অবশেষে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে দেশের প্রথম ওষুধ শিল্প পার্ক

দেশের মধ্যেই ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় একটি শিল্প পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয় ২০০৮ সালে। কিন্তু নানা জটিলতায় অন্ধকারেই ছিল এপিআই শিল্প পার্ক নির্মাণ প্রকল্পটি। অবশেষে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে এপিআই শিল্প পার্ক নির্মাণ প্রকল্পটি।

ইতিমধ্যে ২৭টি প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হয়েছে প্লট বরাদ্দ, আগামী তিন বছরের মধ্যে শুরু হবে উৎপাদন, আশা সংশ্লিষ্টদের।

বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের তৈরি ওষুধের সুনাম রয়েছে এ খবর অনেকেরই জানা। তবে ওষুধের কাঁচামাল বিদেশ থেকে আমদানি করার ফলে দেশে তৈরি ওষুধের দাম তুলনামূলকভাবে বেড়ে যায়। ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য ২০০৮ মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় একটি শিল্প পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার।

ঢাকা থেকে ৩৭ কিলোমিটার দূরত্বে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে বাউশিয়া মৌজায় ২০০ একর জমির উপর অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট (এপিআই) শিল্প পার্ক নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল দুই বছর পর অর্থাৎ ২০১০ সালে। নানা জটিলতায় আটকে থাকা শিল্প পার্ক নির্মাণ প্রকল্পটির মেয়াদ কয়েক দফায় বাড়ানো হয়। সর্বশেষ প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে তা জুন ২০২০ করা হয়েছে, এর মধ্যে তা শেষ করতে সরকারে তরফ থেকে দেয়া হয়েছে নির্দেশনা।

বিসিক চেয়ারম্যান মুশতাক হাসান মোহাম্মদ ইফতিখার জানান, ইতিমধ্যে ২৭টি প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হয়েছে প্লট বরাদ্দ, আগামী তিন বছরের মধ্যে উৎপাদন শুরু হবে বলে আশা তার। প্রকল্পটির সরকারি অংশের প্রায় ৭৫ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। সিইটিপিট নির্মাণ, গ্যাস সংযোগের মত কাজগুলো অচিরের শেষ করা হবে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে বিসিক যে ২৭টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে ৪১টি প্লট বরাদ্দ দিয়েছে, সেটি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, কেউ কেউ তিনটি করে প্লট পেয়েছে, কেউ পেয়েছে দুটি করে। বাকিদের একটি করে প্লট পেয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে।

তিনটি প্লট পাওয়া শিল্পপ্রতিষ্ঠান হলো- স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস ও অপসোনিন ফার্মা। স্কয়ার ফার্মা পেয়েছে প্রায় ১০ একর জমি। আর অপসোনিন পেয়েছে ৭ একর জমি। দুটি করে প্লট পেয়েছে জেনারেল ফার্মাসিউটিক্যালস, দি একমি ল্যাবরেটরিজ, ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস, গ্লোব ড্রাগস, এরিস্টোফার্মা, হেলথকেয়ার কেমিক্যালস ও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। ইবনে সিনা, ডেলটা ফার্মা, ফার্মাটেকসহ অন্যরা পেয়েছে একটি করে প্লট।

এ শিল্পে বাংলাদেশের বিপুল সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে ওষুধ শিল্প মালিক সমিতির মহাসচিব এস এম শফিউজ্জামান বলেন, দেশে যদি ওষুধের কাঁচামাল তৈরি করা হয়, তবে ওষুধের উৎপাদন খরচ কমবে। প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে যদি অল্পদামে মান সম্মত ওষুধ সরবারহ করা যায় তবে নতুন নতুন বাজার সৃষ্টিতে তা সহায়ক হবে।

এদিকে প্রকল্পটি এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের বিশেষ অবদান রাখবে বলে আশা স্থানীয়দের। তাই যত দ্রুত সম্ভব প্রকল্পটির কাজ শেষ করতে দাবি জানিয়েছে তারা।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা জানায়, ইতিমধ্যে ২৭টি প্রতিষ্ঠানকে ৪১টি প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তিনি অচিরেই কাজ হাতে নেয়া হবে বলে জানান এবং স্থানীয় প্রশাসন থেকে তাদেরকে সর্বাত্বক সহযোগিতা করা হবে।

সোনালীনিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.