শিক্ষার্থীদের হাজি মকবুলের হুমকি, গালাগালি

নিজের মেডিকেল কলেজ ঢাকার এম এইচ শমরিতা মেডিকেল কলেজের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি গালাগালি করেছেন হাজি এম মকবুল হোসেন।

আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ মকবুল তেজগাঁওয়ের শমরিতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চেয়ারম্যান।

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা বৃদ্ধি ও বাড়তি ফি আদায় বন্ধসহ কয়েকটি দাবিতে বিক্ষোভ করছিল শিক্ষার্থীরা।

রোববার সকালে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা এলাকার লাভ রোডে কলেজের সামনে বসে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সেখানে যান মকবুল হোসেন; এরপর তার আচরণের ভিডিও ইতোমধ্যে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে।

হাজি এম মকবুল হোসেন হাজি এম মকবুল হোসেন ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষোভরতদের সামনে এসে তার পাশে দাঁড়ানো পক্ষের একজনের গায়ে হাত দিয়ে সব শিক্ষার্থীকে বসতে বলেন তিনি।

এরপর শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মকবুল বলেন, “বসে পড় বসে পড়, সব বইসা পড়। এমবিবিএস পড়তে আসছ, অ্যা? পাবনা জান না বন্ধ করে দিছে, কী বাল হইছে অথোরিটির, প্রিন্সিপালের কী হইছে?”

এ সময় পাশে দাঁড়ানো পুলিশ সদস্যদের দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, “পাবনা মেডিকেল কলেজ বুঝছেন টোটালি বন্ধ করে দিছে।”

“কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ টোটালি বন্ধ করে দিছে। ওই প্রিন্সিপালের কী হবে, বাল হইছে? তোমার এক বছর মিস হবে। তোমাকে এক্সপেলড করা হবে।”

কলেজের পাঁচশ শিক্ষার্থীর মধ্যে এখানে কয়জন উপস্থিত আছে সে প্রশ্ন তোলেন মকবুল। তখন এক শিক্ষার্থী বলেন, অন্য শিক্ষার্থীরা বাসায় থাকলেও এই আন্দোলনের সঙ্গে তারা একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।

তখন হাজি মকবুল বলেন, “আর আমার সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছে সরকার। বলে, যারা ইতরামি করবে, খুলি উড়াই দিবে। ওই যে পুলিশ আছে, যারা ইতরামি করবে খুলি উড়াই দিবে।”
এক শিক্ষার্থী কলেজের মালিকের এই কথার প্রতিবাদ করলে তিনি বলেন, “ওই বেটা ওর সাহস কত! ওর (আরেকজনকে দেখিয়ে) সাহস কত! কত বড় বেয়াদব!”

এই পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের চলে যেতে বলেন মকবুল হোসেন। কয়েকজন অন্যদের অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানালে একজনকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “আরে বেটা তুই তোর কথা চিন্তা কর।”

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ থেকে সরাতে ব্যর্থ হয়ে সেখান থেকে চলে যান মকবুল হোসেন। পরে বেলা ২টার দিকে বেরিয়ে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

হুমকি-গালাগাল দিয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ থেকে সরাতে ব্যর্থ হয়ে দুপুরে তাদের দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণা দেন হাজি মকবুল হুমকি-গালাগাল দিয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ থেকে সরাতে ব্যর্থ হয়ে দুপুরে তাদের দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণা দেন হাজি মকবুল ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন হাজি মকবুল। শমরিতা মেডিকেল কলেজ ছাড়াও এক ডজনের মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করেছেন তিনি। ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, সিটি ইউনিভার্সিটি, আলহাজ মকবুল হোসেন ইউনিভার্সিটি কলেজ, মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, মোহাম্মদপুর ল কলেজসহ আরও কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে তার।
সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, পূরবী জেনারেল ইন্সুরেন্সসহ বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেরও মালিক হাজি মকবুল হোসেন।

শমরিতায় বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের একজন ফয়সাল আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, লিমন মণ্ডল নামে একজন ইন্টার্ন চিকিৎসকের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়েছিল। পরে তার সঙ্গে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বাকি সাত দফা দাবি যুক্ত হয়।

তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মাসিক ভাতা সর্বনিম্ন ১৫ হাজার টাকা করা, বছর বছর কলেজের বেতন না বাড়ানো, চূড়ান্ত পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলে বাড়তি অর্থ আদায় না করা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নির্ধারিত ফিসের বাইরে অতিরিক্ত ফি আদায় না করা।
“কর্তৃপক্ষ এসব দাবি মেনে নেওয়ায় আমরা বিক্ষোভ শেষ করেছি,” বলেন ফয়সাল।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান মকবুল হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হয়েছে। তাদের সব দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে।”

ঘটনা নিয়ে তিনি বলেন, “গত ১১ জানুয়ারি প্রথম বর্ষের ভারতীয় ছাত্র শঙ্কর রায় ইন্টার্ন ছাত্র লিমন মণ্ডলকে সালাম না দেওয়ায় ‘সিনিয়রদের সন্মান করিস না’ বলে মারধর করে এবং জীবননাশের হুমকি দেয়। এই ঘটনা ওই ছাত্র ভারতীয় দূতাবাসকে অবহিত করার পাশাপাশি শিল্পাঞ্চল থানায় জিডি করে।

“এই ঘটনা জানার পর কলেজ কর্তৃপক্ষ আলোচনায় বসে লিমন মণ্ডলকে সাময়িক বরখাস্ত এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। লিমনের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিই ছিল তদের (শিক্ষার্থী) মূল দাবি। কিন্তু পরে অন্য সব দাবি যুক্ত করা হয়, যা রোববারের আগে আমাদের কখনও জানায়নি। এরপরেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার স্বার্থেই তাদের দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে।”

বিডিনিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.