পাঠক সংখ্যা

  • 8,848 জন

বিভাগ অনুযায়ী…

পুরনো খবর…

জাপান আওয়ামী লীগের জেলহত্যা দিবস পালন

রাহমান মনি: বিশ্ব ইতিহাসে এক কলঙ্কময় অধ্যায় বাংলাদেশের জেলহত্যা। বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম এই ঘৃণিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের দিনটিকে সাধারণ ছুটি দিবস ঘোষণার দাবি জানিয়ে আওয়ামী লীগ জাপান যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে পালন করেছে। জেলহত্যা দিবস পালন উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে বক্তারা এ দাবি জানান।

৫ নভেম্বর ২০১৭, রোববার রাজধানী টোকিওর কিতা সিটি তাকিনোগাওয়া বুনকা সেন্টারে আয়োজিত আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রায়হান কবির ভূঁইয়া সুমন। সভায় দূর-দূরান্ত থেকে নেতাকর্মীরা ছাড়াও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

জাপান আওয়ামী লীগের সভাপতি সালেহ্ মো. আরিফের সভাপতিত্বে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল আয়োজনে মঞ্চে আরও উপস্থিত ছিলেন জাপান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আসলাম হিরা এবং প্রবীণ জাপান প্রবাসী আব্দুর রহমান।

আলোচনা সভার শুরুতেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তার পরিবারের নিহত সদস্যবৃন্দ, জাতীয় চার নেতা এবং ’৭৫-এর কলঙ্কজনক হত্যাকাণ্ডের শিকার সবার আত্মার প্রতি সম্মান জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করার পর তাদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মোল্লা ওহিদুল ইসলাম।

জেলহত্যা দিবসের তাৎপর্যে আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তব্য রাখেন কাজী ইনসানুল হক, কামরুল আহসান জুয়েল, হুসাইন মুনীর, হারুন উর রশিদ, ডা. খলিলুর রহমান, শামীম আহসান জোসেফ, সিরাজুল ইসলাম, কাজী মাকসুদ, মাসুদ পারভেজ ফিরোজ, আব্দুল কুদ্দুস, হাসান মাহবুব, মো. নাজমুল হোসেন রতন, মো. জহিরুল হক, চৌধুরী সাইফুর রহমান লিটন, সুখেন ব্রহ্ম, মো. মোতাহার হোসেন, মুক্তা চৌধুরী, মো. শাহআলম, মো. মাসুদুর রহমান মাসুদ, মোল্লা ওহিদুল ইসলাম, আব্দুর রহমান, খন্দকার আসলাম হিরা, রায়হান কবির, সালেহ্ মো. আরিফ প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, শিশুর জন্য যেমন মায়ের কোল নিরাপদ আশ্রয়স্থল, তেমনি জেলখানাও হচ্ছে আটককৃতদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্র। সেই নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা জাতীয় বীরসন্তানদের অন্যতম চার নেতার হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই। এই হত্যাকাণ্ডে যারা কলকাঠি নেড়েছে তাদের বিচারের সম্মুখীন করে, সঠিক বিচার করে, অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী শাস্তি নিশ্চিতকরণ একমাত্র নিহতদের আত্মার শান্তি এনে দিতে পারেÑ এ ছাড়া অন্য কিছু নয়।

৩ নভেম্বর জাতির জীবনে এক কলঙ্কময় দিন উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, ১৯৭৫ সালের এই দিনে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে বঙ্গবন্ধুর আজীবন রাজনৈতিক সহচর এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দানকারী জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয় রাতের অন্ধকারে। তারা হলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, অর্থমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব.) এম মনসুর আলী এবং খাদ্য ও ত্রাণমন্ত্রী এ এইচ এম কামারুজ্জামান।

তারা বলেন, পৈশাচিক এই হত্যাকাণ্ডের পর পরই (পরদিন, ৪ নভেম্বর) তৎকালীন উপ-কারা মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন) কাজী আব্দুল আউয়াল লালবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। কিন্তু কুচক্রী মহল দীর্ঘ ২১ বছর তা ধামাচাপা দিয়ে রাখে রাঘব বোয়ালরা বেরিয়ে আসার ভয়ে। আর পেছনে ইতিহাসের খলনায়ক হিসেবে কাজ করেন জিয়া। ১৫ আগস্ট ’৭৫ থেকে ক্ষমতা গ্রহণ পর্যন্ত জিয়া ‘ঠাকুর ঘরে কে রে! আমি কলা খাই না’ টাইপের মতো কাজ করেন। জিয়া সরাসরি অংশ না নিলেও পেছনের কলকাঠি নাড়েন এবং সবই তার নখদর্পণে ছিল।

