দুর্যোগ মোকাবেলায় টোকিওতে বিদেশি নাগরিকদের প্রশিক্ষণ

টোকিও মেট্রোপলিটন সরকার ভূমিকম্প এবং এর পরবর্তী দুর্যোগ মোকাবেলায় টোকিওতে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকদের জন্য এক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে।

গত ২৫ জানুয়ারি বুধবার টোকিওর সেতা গায়াওয়ার্ড এর কোমাজাওয়া অলিম্পিক স্টেডিয়ামে বিপর্যয় দূরীকরণে প্রবাসীদের উপলব্ধি এবং প্রস্তুতিমূলক প্রশিক্ষণ শিক্ষা শীর্ষক সেমিনার-এ ৮৯টি দেশের মোট ৩৩৬ জন বিদেশি অংশ নিয়ে ভূমিকম্প এবং পরবর্তী দুর্যোগ মোকাবেলায় বাস্তব অভিজ্ঞতার প্রশিক্ষণ নিতে সক্ষম হন। ৪০টি দেশে ৪৫ জন কূটনৈতিক এবং রাষ্ট্রদূত অংশ নিয়ে থাকেন। উল্লেখযোগ্য দেশগুলোর মধ্যে আমেরিকা, কানাডা, ব্রিটেন, ইতালি, অস্ট্রেলিয়া, জার্মান এশিয়ার চীন, কোরিয়া, ভিয়েতনাম ফিলিপিন প্রধান। এছাড়াও রাশিয়া, উজবেকিস্তান, ভারত, আফ্রিকার দেশগুলো থেকেও কূটনীতিকরা প্রশিক্ষণে অংশ নেন।

২৫ জানুয়ারির আয়োজনটি ছিল ১২তম। ২০০৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো টোকিওতে বিদেশি নাগরিকদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করে টোকিও মেট্রোপলিটন সরকার। সেই থেকে প্রতিবছর তারা প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। এবারের আয়োজনে ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ৮৩ জন, জাপানি ভাষা শিক্ষা স্কুলগুলো থেকে ৩৭ জন, টোকিওতে বসবাসরত ৫৭ জন বিদেশি নাগরিকসহ মোট ৩৩৬ জন বিদেশি নাগরিক প্রশিক্ষণে অংশ নেয়। এছাড়াও ইংলিশ, চায়নিজ, স্পেনিস এবং কোরিয়ান ভাষায় দোভাষী হিসেবে ৬৭ জন ভলান্টিয়ার প্রশিক্ষণে সহযোগিতা করে থাকেন। টোকিও মেট্রোপলিটন সরকারের দৈনন্দিন নাগরিক জীবন নিরাপত্তা প্রধান লিওমি ফিয়োহিতো স্বাগতিক ও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। তিনি বিদেশি নাগরিকদের কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, বর্তমান টোকিওর মোট জনসংখ্যা ৭% বিদেশি নাগরিক। আগামী ২০২০ টোকিও অলিম্পিক ও প্যারা অলিম্পিককে কেন্দ্র করে এ সংখ্যা আরো বাড়বে। এছাড়াও জাপানের প্রয়োজনে বিদেশি নাগরিকদের জাপানে বসবাসের সংখ্যা এমন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে টোকিওতে এক কোটি ৩০ লাখ লোক বসবাস করছেন। এছাড়া প্রতিদিন বিভিন্ন প্রিফেকচার থেকে বিভিন্ন কাজে আরো প্রায় এক কোটি লোক টোকিওতে প্রতিদিন যাতায়াত করে থাকেন। এই দুই কোটি লোকের মধ্যে বিদেশি নাগরিকদের সংখ্যা নেয়ায়েতই কম হয়।

তিনি ছিলেন আমরা এরই মধ্যে বিভিন্ন বড় বড় ভূমিকম্প এবং পরবর্তী দুর্যোগ মোকাবেলার বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। ১৯২৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর ১৯৯৫ সালের ভূমিকম্প এবং সর্বমোট ২০১১ সালের ভূমিকম্পের মতো বড় ধরনের ভূমিকম্প এবং পরবর্তী বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছি গত ৯০ বছরেরও কম ব্যবধানে।

