জাপানে উত্তরণ কালচারাল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

হাসিনা বেগম রেখা :  জাপানপ্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম সাংস্কৃতিক সংগঠন উত্তরণ বাংলাদেশ কালচারাল গ্রুপ তাদের ২৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করেছে। জাপানের মতো ব্যস্ততম দেশে বাংলাদেশের একটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের ২৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন নিঃসন্দেহে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। সেই গৌরবের কাজটি সংগঠনটি নিয়মিতভাবেই পালন করে যাচ্ছে ও জাপানিদের কাছে বাংলাদেশের সংস্কৃতি তুলে ধরছে।

গত রোববার (৩ ডিসেম্বর) রাজধানী টোকিওর ইতাবাশি সিটির ইতাবাশি কুরিতসু কাইকানের শো হলে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন উপলক্ষে এক সাংস্কৃতিক আয়োজন কো হয়। বের করা হয় উত্তরণ ’২৯ নামে একটি স্মরণিকা।

সমবেত কণ্ঠে উদ্বোধনী সংগীত

অনুষ্ঠানের শুরুতে গত এক বছরে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের খ্যাতিমানদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানানো হয়। শ্রদ্ধা জানানো হয় প্রয়াত গীতিকার নজরুল ইসলাম বাবু, শিল্পী আবদুল জব্বার, নায়করাজ রাজ্জাক, শিল্পী আব্দুর রউফ, শিল্পী বারী সিদ্দিকী ও সদ্যপ্রয়াত ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হকের প্রতি। দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করে তাঁদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করা হয়।

আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা। বিশেষ অতিথি ছিলেন এশিয়ান পিপলস ফ্রেন্ডশিপ সোসসাইটির প্রতিষ্ঠাতা কাতসুও ইয়শিনারি।

বাঁশিতে সুর তুলছেন ইমতিয়াজ আহমেদ

নিয়াজ আহমেদ জুয়েলের উপস্থাপনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন শরাফুল ইসলাম, কাতসুও ইয়শিনারি, রাবাব ফাতিমা ও মোহাম্মেদ নাজিম উদ্দিন প্রমুখ।

কাতসুও ইয়শিনারি শুভেচ্ছা বক্তব্য দিচ্ছেন

শুভেচ্ছা বক্তব্যে রাবাব ফাতিমা বলেন, বিদেশের মাটিতে নানা ব্যস্ততা ও প্রতিকূলতা সত্ত্বেও উত্তরণ বাংলাদেশ কালচারাল গ্রুপ যেভাবে দেশীয় সংস্কৃতি তুলে ধরছে তাতে আমি সত্যিই গর্ব বোধ করি। আমি ব্যক্তিগতভাবে ও দূতাবাসের পক্ষ থেকে সংগঠনের সকলকে অভিনন্দন জানাই। আমি আশা করি উত্তরণ তাদের এই প্রয়াস অব্যাহত রাখবে।

কাতসুও ইয়িশিনারি বলেন, বাংলাদেশিদের সংস্কৃতিচর্চা সত্যি প্রশংসনীয়। উত্তরণের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই আমি জড়িত আছি তাদের সঙ্গে। আমি বাংলাদেশ ও বাংলাদেশিদের ভালোবাসি। আপনাদের সঙ্গে থাকতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করি।

নৃত্য পরিবেশনায় শিশুশিল্পী নাসরা

শুভেচ্ছা বক্তব্য শেষ হলে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শুরু হয় ১৯৪৭ সালের দেশ ভাগের ইতিহাস বিষয়ক গান দিয়ে। এরপর ধারাবাহিকভাবে বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, দেশমাতার জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের অকাতরে জীবন দান, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সন্তানের জন্য মায়ের হাহাকার, অনন্ত অপেক্ষা সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয় নাটিকার মাধ্যমে।

বিজয়ের মাসে মঞ্চ আলোকিত করে সব শিল্পীরা লাল-সবুজ পোশাকে সজ্জিত হয়ে সমবেত কণ্ঠে ‘এ সবুজ দেশ আমার’ উদ্বোধনী গান পরিবেশন করেন।
প্রবাস প্রজন্ম জাপান সম্মাননাপ্রাপ্ত আলোকিত সংগীত শিল্পী, গীতিকার, সুরকার ও বাঁশিবাদক বারী সিদ্দিকির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তার জনপ্রিয় সংগীত ‘শুয়া চান পাখি’ গানটির সুর বাঁশিতে তোলেন ইমতিয়াজ আহমেদ বুলবুল।

শিশুশিল্পী রিভুর কণ্ঠে জাপানিজ গান

এরপর উত্তরণের নিয়মিত শিল্পীরা বিভিন্ন জনপ্রিয় গান পরিবেশন করে দর্শক মাতিয়ে রাখে।শিশু শিল্পী শব্দ, রিভু দত্ত কচি কণ্ঠে সুন্দর গান গেয়ে প্রতিটি দর্শকের নজর কেড়েছে। এ ছাড়া শিশু শিল্পী নাসরা ও শ্রেয়ার নাচও বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে।

দলনেতা নাজিমের সংগীত পরিবেশনা

সবশেষে দলীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে উত্তরণ বাংলাদেশ কালচারাল গ্রুপ তাদের ২৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী সফলভাবে সমাপ্তি টানতে সক্ষম হয়।
দলীয় সংগীত পরিবেশনা শেষ হলে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।
নিয়াজ আহমেদ ও মৌটুসি দত্ত যৌথভাবে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।

রকস্টার শব্দর কণ্ঠে ব্যান্ডের গান

হাসিনা বেগম রেখা: টোকিও, জাপান।

প্রথম আলো

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.