সরকারি স্কুলগুলোতে শিক্ষক সংকটে পাঠদান ব্যাহত!

মুন্সীগঞ্জের সরকারি স্কুলগুলোতে শিক্ষক সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। ফলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, স্থবিরতা বিরাজ করছে। এ ছাড়া সরকারি স্কুলে শিক্ষকরা কোচিং বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত থাকায় ক্লাশে মনোযোগী হচ্ছেন না।

সরেজমিনে কে. কে. গভ. ইনিষ্টিটিউট এবং এ. ভি. জে. এম. সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় গিয়ে জানা গেছে, কে. কে. গভ. ইনিষ্টিটিউটে দুই শাখায় প্রায় ১ হাজার ৬শ’ ৩৫জন শিক্ষার্থী অধ্যায়নরত আছে। কে. কে. গভ. ইনিষ্টিটিউট এ ৪৯টি শিক্ষক পদের মধ্যে ২২টি পদ খালি রয়েছে বিগত ৫ বছর ধরে। এর মধ্যে বাংলা্ ৮টি পদের মধ্যে ৭টি পদ শূণ্য রয়েছে। ইংরেজি ৮টির মধ্যে ১টি, গনিত ৬টির মধ্যে ১টি, সামাজিক বিজ্ঞান ৬টির মধ্যে ৩টি, ধর্ম ৪টির ১টি, ভৌত বিজ্ঞান ৪টির মধ্যে ৩টি, জীব বিজ্ঞান ৪টির মধ্যে ৩টি, ব্যবসায় শিক্ষা ২টির মধ্যে ১টি, ভূগোল ২টির মধ্যে ১টি এবং চারুকলা ২টির পদের মধ্যে ১টি পদ শূণ্য রয়েছে। এর ফলে ছাত্রদের ঠিকমতো ক্লাশ নেয়া হচ্ছে না।

বিষয় ভিত্তিক শিক্ষক না থাকায় শিক্ষাক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এক বিষয়ের শিক্ষক অন্য বিষয় পড়াতে বাধ্য হচ্ছেন। তাই পড়াশোনাও স্থবির হয়ে পড়ছে। যার ফল স্বরূপ ফলাফল খারাপ হচ্ছে। এ ছাড়া এ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ বহু আগে থেকেই রয়েছে। বিগত সময়ে এ ব্যাপারে অনেক লেখালেখি হয়েছে। তারপরও তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে ক্লাশের পড়াশোনা নেই বললেই চলে। অপর দিকে এ. ভি. জে. এম. সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবস্থা আরও করুন। এই প্রতিষ্ঠানে দুই শাখায় ১ হাজার ৭শ’ ৫২জন শিক্ষার্থী অধ্যায়ন করছে। ৫৪টি শিক্ষকের পদের মধ্যে ২৫টি পদ খালি রয়েছে অনেক বছর ধরে। এর মধ্যে বাংলা ৮টি পদের মধ্যে ৫টি পদ শূণ্য রয়েছে। ইংরেজি ৮টির মধ্যে ৩টি, গনিত ৬টির মধ্যে ৩টি, ধর্ম ৪টির ৩টি, ভৌত বিজ্ঞান ৪টির মধ্যে ৩টি, জীব বিজ্ঞান ৪টির মধ্যে ২টি, ব্যবসায় শিক্ষা ৪টির মধ্যে ৩টি, চারুকলা ২টির পদের মধ্যে ২টি এবং কৃষি শিক্ষা ১টি পদের মধ্যে ১টি পদ শূণ্য রয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে এসব শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে বলে জানা যায়। গেষ্ট টিচার দিয়ে কোনো মতে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে। ফলে মুখ থুবরে পড়েছে শিক্ষা কার্যক্রম। এ প্রতিষ্ঠানেও কয়েকজন শিক্ষক রয়েছেন তাঁরা ক্লাশে ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ায় মনোযোগি নয়। কোচিং করাতেই ব্যস্ত। কোচিং করে বাড়তি টাকা কামানোই তাদের প্রধান উদ্দেশ্য। অনেকের বিরুদ্ধে কোচিং না করলে ব্যবহারিক পরীক্ষায় নম্বর কম দেওয়ার অভিযোগ আছে। যা দেখার মতো কেউ নেই। প্রতিষ্ঠানেগুলোতে গনিত শিক্ষক ও বিজ্ঞান শিক্ষক না থাকায় অন্যান্য শিক্ষক দিয়ে গনিত ও বিজ্ঞান ক্লাস চালিয়ে নিচ্ছেন। এর ফরে ভালো ফলাফলের সংখ্যা ক্রমশই কমছে। ফলাফলের বিপর্যয়ের কারণে সচেতন অভিভাবকরা সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত।

এ ছাড়াও মুন্সীগঞ্জে শ্রীনগর সরকারী সুফিয়া এ হাই খাঁন উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৯টি পদের মধ্যে ৮টি সহকারি শিক্ষকের পদ বর্তমানে শূণ্য রয়েছে। শিক্ষক সংকটনের মধ্যে দিয়ে চলছে এ জেলার শিক্ষার কার্যক্রম। এতে করে শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এর ফলে মুন্সীগঞ্জ শিক্ষার দিক দিয়ে অন্য জেলার চাইতে পিছিয়ে পড়ছে। মুন্সীগঞ্জের সুনাম, ঐতিহ্যের সাথে শিক্ষার সুনাম ধরে রাখতে পারছেনা এই জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। এক সময় কে. কে. গভ. ইনিষ্টিটিউট ও এ. ভি. জে. এম. সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মুন্সীগঞ্জের নামকরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ছিল। এখন এই বিদ্যালয় দু’টো ফলাফলের দিক থেকে মুন্সীগঞ্জ জেলার সুনাম ধরে রাখতে পারছে না। দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষক সংকটের কারণেই এ ফলাফল হচ্ছে বলে দুই প্রতিষ্ঠানের একাধিক শিক্ষকরা জানিয়েছেন। তবে, শিক্ষকরা ক্লাশে মনোযোগী নয় কিংবা কোচিং বাণিজ্যে নিয়ে ব্যস্ত-এসব বিষয়গুলো অস্বীকার করেছেন।

এ বিষয়ে এ. ভি. জে. এম. সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আয়শা খাতুন বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানে ২৫জন শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন ধরে খালি রয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা যথা সময়ে শিক্ষা গ্রহন করতে পারছে না। প্রয়োজনীয় শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ বিষয়ে একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে, তারপরও কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। কিছু শিক্ষক কোচিং নিয়ে ব্যস্ত থাকায় পাঠদান ব্যহত হচ্ছে। এই বিষয়টা খোঁজ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিব।

এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ জেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, জেলার সরকারী মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকট রয়েছে। ইতোমধ্যে ৩৪তম বিসিএস থেকে কিছু শিক্ষক এ জেলায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আশা করি খুব দ্রুত শিক্ষক সংকটের সমস্যা সমাধান হবে। তিনি আরও বলেন, যারা ক্লাশে না পড়িয়ে কোচিং নিয়ে ব্যস্ত থাকে, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মো. কায়সার হামিদ
প্রিয়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.