প্রাকৃতিক বিপর্যয় আসবে। এটাকে রোধ করা সম্ভব নয়। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমানো সম্ভব। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে, নিজের সচেতনতা বৃদ্ধি করে এবং সমন্বিত উদ্যোগই পারে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি রোধ করতে। সম্পূর্ণটা রোধ করা সম্ভব না হলেও অন্তত ৭০% কমিয়ে আনা সম্ভব।

প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে তিনি বলেন, জাপানে ঘঞঞ ফড়পড়সড়, কউউও, ঝড়ভঃ নধহশ এবং ণ! সড়নরষব থেকে ইংলিশ ভাষায় ভূমিকম্পের পূর্বে সতর্ক বার্তা দেয়া হয়ে থাকে। এসব বার্তাকে গুরুত্বসহকারে নিতে হবে। ভুল ম্যাসেজ গেলে সংশোধনের পথ খোলা থাকে। কিন্তু ম্যাসেজ পাওয়ার পর গুরুত্ব না দিয়ে ভুল করলে অর্থাৎ ভুল ভেবে গুরুত্ব না দিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হলে তখন আর সংশোধনের পথ খোলা থাকে না। তাই প্রথমেই প্রয়োজন আপনার মোবাইল ফোনটির রেজিস্ট্রেশন করানো। যেনো খুব সহজেই ম্যাসেজ পাওয়া যায়। এরপর ভূমিকম্প আসলে যদি তাৎক্ষণিক নিরাপদ স্থানে যাওয়া সম্ভব না হয় তাহলে ঘরের ভিতর নিরাপদ স্থান নির্ধারণ প্রথম কাজ। দেয়ালের কাছে দাঁড়ানো বা টেবিলের নিচে মাথা লুকানো এবং ভূমিকম্প শেষ না হওয়া পর্যন্ত নড়াচড়া না করা বুদ্ধিমানের কাজ। মনে রাখতে হবে শরীর বা হাত-জখম হলে সারানো যতটা সহজ মাথায় আঘাত লাগলে ততটা সহজ নয়। অনেক সময় মাথায় আঘাত জীবনটা পর্যন্ত চলে যেতে পারে।

এরপর সেতাগায়া ওয়ার্ড অগ্নিনির্বাপণ বিভাগের প্রধান ওজাওয়া হিরোইয়ুকি তার বক্তব্যে বলেন, দুর্ঘটনা কখনো বলে কয়ে আসে না। আসলে কিছু করার থাকে না। তবে মোকাবিলার জন্য পূর্বপ্রস্তুতি দরকার, নিজের জন্য, অন্যের জন্য এবং দেশের জন্য। আর বড় ধরনের দুর্যোগ হবে না এমনটি ভেবে বসে থাকলে হবে না। যদি আসে এমনটি ভাবা উচিত। অর্থাৎ হলে তা প্রতিরোধে ও উত্তরণে কী কী করতে হবে সে সম্পর্কে কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। তাই আমাদের এ উদ্যোগ।

টোকিও হচ্ছে জাপানের রাজনীতি এবং বাণিজ্যিক কেন্দ্রবিন্দু। টোকিওকে ঘিরে জাপানের অর্থনীতি সচল থাকে। বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান এবং যোগাযোগ ব্যবহার প্রাণকেন্দ্র। অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ এবং ২৩টি ওয়ার্ড এ বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা ছিল ৫,১০,০০০। তাই আমরা বিদেশি নাগরিকদেরও ভূমিকম্প এবং ভূমিকম্প পরবর্তী দুর্ঘটনা মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার জন্য অনুশীলন প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছি।

তিনি বলেন, জাপান ফায়ার ব্রিগেড যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। বিদেশি বন্ধুদের সহযোগিতা পেলে কাজ করা আমাদের জন্য অনেকটাই সহজ হবে। আপনারা নিশ্চয়ই টোকিওতে কিছু ক্যানেল দেখে থাকেন। স্বাভাবিক চোখে দেখলে এগুলোকে অনেকটাই অপ্রয়োজনীয় মনে হতে পারে। কিন্তু এগুলো পরিকল্পিতভাবেই করা হয়েছে। অতিবৃষ্টির ফলে টোকিওর পানি যেন সহজে নিষ্কাশন করা যায় সেই জন্য এই ব্যবস্থা। অনেক সময় বৃষ্টির পানি উপচে পড়ে। এখন টোকিওর প্রায় ৫ লাখ থেকে ১০ লাখ পর্যন্ত ম্যানহোলের ঢাকনা খুলে দেয়া হয়। দ্রুত পানি সরে যাবার ব্যবস্থা নেয়া হয়। তাই সাবধান থাকবেন যেন পানির সঙ্গে মিলে না যান এবং ঘোলা ম্যানহলে যেন না পড়ে যান।

