলের পথ খুজে পাচ্ছিলনা।

গত কয়েকদিন ধরে এই পুকুরটি ভরাট করতে শুরু করেছে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জাকির হোসেন বেপারী। পুকুরটির পাশে রাস্তার পারে থাকা দোকানিরা জানিয়েছেন. তাদেরকে বলা হয়েছে পুকুরটি ভরাট করে এখানে মার্কেট নির্মাণ করা হবে। তবে তারা নতুন মার্কেটে দোকান নিতে চাইলে অগ্রধিকার ভিত্তিতে তাদের দোকান দেওয়া হবে। কাপড় ব্যবসায়ী মো. নাজমুল হেসেন জানান, শুনেছি পুকুরটি ভরাট করে মার্কেট নির্মাণ করা হবে। মোদি দোকানী রাজন দাস, সেলুন দোকানী কানন শীল, চায়ের দোকানদার মো. সিরাজ ঢালী একই কথা বললেন।

উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জাকির বেপারী জানান, পুকুরটি ভরাট করা হচ্ছেনা। তাছাড়া এখানে কোন মার্কেটও নির্মাণ করা হবেনা। আমি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে এখানে কিছু বালু রাখার জন্য উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউএনও বরাবরে পুকুরটি কয়েক মাস ব্যবহারের জন্য আবেদন করেছি। কাজ শেষ হলেই পুকুরটি খালি করে দেয়া হবে।

কনকসার ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, পুকুরটি কি কারণে ভরাট করা হচ্ছে তা আমি জানি না। কাউকে ব্যবহারের অনুমতি দিলে তা নিয়ে উপজেলা মাসিক সভায় আলোচনা করে সকলের মতামত নিয়ে দেওয়া যেতে পারতো। ইতিপূর্বে কয়েকজন পুকুরটি ব্যবহারের জন্য আলাপ করলেও তাদেরকে ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হয়নি। এখন কার স্বার্থে এটা করা হচ্ছে তা বোধগম্য নয়।

উপজেলা ভূমি অফিসে খবর নিয়ে জানা যায়, পদ্মার নদীর ভাঙনে ঘোরদৌড় বাজার সংলগ্ন সাবেক উপজেলা কমপ্লেক্সের একাংশ নদী গর্ভে চলে যায়। ২০০৬ সালের দিকে এখান থেকে উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স সরিয়ে নিলে পুকুরটি পরিত্যাক্ত অবস্থায় ছিল। বছর বছর পলি পড়ে পুকুরটি প্রায় ভরাট হয়ে গেছে। পুকুরটি ধরন পরিবর্তণ করে জমিতে রূপান্তরের জন্য ইতিমধ্যে উপজেলা ভূমি অফিস হতে ম্যাপ সংশোধনের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন জানিয়েছেন, পুকুরটি ভারাটের ব্যাপারে কোন প্রকার সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে উপজেলা চেয়ারম্যান তাকে একবার জানিয়েছিলেন পুকুরটি প্রায় ভরাট হয়ে গেছে। এটি নিয়ে কিছু করা যায় কিনা তা দেখা দরকার।

উপজেলা চেয়ারম্যান মো. ওসমান গণি তালুকদার জানিয়েছেন, এখানে অন্য কিছু করার পরিকল্পনা নেই। তবে ভাইসচেয়ারম্য

জনকন্ঠ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.