সিরাজদিখানে এখনও সংস্কার হয়নি এক বছর আগে ভেঙ্গে যাওয়া সেতুটি, কর্তৃপক্ষের গাফিলতি

নাছির উদ্দীন: সিরাজদিখান উপজেলার বাসাইল ইউনিয়রে ইছামতি শাখা নদীর উপর পাকা সেতুটির অর্ধেকের বেশি ভেঙে বিলীন হয়ে গেছে। বাকি অংশটুকু জরাজীর্ণ। এই খণ্ডাংশ সেতুর সঙ্গে বাঁশ বেঁধে আর নদীতে খুঁটি পুঁতে ব্যবস্থা করা হয়েছে সেতু-সাঁকো। দেখে মনে হতে পারে কোনো অ্যাডভেঞ্চার গেমের জন্য বুঝি বানানো হয়েছে এটি।

এই পঙ্গু সেতু দিয়ে প্রায় ১৫ গ্রামের মানুষ ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে দীর্ঘদিন ধরে। কিন্তু কর্তৃপক্ষের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর এলাকার তরুণরা বাসাইল ইউনিয়ন পরিষদের কিছু সাহায্য আর নিজেদের টাকায় কেনা পাঁচ শতাধিক বাঁশ আর কাঠ দিয়ে কোনো রকম চলাচলের ব্যবস্থা করেছেন। ইমামগঞ্জ, টোলবাসাইল, গুয়াখোলা, উত্তর রাঙ্গামালিয়া, পাথরঘাটা, রামকৃষ্ণদী, সতুরচর, দক্ষিণ রাঙ্গামালিয়া, ডাকাতিয়াপাড়া, গিরিধারীগঞ্জ, শিকদারপাড়াসহ পার্শ¦বর্তী ১৫ গ্রামের মানুষ এই সেতু দিয়ে পারাপার হয়। ইমামগঞ্জ-টোলবাসাইল থেকে গুয়াখোলা-পাথরঘাটা হয়ে ডাকা-মাওয়া মহাসড়কের দ্বিতীয় ধলেশ্বরী ব্রিজের দক্ষিণ মুখে চলে গেছে এই রাস্তটি। ভৌগোলিক কারণে তাই সেতুটি খুবই গুরুতপূর্ণ।

এলাকাবাসীরা জানান, ইছামতি শাখানদীর ওপর ১৯৯০ সালে নির্মিত সেতুটি ভেঙে গেছে প্রায় এক বছর আগে। টোলবাসাইল গ্রামের সড়কের বাসাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের পশ্চিম দিকে বাজারের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ইছামতির শাখানদীটি। বাজারের কাছেই নির্মিত হয় সেতুটি।

ভেঙে পড়ার বছর তিনেক আগে সেতুটির মাঝের অংশ কিছুটা নিচু হয়ে গেছে বুঝতে পারেন তারা। স্থানীয় এলজিইডি অফিসে খবর দিলে তারা এসে একটি সাইনবোর্ড লাগিয়ে যায়- ‘ভারী যানবাহন চলবে না’। সেই থেকে সেতু দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল করত না। মাঝেমধ্যে ভ্যান, নসিমন, করিমন, বাইসাইকেল চলাচল করত।

প্রায় ১০ বছর ধরে সেতুটির দুরবস্থা। বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রোনিক মিডিয়ায় এর দুরবস্থার চিত্র বিভিন্ন সময় প্রকাশিত হয়েছে। এলাকাবাসীর দুর্ভোগের চিত্র দেখে ২০১০ সালে এলজিইডি বিভাগের তৎকালীন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী স্বাক্ষরিত চিঠিতে সেতুটি নির্মাণের নির্দেশ দেয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর জিডিপি প্রকল্পের মাধ্যমে সেতু নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করে। কিন্তু দরপত্রটি অনিবার্য কারণে দীর্ঘ চার বছর পর বাতিল করা হয়।

বাসাইল ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. আইয়ুব খান জানান, গত ১২ আগস্ট রাতে সেতুটির মাঝের অংশে বালুবাহী বলগেটের ধাক্কা লেগে সেতুর পশ্চিম পাশের অংশ ভেঙে নদীতে পড়ে যায়। এ সময় সেতুর উপরে থাকা দুই পথচারী আহত হন। সেতুটি ভেঙে পড়ার পরে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে শুধু যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ব্রীজ ভাঙ্গার কারণে ফায়ার সার্ভিস ডুকতে পারে নাই । ৯টি দোকান পুড়ে ছাই হয়েছে। ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে সাকো পার হওয়ার ভয়ে গ্রামের অনেক ছেলে-মেয়ে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করেছে। এভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা স্কুলে যেতে চায় না।

সেতু দিয়ে কোনো রকমে মানুষ পার হতে পারলেও কোনো ভারী জিনিস নিয়ে সেতু পার হওয়া যায় না। তখন ১০-১২ কিলোমিটার ঘুরে পার হতে হয় ইছামতি নদী।

এলাকার ছেলেরা ও ইউনিয়ন পরিষদ মিলে ভাঙ্গা সেতুর অংশে বাঁশ-কাঠের পাটাতন দিলেও তা নড়বড়ে গেছে। মানুষের ভোগান্তি নিরসনে দ্রুত সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী সোয়েব বিন আজম বলেন, আগামি এক মাসের মধ্যেসেতুটি নিলামে ভেঙ্গে সেতুর উপরে বেইল বসানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.