বক্তব্য পর্ব শেষ হলে সবাইকে A, B, C, D, E এবং F মোট ৬টি ভাগে ভাগ করে অনুশীলনের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। তার মধ্যে ঋ গ্রুপ ছিল কেবল কূটনীতিকদের নিয়ে।

প্রশিক্ষকরা ভূমিকম্প হওয়াকালীন পরবর্তী সময় কীভাবে নিজেকে আত্মরক্ষা করতে হবে সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। তারা বলেন, ভূমিকম্প হলে প্রথমেই নিজেকে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে হবে। বড় ধরনের ভূমিকম্পের পর ধ্বংস পরিমাণ বেশি হলে নিজে নিরাপদ হলে তখন পাশের জনের খোঁজ নিতে হবে। আবে নিজ এলাকার মানুষজনের খোঁজ নিতে হবে। অনেক সময় একার পক্ষে সিদ্ধান্ত নিতে কষ্ট হয়ে যায় সেই ক্ষেত্রে সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। প্রয়োজনে জরুরি বিভাগে ফোন করে সাহায্য চাইতে হবে। জরুরি সেবা পেতে বিলম্ব হলে আহতের অবস্থা বুঝে প্রয়োজন বোধে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে হবে। সে ক্ষেত্রে প্রথমেই আহত ব্যক্তিকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে তার শ্বাস-নিঃশ্বাস (যদি সে অজ্ঞান হয়ে যায়) পরীক্ষা করে তার পর অন্যদের ডাকতে হবে, তার বুকে দুই হাত রেখে প্রথমে ৩০ সেকেন্ডে ৩০ বার পাম্প করতে হবে। এসময় অনেক ভুল করে বুকের বাম অংশে হৃদপিন্ড থাকে মনে করে পাম্প করতে থাকে। ফলে কাজের কাজ কিছুই হয় না। আসলে হৃৎপিণ্ড থাকে বুকের মাঝখানে দুই স্তনের মধ্যবর্তী এলাকার ঠিক ২ ইঞ্চি পরিমাণ উপরে শক্ত হাড় দ্বারা পরিবেষ্টিত। ৩০ বার পাম্প করার পর যদি জ্ঞান ফিরে না আসে তাহলে চোয়াল উঁচু করে মুখের ভিতর বাতাস প্রবেশের ব্যবস্থা নিতে হবে অর্থাৎ হা করিয়ে মুখ দিয়ে বাতাস (ফু) ঢোকাতে হবে। তার পর আবার ৩০ বার পাম্প করতে হবে।

প্রশিক্ষকগণ জরুরি সেবা পেতে বিলম্ব হলে কীভাবে লাঠি এবং কম্বলের মাধ্যমে বেড তৈরি দ্রুত সেবা প্রদান করা যায় তার ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেন।
আশ্রয়কেন্দ্রের সহায়তা নেয়া এবং আশ্রয় কেন্দ্রের নিয়মানুবর্তিতার ওপরও প্রশিক্ষণ দেয়া হয় এই দিন। তারা বলেন আশ্রয়কেন্দ্রের নিয়ম মেনে নাস্তা দেয়া হয়, দুপুর ১২টায় দুপুরের খাবার এবং সন্ধ্যা ৬টায় রাতের খাবার পরিবেশন করা হয়। রাত ৯টা ৩০ মিনিটের সময় সমস্ত আলো নিভিয়ে দেয়া হয়। নিজের উচ্ছিষ্ট এবং নিজের দ্বারা সৃষ্ট আবর্জনা নিজ দায়িত্বে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা, অযথা অন্যের ব্যক্তিগত বিষয়ে নজরদারি থেকে বিরত থাকা- এসব নিয়মগুলি আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা অবস্থায় মেনে চলতে হয়।