বক্তারা বলেন, দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠন করলে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করার প্রক্রিয়া শুরু করে। ১৯৯৮ সালের ১৫ অক্টোবর ২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয় পুলিশ। সেখানেও জিয়ার নাম আড়ালেই থেকে যায়। জেলহত্যায় মৃত জিয়ার বিচার হলেই জাতীয় চার নেতার আত্মা শান্তি পাবে বলে তারা অভিমত ব্যক্ত করেন।

তারা বলেন, জেলহত্যা দিবসে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অঙ্গীকার- ‘বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার’। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা, মাদার অব হিউম্যানিটি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দেশ আজ বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শিখেছে। চারদিকে আজ উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।

কিন্তু একটি মহল দেশের উন্নয়নে বিঘœ ঘটানোর পাঁয়তারা করছে। দেশের উন্নয়ন চায় না বলেই তারা এ ধরনের ঘৃণ্য কাজে লিপ্ত। কিন্তু দেশের আপামর জনসাধারণ দেশের এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে চায়। তাই দেশের জনগণই তার সঠিক জবাব দেবে। আওয়ামী লীগের কর্মীদের কেবল তা সংগঠিত করতে হবে। উন্নয়নের ফিরিস্তি জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।

তারা আরও বলেন, ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ আর ২১ আগস্ট ২০০৪ একই সূত্রে গাঁথা। বঙ্গবন্ধুর সরলতার সুযোগ নিয়ে ১৫ আগস্ট ’৭৫ তারা সার্থক হলেও ২১ আগস্ট ২০০৪ আল্লাহর অসীম রহমতে জননেত্রী শেখ হাসিনা সেদিন বেঁচে যান। ইতিহাসের খলনায়করাই এই হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিল।

বক্তারা বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শিতা এবং সঠিক পদক্ষেপে, সঠিক সময়ে যখন রোহিঙ্গা সমস্যা একটি সমাধানের পথ খুঁজে পাচ্ছিল এবং আন্তর্জাতিক মহল যখন শেখ হাসিনার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিল তখনই কুচক্রী মহল আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা একজন শাসক, একজন নেতা, একজন মা হিসেবে যখন পরিচিত হয়ে উঠেছেন আন্তর্জাতিক মহলে, কুচক্রী মহল তখনও তা সহ্য করতে পারছে না। তাই, ত্রাণ দেয়ার নাম করে তারা অরাজকতার সৃষ্টির মাধ্যমে ষড়যন্ত্র করে দেশকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করছেন। তাদের ওইসব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আওয়ামী কর্মীদের সজাগ থাকতে হবে।

একতাবদ্ধ থেকে সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর হাতকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। প্রবাসীদেরও এগিয়ে আসতে হবে। নেতৃত্বের ভার জাপান প্রবাসীদের দিতে হবে। সবকিছুতে যেমন জাপান প্রবাসীরা অগ্রগামী, এক্ষেত্রেও তাই। আমরা প্রস্তুত রয়েছি।

সভায় জাতীয় চার নেতা হত্যার এই দিনটিকে জাতীয় সাধারণ ছুটি দাবি করে বক্তারা বলেন, কাকতালীয়ভাবে ৩ নভেম্বর জাপানে সাধারণ ছুটির দিন। এই দিন জাপানে জাতীয় সংস্কৃতি দিবস। বাংলাদেশে তো অনেক ছুটি থাকে। তার সঙ্গে না হয় আরেকটি দিবস যোগ হবে। এতে করে জাতীয় নেতাদের শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সঠিক ইতিহাস জানতে পারবে এবং কিছুটা হলেও দায়মুক্তি পাবে জাতি।

rahmanmoni@gmail.com

সাপ্তাহিক

Leave a Reply

You can use these HTML tags

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

  

  

  

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.