মুল সাইটে যাওয়ার জন্য ক্লিক করুন

পাঠক সংখ্যা

  • 10,156 জন

বিভাগ অনুযায়ী…

পুরনো খবর…

জীবন যুদ্ধ : হার মানেনি কামারখাড়ার শারীরিক প্রতিবন্ধী ইসলাম

মোজাম্মেল হোসেন সজল: মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার কামারখাড়া গ্রামের ইসলাম মাল জন্মগত শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়েও দৃঢ় মনোবল আর উদ্দীপনা নিয়ে জীবনযুদ্ধে জয়ী হতে চলেছেন। অভার আর নানা প্রতিবন্ধতা পেছনে ফেলে সবার সহযোগিতা নিয়ে ইসলাম মাল আজ উচ্চ শিক্ষার দ্বারপ্রান্তে। স্বপ্ন দেখেন ব্যাংকার হওয়ার। দরিদ্র পরিবারের এই প্রতিবন্ধী ইসলাম মাল এবার এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ব্যবস্থাপনা বিভাগের অনার্সে ভর্তি হয়েছে। জেলা শিক্ষা অফিসার ও কলেজের শিক্ষকরাও তার পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার কামারখাড়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা। এক সময় কৃষি কাজ করে পুরো সংসার সামাল দিতেন। বর্তমানে বয়সের ভারে ন্যূজ। ইসলাম, আসলাম, ইউনুস নামের মেয়ের ঘরের তিন নাতিকে ছোট বেলা থেকেই লালন-পালন করে লেখাপড়া করাচ্ছেন। এরমধ্যে ইসলাম জন্মগতভাবেই শারীরিক প্রতিবন্ধী।

ইসলাম মালের বাবা গোলাম হোসেন তার ভাইয়ের দোকানে কাজ করেন। অভাবের সংসার হওয়ায় আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা জন্মের পরই তিন নাতিকে তার বাড়িতে নিয়ে আসেন। এরই মধ্যে গত ৮-৯ বছর ধরে সংসারের হাল ধরেন ইসলামের দুই প্রবাসী মামা আক্তার হোসেন ও মুক্তার হোসেন। তিনভাগিনার লেখাপড়াসহ গোটা পরিবারের দায়িত্ব পলন করছেন মালয়েশিয়া প্রবাসী আক্তার হোসেন ও সিঙ্গাপুর প্রবাসী মুক্তার হোসেন। নিজেদের স্ত্রী-সন্তান, বৃদ্ধ মা-বাবাসহ বোনদেরও সহযোগিতা করছেন ওই দুই প্রবাসী। প্রতিবন্ধী হওয়ায় লেখাপড়ায় নানা প্রতিবন্ধকতা এলেও ধমে যায়নি ইসলাম।

দিঘীরপাড় এসি ইন্সটিটিউশন থেকে কমার্স বিভাগে এ মাইনাস, সেরাজাবাদ রানা শফিউল্লাহ কলেজ থেকে একই বিভাগে বি গ্রেট পেয়ে এই বছর উত্তীর্ণ হয়েছে ইসলাম। এরপর মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মিরকাদিম পৌরসভার মিরকাদিম হাজী আমজাদ আলী ডিগ্রি কলেজে ব্যবস্থাপনা বিভাগে অনার্স-এ ভর্তি হয়েছে ইসলাম। বাড়ি থেকে কলেজের দুরত্ব প্রায় ১৫ কিলোমিটার। রিক্সা ও অটোরিকশায় কলেজে যাতায়াত করতে হয় তাকে।

ইসলামের বড় ভাই আসলাম হোসেন ২০১৪ সালে ঢাকা বিজ্ঞান কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে ঢাকার একটি কোচিং সেন্টারে ইংরেজী ভাষার উপর প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। তিনি অষ্ট্রেলিয়া বা কানাডায় উচ্চ শিক্ষা লাভের স্বপ্ন দেখছেন। ছোট ভাই মো. ইউনুস স্থানীয় স্বর্ণগ্রাম আরএন উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র।

ইসলাম মাল বললেন, প্রতিবন্ধী হলেও লেখাপড়ায় তার দৃঢ় মনোবল রয়েছে। সবার সহযোগিতা থাকলে তিনি আরও এগিয়ে যেতে চান। ধীরে ধীরে এগিয়ে যাওয়ার পেছনে তার মামাদের অবদানকে স্মরণ করেন তিনি।

ইসলামের নানা আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা ও বড় ভাই আসলাম হোসেন জানান, ইসলাম মাল জন্মগত শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও লেখাপড়ার দিক দিয়ে তার কোনো সমস্যা নেই এবং পড়াশুনার দিকটা ঠিক রাখছে।

সেরাজাবাদ রানা শফিউল্লাহ কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম হাছনায়েন জানালেন, তার কলেজ থেকে ইসলাম ভালো রেজাল্ট নিয়ে বের হয়েছে। প্রতিবন্ধী হলেও উৎসাহ, উদ্দীপনা ও প্রেরণা থাকলে জীবনযুদ্ধে জয়লাভ করতে বেগ পেতে হয় না-ইসলাম তার নমুনা।

মিরকাদিম হাজী আমজাদ আলী ডিগ্রি কলেজের ব্যবস্থা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান শ্যামল চন্দ্র সাহা ও প্রভাষক আশরাফউদ্দিন সরকার ইসলামকে নানা সহযোগিতা ও তার পাশের থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জানালেন, চতুর্থবর্ষ পর্যন্ত বাৎসরিক বইগুলো বিনা পয়সায় দেয়া হবে, তার কোনো বই কিনতে হবে না। এছাড়া, ব্যবস্থা বিভাগে যতোধরণের চার্জ আছে, তার পুরোটাই মওকুফ করা হবে। ভর্তিও সময়ও ইসলামের কাছ থেকে ভর্তি ফি একেবারে কমিয়ে নিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

জেলা শিক্ষা অফিসার মো. ফরিদুল ইসলাম জানান, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে পিছিয়ে পড়া অর্থাৎ অটিজম বা প্রতিবন্ধিদের মুল স্কিমে নিয়ে আসা। ইসলাম অনেকটা বাঁধা-বিপত্তি অতিক্রম করে উচ্চ শিক্ষার দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছেছে।সুন্দরভাবে লেখাপড়া শেষ করে প্রতিবন্ধি ইসলাম মাল ভালো একটা জায়গায় এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠিকে একটা সম্মানজনক স্থানে দেখতে চান বলে এই শিক্ষা কর্মকর্তা জানালেন।

পিবিডি

Leave a Reply

You can use these HTML tags

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

  

  

  

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.