এছাড়া খাবার পরিবেশনের অন্যতম শর্ত হচ্ছে, আশ্রয়কেন্দ্রগুলিতে সবাইকে পরিবেশনের জন্য পর্যাপ্ত খাবার নিশ্চিত করা গেলেই খাবার পরিবেশন করা হবে এবং এক্ষেত্রে বয়স্ক, অসুস্থ এবং শিশুদেরকে আগে সুযোগ দিতে হবে।

যেখানে সেখানে মলমূত্র ত্যাগ না করা, নির্দিষ্ট স্থানে ধূমপান করা এবং গৃহপালিত বা পোষাপ্রাণী শোবার স্থানে না এনে নির্দিষ্ট স্থানে রাখা ও আশ্রয় কেন্দ্রে থাকাকালীন সময়ের অন্যতম শর্ত।

প্রশিক্ষকগণ আরো বলেন, বিপর্যয় যে কোনো সময় ঘটতে পারে এগুলো মাথায় রেখে ১১টি প্রয়োজনীয় জিনিস নাগালের কাছে রাখতে হবে। এইগুলো হচ্ছে ১. ফাস্ট এইড বক্স ২. কাগজ কলম ৩. পানি ৪. রেইনকোর্ট ৫. প্লাস্টিক বা পলিথিন ব্যাগ ৬. হাতমোজা ৭. টাওয়েল, গামছা বা কাপড়ের টুকরা ৮. জরুরি খাদ্য বা বেশি দিন রেখে খাওয়া যায় এমন খাদ্য তবে কোনোমতেই তা মেয়াদোত্তীর্ণ নয় ৯. ফ্লাশলাইট বা হেডলাইট ১০. ময়লা সরানোর জন্য ব্যাগ এবং ১১. নিউজ পেপার। কারণ নিউজ পেপারের বহুমুখী ব্যবহার রয়েছে।

এরপর তামাগাওয়া পুলিশ প্রধান ফুকামাচি তাৎসুও প্রশিক্ষা অনুশীলনে সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন বিপর্যয় ঘটলে সবার মধ্যে একটা পানিক ভাব চলে আসে। কিন্তু তখন মাথা ঠাণ্ডা রেখে লক্ষ্য নির্ধারণ করে সামনে এগুনো অনেক সমস্যারই নিজেরাই সমাধান করতে পারা যায়।

টোকিও বড় ধরনের কোনো দুর্যোগ আসলে বিদেশি নাগরিকদের ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলার জন্য অনুরোধ জানিয়ে ফুকামাচি বলেন, টোকিওর বাহির থেকে জরুরি সেবা প্রদানকারী এবং রেডক্রস ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী ছাড়া সাধারণ কোনো ভেহিক্যাল নির্দিষ্ট এলাকায় প্রবেশ করানো যাবে। এই ব্যাপারে সবাইকে অনুরোধ জানানো যাচ্ছে। তিনি সবাইকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবার আহ্বান জানান।

টোকিও মেট্রোপলিটান সরকার আয়োজিত বিপর্যয় রোধ অনুশীলন প্রশিক্ষণে ৪০টি দেশে কূটনীতিক অংশ নিলেও বাংলাদেশের কোনো কূটনীতিক অংশ নিতে দেখা যায়নি। নামের তালিকায়ও দূতাবাসের কোনো নাম ছিল না। তবে এই প্রতিবেদক এবং সি গ্রুপে টোকিও ডিজিটাল কলেজের শিক্ষার্থী রাহমান মো. তৌহিদুর ও আরো একজন বাংলাদেশি (প্রবাসী ব্যবসায়ী)কে পাওয়া যায়। তৌহিদুরের বুকে ও পিঠে ‘বাংলা ভাষা’ লেখাটি দেখে বাংলা ভাষা এবং বাংলাদেশ সম্পর্কে অনেকের কৌতূহল দেখা দেয়। এছাড়া ১৮টি ভাষায় গাইডলাইন থাকলেও বাংলা ভাষায় কোনো গাইডলাইন ছিল না। এর অন্যতম কারণ হতে পারে ১৮টি ভাষার মধ্যে বাংলা ভাষার কোনো স্থান নেই অথবা বাংলাদেশ এখন সবকিছুতে বিশ্বে ‘ রোল মডেল’ তাই এসব ছোটখাটো ব্যাপারে মাথাব্যথা নেই।
rahmanmoni@gmail.com

সাপ্তাহিক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.